শিরোনাম
ঢাকা অফিস : | ০৮:১১ পিএম, ২০২৪-০৯-১১
টেকনাফের সাবেক এমপি মাদককারবারি বদি সাম্রাজ্যের পতনের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। একে একে গ্রেফতার হচ্ছে তার সাম্রাজ্যের বিস্তারের যোদ্ধারা।সর্বশেষ গত রোববার গ্রেফতার হয়েছেন আবদুর রহমান বদির ভাতিজা শাহজাহান চেয়ারম্যান। তার আগে বদি ও তার ক্যাশিয়ার খ্যাত সালাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করে র্যাব।
জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওমরা যাত্রীর ছদ্মবেশে দেশ থেকে পালাচ্ছিলেন বদির ক্যাশিয়ার সালাহ উদ্দিন। সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা একটি বিমান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তার আগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে রোববার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বদির ভাতিজা শাহজাহান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।র্যাব বলছে, শাহজাহান মিয়া তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মাদক পাচারের অনেকগুলো মামলা রয়েছে। তিনি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুর রহমান বদির ভাতিজা।
সম্প্রতি টেকনাফে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা করার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে সাবেক এমপিআবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন,বদির দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যের এবার পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না। একে একে তার নিকটজনরা গ্রেফতার হয়ে যাচ্ছেন। আরো কে কে গ্রেফতার হয় তার ঠিক নেই। রাজনৈতিক পট পরির্বতনে এবারেই বদি পরিবার সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখো হতে যাচ্ছেন। কারো কারো মতে, অন্তর্বতি সরকার কখন নির্বাচন দেয় তার কোন ঠিক নেই। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেবে কি না তাও কোন ঠিক নেই। আওয়ামী লীগ আধো রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। আবার কেউ কেউ ভিন্ন মত ও পোষন করেন। তাদের মতে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আবদুর রহমান বদির পরিবারের যে কেউ নির্বাচন করতে পারলে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তার প্রচুর টাকা। সাধারণ মানুষ টাকা পেলে ভোট তাকেই দেবে। বিগত নির্বাচন গুলোতে তাই দেখা গেছে। তবু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বদি সে সুযোগ পাবে না বলেই মন্তব্য করেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে প্রথম বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বদি। দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালেও দলীয় প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে মামলা সংক্রান্ত কারণে তাকে দল মনোনয়ন না দিলেও তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেন। তিনি সেবার প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির স্ত্রীশাহীন আক্তার । এ নিয়ে টানা চারবার কক্সবাজারের এ আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছেন শাহীন-বদি দম্পতি।
৭ জানুয়ারি ২০২৪ এ অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে শাহীন আক্তার ১ লাখ ২২ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭০৭ ভোট।
তার পরিবর্তে তারই স্ত্রী শাহীন আক্তারকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে শাহীন আক্তার প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পেয়ে শাহীন আকতার দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে টানা চারবার বদি পরিবারে সংসদ সদস্যপদ ধরে রাখতে সক্ষম হন বদি-শাহিন দম্পতি।
সীমান্তের ইয়াবা কারবারসহ নানা কারণে অকারণে দেশজুড়ে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সমালোচনা রয়েছে ব্যাপক।
এরপরও সবকিছু পেছনে ফেলে তিনি এবং স্ত্রী শাহীন আক্তার দুই মেয়াদ করে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশরকে নিয়ে ভোটের মাঠে কম মাতামাতি হয়নি। অনেকেই আসনটি বদি পরিবারের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও করেছিলেন। তবে শেষমেষ বদির স্ত্রীই জিতেছেন বড়সড় ব্যবধানে।
বদি বা তার স্ত্রীর ধারাবাহিক জয়ের ব্যাপারে টেকনাফের বাসিন্দা মোঃ মাসুদ বলেন, অনেকের কাছে নানান দোষে দোষী বদি সাধারণ নি¤œ-মধ্যবর্তী পরিবারের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক কারণে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব থাকলেও সাধারণ মানুষকে তিনি ভালো পাত্তা দেন। এ ছাড়া তিনি কারো ব্যক্তিগত সমস্যায়, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করেন। এসব কারণে সাধারণ ভোটাররা বদিকে সমর্থন করেন।
নির্বাচনে বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারের জয় প্রসঙ্গে সচেতন ভোটারদের ধারণা, শুধু টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে বদি পতœীর নির্বাচিত হওয়ার কথাটি সঠিক নয়, জয়ের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বামী-স্ত্রী পৃথক মেয়াদে টানা ১৫ বছর সংসদ সদস্য ছিলেন এ আসনটিতে। তারও আগে বদি টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। টেকনাফের স্থানীয় রাজনীতিতে তার বাবা মরহুম এজাহার মিয়া কম্পানি বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় ছিলেন।এ ছাড়া বদির চাচা মোহাম্মদ ইসলাম টেকনাফ পৌরসভার বর্তমান মেয়র। অপরদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারের পরিবার উখিয়া উপজেলার রাজনীতিতে বেশ পরিচিত। শাহীন আক্তারের বাবা নুরুল ইসলাম উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার ভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং রাজাপালং ইউনিয়নের টানা তিন বারের চেয়ারম্যান।
এ হিসেবে টেকনাফে বদির পরিবার এবং উখিয়াতে স্ত্রী শাহীন আক্তারের পরিবার দুই উপজেলায় দুটি শক্তিধর এবং জনপ্রিয় পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাই সংসদ নির্বাচনে বদি পরিবারের সঙ্গে টিকে থাকা অন্য যেকোনো প্রার্থীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ও লাউঞ্জ ভবন, পুরাতন কলা অনুষদ এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ৬ সিটিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পরিবর্তে অ্যাডভোকেট আমি...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্য...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মাহবুবুল মাওলা রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি) : সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল নি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited