শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:১৫ পিএম, ২০২৬-১০-১৯
নারীশক্তির আরাধনা এবং দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে কুমারীর পূজার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা অষ্টমী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরের রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে তিন কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী আয়োজিত এ পূজায় কুমারীর মধ্যে সৃষ্টির আদি শক্তির প্রতীকী উপস্থিতি কল্পনা করে ভক্তরা প্রণাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পূজাকে ঘিরে মন্দিরে ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শাস্ত্রীয় আচার অনুসরণ করে কুমারীদের দেবীরূপে আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়। ভক্তরা তাঁদের মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ কল্পনা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেন।
এবারের কুমারী পূজায় অংশ নেয় ছয় বছর বয়সী রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, ১১ বছর বয়সী ঋত্বিকা দাশ ও সাত বছর বয়সী অদিশ্রী কর। রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা সেন্ট স্কলাস্টিকা'স কিন্ডার গার্টেন স্কুলের কেজির ছাত্রী।
তার বাবা রাজীব দত্ত এবং মা জুঁই চৌধুরী। ঋত্বিকা দাশ সেন্ট জন'স গ্রামার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা রনি দাশ এবং মা রুমা সেন গুপ্ত। অদিশ্রী কর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা অভিজিত কর এবং মা মৌরী কর।
মন্দিরের অধ্যক্ষ ও চার সম্প্রদায়ের মহন্ত শ্রীল ১০৮ শ্যামানন্দ দাশ বাবাজি জানান, তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী অনধিক ১৬ বছর বয়সী এবং ঋতুমতী হয়নি এমন কুমারী মেয়েকে পূজার বিধান রয়েছে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসরণ করেই এবার তিন কুমারীকে পূজা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমারী পূজায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যেকোনো বর্ণের কুমারী পূজনীয়। কুমারী পূজার দার্শনিক তাৎপর্য হলো পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় সাধিত হচ্ছে, তা বীজাকারে কুমারীর মধ্যে নিহিত রয়েছে বলে ধর্মীয় দর্শনে বিবেচনা করা হয়।
রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরের পুরোহিত জুয়েল দেবনাথ বলেন, মহা অষ্টমী দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এ দিনের কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা নারীর মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশকে শ্রদ্ধা করেন। কুমারী পূজা আমাদের শেখায়, নারীকে শুধু দেবীর প্রতীক হিসেবে নয়, বাস্তব জীবনেও যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সবার মধ্যে শক্তি, পবিত্রতা ও কল্যাণের প্রকাশ উপলব্ধি করাই এ পূজার অন্যতম শিক্ষা।
কুমারী পূজার পাশাপাশি মহা অষ্টমীতে মন্দিরে মন্দিরে দেবীর বিহিত পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা ফুল, বেলপাতা ও অর্ঘ্য নিবেদন করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। অনেকেই উপবাস ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।
মহা অষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সন্ধিপূজা। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিটের সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময় দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। সন্ধিপূজায় ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন ও ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।
পূজার আনুষ্ঠানিকতায় দেবীকে অন্নভোগ, খিচুড়ি, পায়েসসহ বিভিন্ন পদ নিবেদন করা হয়। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় আরতি, ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি ও ধুনুচি নাচের মধ্য দিয়ে মণ্ডপগুলোতে দুর্গোৎসবের আনন্দ আরও ছড়িয়ে পড়ে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা,...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে দেওয়ার চুক্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস এবার কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি সà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, লাà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited