শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৮:৪২ পিএম, ২০২৬-০৯-২৯
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রা। বাড়ছে তাপমাত্রা, ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও খরা। একই সঙ্গে গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা জলবায়ু পরিবর্তনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দিনে মানবসভ্যতার খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও নিরাপদ বসতির ওপর বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) সর্বশেষ বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১ বছরই রেকর্ডের উষ্ণতম ১১ বছরের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর আগে ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্পায়ন, বন উজাড় ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জলবায়ু ব্যবস্থা ভারসাম্য হারাচ্ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে
জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমুদ্রেও। সমুদ্রের পানি উষ্ণ হওয়ার পাশাপাশি হিমবাহ ও বরফস্তর গলে যাওয়ায় বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ ক্রমাগত উঁচু হচ্ছে। এতে বিশ্বের উপকূলীয় ও নিচু এলাকাগুলোতে জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের মতো বদ্বীপভিত্তিক ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে কৃষি, সুপেয় পানি ও মানুষের জীবিকার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ঝুঁকিতে বাংলাদেশ,
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো গড়ে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসতভিটা ও জীবিকা হারিয়ে দেশের ভেতরেই অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদনেও চাপ-
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
এর প্রভাব শুধু কৃষকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে খাদ্যের দাম, মানুষের আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি-
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা ও জলাবদ্ধতার ফলে পানিবাহিত রোগের বিস্তার এবং উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শ্রমজীবী মানুষ এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী চরম আবহাওয়ার প্রভাবে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বিপন্ন জীববৈচিত্র্য-
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুধু মানুষ নয়, বিপন্ন হচ্ছে প্রাণী ও উদ্ভিদের বহু প্রজাতি। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও দূষণের কারণে বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের ওপর বাড়ছে চাপ।
প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানুষের খাদ্য, পানি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল একটি জীবপ্রজাতি; বন, নদী, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের সুস্থতা সরাসরি মানবজীবনের সঙ্গে যুক্ত।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ-
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে, বর্তমান নীতিগুলো যথেষ্ট দ্রুত পরিবর্তন করা না হলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
পরিবেশ রক্ষা এখন আর কেবল প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয় নয় এটি মানবজীবন, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এর মূল্য দিতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
লেখক, এস.এফ.এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ,
সহ-সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব।
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সেইফ ডায়াবেটিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্য...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : ‘গত আড়াই বছরে ৫০ বারের মতো সাক্ষাৎকার দিয়েছি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। কিছুতেই তো কিছু হলো না। এখন à¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) শাটল ট্রেন। à...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited