চট্টগ্রাম   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

জুলাই বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি : ক্ষমতার লুটপাট ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুতুল দশা!

আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম    |    ১১:৪৮ পিএম, ২০২৫-০৯-২৩

জুলাই বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি : ক্ষমতার লুটপাট ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুতুল দশা!

ক্ষমতার বাহাদুরি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। যারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ভীতু ও হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় কাপুরুষের মতো নির্বিকার ছিলেন, বিজয়ের পর তারা হঠাৎ বিপ্লবী সেজে উঠেছে। শুরু হয়েছে ধান্ধাবাজি, লুটপাট এবং আত্মসাৎ। কেউ কেউ আবার সেই লুটপাটের টাকায় সাদা মনের মানুষ সেজে মঞ্চে প্রধান অতিথি হয়ে বিভ্রান্তিকর বিপ্লবের কল্পকাহিনী ছড়াচ্ছে। সুবিধাবাদী সাংবাদিকরাও পিছিয়ে নেই; তারা লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়ে বিপ্লবের এজেন্ট সাজতে ব্যস্ত। ফলশ্রুতিতে জুলাই বিপ্লবের যে প্রতিপাদ্য ও মহান উদ্দেশ্য ছিল, তা আজ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হয়েছে।

কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে জুলাই বিপ্লব:

একটি ক্ষুদ্র দাবি—কোটাবিরোধী আন্দোলন—ক্রমে রূপ নেয় সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনতার আন্দোলনে। খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী জনতা, ছাত্র-জনতার মিলিত প্রয়াসে তা পরিণত হয় এক মহা-বিপ্লবে—যা ইতিহাসে খ্যাত "জুলাই বিপ্লব" নামে। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই বিপ্লবকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে স্বার্থান্বেষী, সুবিধাবাদী, কুচক্রী মহল। নানা দল, সংগঠন ও ধান্ধাবাজ গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে এই বিপ্লবকে কুক্ষিগত করেছে।

যখন ছাত্রদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখন বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে সাড়া দেয়নি। অনেকেই সংবাদ সম্মেলন করে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, এ আন্দোলনের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ আন্দোলন সফল হওয়ার পর সেই একই দলগুলো এখন দাবি করছে—জুলাই বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর তারাই! প্রকৃত বিপ্লবীদের অপমান করে, তাদের অবদানের প্রতি উপহাস করে, আন্দোলনের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিয়ে তারা এখন লুটপাট ও ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত।

অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাত্যহিক চিত্র:

আজ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই স্পষ্ট দেখা যায়—সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি, জবরদখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের চিত্র। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসা—সবখানে খেটে খাওয়া মানুষ চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়ছে। তারা একচেটিয়া ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে, যা ইচ্ছা তাই করছে। এই দৃশ্যই প্রমাণ করে যে বিপ্লবের মূল লক্ষ্য—দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠন—আজ ভুলে যাওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পুতুল দশা:

জনগণের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার হবে প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার—যে সরকার রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার পরিণত হয়েছে প্রতীকী সরকারে, কার্যত এক পুতুল সরকারে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কথা মানছে না; বরং উল্টো অন্তর্বর্তী সরকার তাদের আঁতাত ও প্রশ্রয় দিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো ভেবেছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া দেশ চালানো যাবে না। অথচ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। এই সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও রক্ত। তাদের শক্তিকে উপেক্ষা করে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করার ফলে আজ দেশ আবার অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর ফলে জাতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনোদিন পূরণ করা যাবে না।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিস্তার:

রাজনৈতিক সন্ত্রাস আজ রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলতে বোঝায়—রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড। দুর্নীতি, জনগণের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের অপপ্রয়োগ, দলীয়করণ, বৈষম্য—সবই আজকের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে দৃশ্যমান। উপদেষ্টারা প্রকাশ্যে দুর্নীতির সাথে জড়িত না হলেও, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়সম অপরাধ মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ এসব রোধ করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তাদের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। ফলে জনগণের কাছে এ সরকারের প্রকৃত চেহারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—এটি বিপ্লবী সরকার নয়, কেবল নামমাত্র প্রতীকী সরকার।

বিপ্লবী সরকার বলতে বোঝায় এমন এক সরকার—যা জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, দুর্নীতি ও বৈষম্য নির্মূল করবে, প্রয়োজনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করবে। একটি বিপ্লবী সরকার জনগণের শক্তিকে ভিত্তি করে রাষ্ট্র চালাবে, চাটুকার ও সুবিধাবাদীদের নয়। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের পরিবর্তে চাটুকারদের শক্তি মনে করছে। এ পথে চলতে থাকলে জাতির যে ক্ষতি হবে তা কোনোভাবেই পূরণীয় নয়।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর জনতার হতাশা:

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর জনগণ ভেবেছিলো, জুলাই বিপ্লব নতুন এক স্বপ্ন ও আশার দিগন্ত উন্মোচন করবে। জনগণের ভাগ্যে পরিবর্তন আসবে, অবিস্মরণীয় ইতিহাস রচিত হবে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, সেই স্বাধীনতার স্বাদ আবারও ক্ষণস্থায়ী হয়ে গেছে। হতাশার কালো ছায়া গ্রাস করেছে জনমানসকে। আন্দোলন-সংগ্রাম সময়ের সঙ্গে বদলে যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য যেন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিবাচক দিক ও সাফল্য:

তবুও এই বিপ্লবের কিছু ইতিবাচক অর্জন অস্বীকার করা যাবে না। নিপীড়িত মানুষের মুক্তি, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, একচেটিয়া ক্ষমতার অবসান এবং দানবীয় সরকারের পতন—এসবই জুলাই বিপ্লবের বাস্তব সাফল্য। অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের খাতায় আরেকটি দিক অবশ্যই উল্লেখযোগ্য—রিজার্ভের ভারসাম্য রক্ষা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন জটিল পরিস্থিতিতে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা সহজ কাজ নয়। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী দূরদর্শিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

জনগণের আহ্বান:

এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সুযোগ রয়েছে—বিপ্লবের প্রতিপাদ্য ধারণ করে জনগণের সরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার। এজন্য প্রয়োজন, রাজনৈতিক চাটুকারদের থেকে সরে আসা, সাধারণ জনগণের মনের কথা শোনা এবং ন্যায় ও সত্যকে সমর্থন করা। যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে একদিন অবশ্যই পুরো সরকারের প্যানেলকে জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে।

রিটেলেড নিউজ

সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেটের ‘আওয়ামী এজেন্ডা’ রুখে দেওয়ার এখনই সময়

সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেটের ‘আওয়ামী এজেন্ডা’ রুখে দেওয়ার এখনই সময়

মিজানুর রহমান চৌধুরী :   বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করে জিয়ার স্লোগান দিয়ে যারা জাতীয়তাবাদী সেজেছে, তারা আওয়ামী ...বিস্তারিত


রাষ্ট্রজুড়ে অস্থিরতা: নেপথ্যে কারা?

রাষ্ট্রজুড়ে অস্থিরতা: নেপথ্যে কারা?

আমাদের ডেস্ক : : রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবà...বিস্তারিত


জুলুম ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলবে

জুলুম ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলবে

মিজানুর রহমান চৌধুরী : ✍️ মিজানুর রহমান চৌধুরী “রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক ত...বিস্তারিত


রাজনৈতিক দলের পদলোভীরা বেপরোয়া, ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না

রাজনৈতিক দলের পদলোভীরা বেপরোয়া, ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না

মিজানুর রহমান চৌধুরী : পদবী লোভী লুটেরা দালালদের এ মুহুর্তে থামিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি এরকম পদলোভী লুটেরà¦...বিস্তারিত


চট্টগ্রাম ওয়াসাকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন ।

চট্টগ্রাম ওয়াসাকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন ।

সম্পাদকীয় ডেস্ক :: : চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়াসা ৮শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরের ৮০ হাজার গ্রাহকের কাছে &l...বিস্তারিত


যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন অর্থনৈতিক জোটের লক্ষ্য আসলে কী, কী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ?

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন অর্থনৈতিক জোটের লক্ষ্য আসলে কী, কী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ?

আলাউদ্দীন বেলাল :   ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোটà§...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর