শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৪৮ পিএম, ২০২২-০৮-০২
সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের তিন তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও তার ভাই উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ২ আগস্ট মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রতিবন্ধী হোসনে আরা বেগমের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রহিমা বেগম। হোছনে আরা বেগমের একমাত্র কন্যা। তিনি বলেন আমার মা একজন বাক প্রতিবন্ধী। তিনি কথা বলতে পারেন না বিধায় তার পক্ষে আপনাদের সাথে কথা বলতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছি।
আমার মা বাক প্রতিবন্ধি হওয়ার কারণে আমার নানা আতিউল্লাহ প্রকাশ আজিজ উল্লাহ আমার মা হোছনে আরা বেগমকে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার রাস্তা সংলগ্ন মাইটভাঙ্গা মৌজার এ-৩২ ধানের ৫৯৫ নং দাগের বিএস ১৪৬ নং খতিয়ান হতে আগত ২০২১২ নং দাগের ১৯ শতক ভূমি মৌখিকভাবে দান করে সন্তানদের অছিয়ত করে যান যাতে রেজিস্ট্রি করে আমার মাকে এসব সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর আমার নানা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা পিতার অছিয়ত মোতাবেক আমার প্রতিবন্ধি মা হোছনে আরা বেগমকে ০৯/০৯/১৯৮০ইং তারিখে রেজিষ্টি করে দানপত্র করেন। দানপত্রে স্বাক্ষর করেন আমার মামা শাহের উল্লাহ, কামাল উদ্দিন এবং আমার নানি দেলাপ রোজা বেগম, আমার খালা আনোয়ারা বেগম, মোমেনা বেগম ও শামীমা আকার। উক্ত দানপত্রে হাকিমের সম্মুখে স্বাক্ষর দস্তখত করেন তারা। এরপর থেকেই জায়গাটি আমার মায়ের দখলে ছিল।
২০০১ সালে নির্বাচনের পর ওই জমিতে ফসল আনতে গেলে আমার মায়ের চাচাতো ভাই মাজহারুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হোসেন ও তার ছেলে সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে আমাদেরকে জমি দখল ছেড়ে দেবার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একইসাথে আমার প্রতিবন্দী মাকে ব্যাপক মারধর করে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে এলাকাবাসী আমার মায়ের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে। প্রতিপক্ষ মাজহারুল ইসলাম গং সন্ত্রাসী প্রকৃতির ও প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আইনী ব্যবস্থা নিতে গেলেও প্রতিকার পাইনি। উল্টো হুমকি ধমকি ও অত্যাচারের শিকার হতে থাকি। এ বিষয়ে আমার এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের মুরব্বিগণ অবগত আছে। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার তাদের সতর্ক করলেও তারা বারবার একইরকম অত্যাচার করতে থাকে। তারা আমাদের নিঃস্ব করতে আমার স্বামীকে আনোয়ারার এক মহিলার সঙ্গে বিবাহের ভূয়া কাবিন সৃষ্টি করে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা মামলায় (মামলা নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২৯১/২০১৪) ফাঁসিয়ে তিনমাস জেল খাটান। অথচ আমার স্বামী কখনো তো দূরে থাক, চট্টগ্রাম শহরেই এর আগে আসেনি। জায়গা দখলের জন্য মাজহারুলের ইসলামের যোগসাজশে এ মামলা করে আমার মাকে ঘরছাড়া করার এ ষড়যন্ত্র করা হয়। বাদি মহিলা এ যাবৎ আর আদালতে না আসায় এখনো সেই মামলা আদালতে ঝুলছে। তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন যাচ্ছিল। আমাদের জীবন জীবিকায় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্থ করছিল। পরবর্তী সময়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে আর্থিক কারণে বাধ্য হয়ে আমরা উক্ত জমি বিক্রির জন্য সিদ্ধান্ত নিই। পরে জায়গা কিনতে আসা একাধিক লোকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর ২০১৬ সালে মিজানুর রহমান ও মাকসুদুর রহমানের কাছে ১৮ শতাংশ জমি সাফ কবলায় আমার মা বিক্রি করেন ।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে পাঠানো একটি নোটিশের মাধ্যমে জানতে পারি, এ জমি দাবি করে শামসুন নাহার, স্বামী মুকুল হোসেন একটি মামলা করেছেন। মামলার পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার দুই পক্ষের দলিলাদি পর্যালোচনা ও সরোজমিনে যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেন জমির প্রকৃত মালিক আমার মা। তাই পরিমাপের পর এলাকাবাসীকে স্বাক্ষী রেখে জমিটি আমাদের বলে বুঝিয়ে দেন।
পরবর্তীতে মাজহারুল ইসলাম বাদি হয়ে জায়গাটি নিজের দাবি করে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের দ্বিতীয় আদালতে দু'টি মামলা করে। এরমধ্যে একটিতে নিষেধাজ্ঞা মামলা অপরটি ডিগ্রি পাওয়ার মামলা। নোটিশ পাওয়ার পর মিজানুর রহমান এবং মাকসুদুর রহমান উপযুক্ত দলিলপত্র সহকারে জবাব দেয়াতে নিষেধাজ্ঞা মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। দ্বিতীয় মামলাটি বর্তমানে সন্দ্বীপ সহকারি জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়ে বিচারাধীন রয়েছে।
এমতবস্থায় গত ০১ আগস্ট ২০২২ ইং সোমবার আমরা জানতে পারি মাজহারুল ইসলাম, শামসুন নাহার বেগম ও তাদের সঙ্গী মার্শাল, শাহাদাতসহ একটি পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, আমার মায়ের বিক্রিত জায়গাটি খরিদদার মিজানুর রহমান ও মাকসুদুর রহমান জোরপূর্বক দখল করেছেন যা পুরোপুরি সাজানো মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারণ আমার মা ওই জমিটি বিক্রির পর মিজানুর রহমান ও মাকসুদুর রহমান ওই জমির খতিয়ান সৃজন পূর্বক নিয়মিত খাজনা প্রদান করে আসছেন।
ওই জমির বিক্রেতা হিসেবে আমার মা ও আমি মাজহারুল ইসলাম গংয়ের সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
মাজহারুল ইসলাম এলাকায় নিজের বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো। বর্তমানে বহু মামলার আসামী সন্দ্বীপের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও জলদস্যু সর্দার খ্যাত মার্শাল প্রকাশ জলদস্যু মার্শালসহ পুনরায় এলাকায় অশান্তি, ভূমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শাহাদাত নিজেও একজন চিহ্নিত ভূমি দস্যু হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
আমরা এ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আপনাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সকলের প্রতি জাতির বিবেক সাংবাদিকদের মাধ্যমে আবেদন জানাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের আমরা স্পেস দিতে চাই না। যারা সিন্ডিকেট করে প...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যাপশন: কদম মোবারক মুসলিম এতিমাখানার নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ (২০২৬ - ২০২৯) এর অভিষেক ও ইফতার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা ব...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর ক...বিস্তারিত
রিপোর্টার : চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় ব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার কাজে সহায়তা করায় মো. জুয়েল মিয়া (৩৪) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited