শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৪২ পিএম, ২০২৬-১১-০৫
সমুদ্রে মাছ আহরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও তা টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। ‘সোনার’ প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে অতিরিক্ত মাছ ধরার প্রবণতা সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ হাজার নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে মাছ আহরণ করে। এগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টন মাছ ও চিংড়ি আহরণ করা হয়।
এসব নৌযান ও জাহাজ দুই ধরনের। তুলনামূলক ছোট এবং উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ শিকার করা ‘আর্টিশনাল ফিশিং বোট’ এবং গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করা বড় বাণিজ্যিক জাহাজ।
এর মধ্যে নিবন্ধিত যান্ত্রিক ও আর্টিশনাল বোট রয়েছে ২৯ হাজার ৬৭৯টি। মাছ ধরার বাণিজ্যিক জাহাজ ২০২টি।
নিয়ম অনুযায়ী, গভীর সাগরে মাছ ধরার ট্রলার পরিচালনার জন্য লাইসেন্স থাকতে হয়। ২০১১ সালে সরকার মাছ ধরার জন্য ৩৪টি ট্রলারের লাইসেন্স দিলে এ খাতে নতুন বাজার তৈরি হয়। একসময় মাছ ধরার ট্রলার আমদানি করা হতো থাইল্যান্ড থেকে। দেশিয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসার পর এখন অত্যাধুনিক ফিশিং ট্রলার দেশেই তৈরি হচ্ছে। দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠান সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার নির্মাণে সক্ষম।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৬৭৬টি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। এর বাইরে উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার যান্ত্রিক ছোট ট্রলার মাছ ধরছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রলারের সংখ্যা ৪৯টি।
জানা গেছে, সাগরে কয়েকবার গিয়েও কিছু ট্রলারে মাছ পাওয়া যায় কম। পক্ষান্তরে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে ব্যবহৃত ‘সোনার’ প্রযুক্তিতে মাছ মিলছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। প্রায় ৭০টিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ইলেকট্রিক শক দিয়েও মাছ ধরা হচ্ছে। ফলে সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবা হচ্ছে। এ অবস্থায় বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে ব্যবহৃত ‘সোনার’ বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে-তা নির্ধারণের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে মৎস্য অধিদপ্তর।
সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে প্রথম ‘সোনার’ ব্যবহার শুরু হয়। শুরুর বছরে ৪টি, ২০১৪ সালে ৮টি, ২০১৫ সালে ২টি, ২০১৬ সালে ১১টি, ২০১৭ সালে ৪টি, ২০১৮ সালে ৬টি, ২০১৯ সালে ৭টি, ২০২০ সালে ১৬টি এবং ২০২১-২৪ সালে ২১টি বাণিজ্যিক ট্রলারে ‘সোনার’ ব্যবহারের অনুমোদন মিলে।
দেশে সামুদ্রিক জলসীমা প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। উপকূলীয় এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১০ কিলোমিটার। এই বিশাল জলসীমায় বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পেলাজিক মাছ রয়েছে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৭ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রামে ইলিশ আহরণ হয়েছে ১৫ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৫ হাজার টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়।
গত ১ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য-২ শাখার উপসচিব মোছাম্মৎ রোজিনা পারভীন স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, মৎস্যসম্পদের সন্তোষজনক মজুদ নিশ্চিতকরণের জন্য মৎস্য আহরণে নিয়োজিত সকল বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে ‘সোনার’ ব্যবহার ২ বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র (২শ মিটারের অধিক গভীরতা) এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও টুনাজাতীয় পেলাজিক মৎস্য আহরণকারী নৌযান এর আওতামুক্ত থাকবে।
যেভাবে কাজ করে সোনার প্রযুক্তি
সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (সোনার) প্রযুক্তি সাধারণত পানিপথে চলাচল, গভীরতা পরিমাপ, তলদেশে থাকা বস্তুর সন্ধান পেতে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সোনার দুই ধরনের-প্যাসিভ ও অ্যাকটিভ। প্যাসিভ সোনার যে কোনো শব্দের উৎস শনাক্ত করে। অ্যাকটিভ সোনার শব্দের স্পন্দন পাঠিয়ে তার প্রতিধ্বনি শোনায়। দ্রুতগতিশীল সোনারের ৭০ মিটার গভীরতায় শব্দ-সংকেতের যাওয়া ও আসা মিলিয়ে পরিভ্রমণে সময় লাগে সিকি সেকেন্ড। ছোট আকারের টর্চলাইটের মতো ‘সোনার’ পানির নিচে মাছের বিচরণ সহ দূরের চিত্র দেখায়। মাছ ধরা এবং জাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে চির্প (কমপ্রেসড হাই ইনটেনসিটি রেডিয়েটেড পালস) হলো উন্নতমানের ‘সোনার’ প্রযুক্তি।
সামুদ্রিক মৎস্য জরিপের প্রতিবেদনে যা আছে
সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সোনার প্রযুক্তি বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ ও মাছের মজুদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘সোনার’ ব্যবহারের ফলে ট্রলারে আহরণের পরিমাণ বাড়লেও সমুদ্রে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাকৃতিক মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। লক্ষ্যভিত্তিক মাছ শিকারের কারণে প্রজননক্ষম মাছ ও ছোট আকারের জাটকা ব্যাপক হারে ধরা পড়ছে, যা মৎস্য প্রজাতির স্থায়ীত্বকে হুমকিতে ফেলছে। বাণিজ্যিক ট্রলারের অতিরিক্ত আহরণের ফলে সাধারণ ও ক্ষুদ্র (আর্টিশনাল) জেলেরা সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছে না, যার ফলে জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা বিঘ্নিত হচ্ছে ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। সাগরের পানিতে অতিরিক্ত শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টির কারণে সামুদ্রিক জীবের স্বাভাবিক চলাচল, আচরণ ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে-সোনারের বেসিক রেঞ্জ অনধিক ২০০০ মিটার, ফ্রিকোয়েন্সি ৫০-২০০ কিলোহার্টজ এবং বিম অ্যাঙ্গেল নির্দিষ্ট করে দেওয়া, যাতে ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্যান করা না যায়। সোনার ব্যবহারকারী সকল ট্রলারে ভ্যাসেল মনিটরিং সিস্টেম (ভিএমএস), অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস), ইলেকট্রনিক চার্ট প্লটার স্থাপন ও সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা। ট্রলারভিত্তিক বাৎসরিক মোট সহনীয় আহরণ ও মাসিক কোটা নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত আহরণে বাড়তি ফি আরোপ করা। নতুন ট্রলারে সোনার সংযোগের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা এবং অগভীর সমুদ্রে (৪০ মিটারের কম গভীরতায়) সোনারের মাধ্যমে মাছ ধরা কঠোরভাবে বন্ধ করা।
চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক (সামুদ্রিক) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের মোট জিডিপির ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ অবদান রাখে মৎস্য খাত। বর্তমানে মৎস্য রপ্তানি খাত থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। তবে মৎস্য ব্যবস্থাপনায় ‘সোনার’ প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাছের বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, সকল বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে ‘সোনার’ ব্যবহার ২ বছরের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ আছে। গত ১৮ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সভায়ও এ বিষয়টি মনিটরিং করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও আমাদের কাছে নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের স্থায়িত্বশীল আহরণে তদারকি করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে অগ্নিনিরাপত্তার উদ্বেগ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের জ্বালানি তেল আমদানি এবং খালাসব্যবস্থায় সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মু...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের অভিà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরà§...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টায়...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যস্ততম নিউমার্কেট মোড়ের ফুটপাত ও সড়কে হকারদের কাঠ বা স্টিল স্ট্রাকচার নেই। ত্রিপল বা পলিথিনের à¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited