শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৫:৪৬ পিএম, ২০২৬-১১-০১
এস.এফ.এম.মোস্তাঈন বিল্লাহ:
মাদকের ভয়াল বিস্তার ক্রমেই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক সংকটে পরিণত হচ্ছে। মাদকের করালগ্রাসে বিপন্ন হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা, বিপর্যস্ত হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন, বিস্তৃত হচ্ছে অপরাধপ্রবণতা। যে তারুণ্য দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ার কথা, সেই তারুণ্যের একটি অংশ আজ মাদকের নেশায় দিশাহারা।
মাদক কেবল একটি ব্যক্তিগত আসক্তি নয়; এটি বহুমাত্রিক সামাজিক অবক্ষয়, জনস্বাস্থ্য সংকট এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। মাদকের সহজলভ্যতা, অবৈধ সরবরাহব্যবস্থা এবং সংঘবদ্ধ কারবারি চক্রের তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মাদকাসক্তির প্রভাবে অনেকেই শিক্ষা, কর্মজীবন ও স্বাভাবিক সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। নেশার অর্থ জোগাতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এর পরিণতিতে শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই বিপর্যস্ত হচ্ছে না, বরং পরিবারকে বহন করতে হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক দুর্ভোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বয়সে মাদকের সংস্পর্শে আসা শিক্ষা, কর্মদক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, মাদক ব্যবসার নেপথ্যে সক্রিয় অবৈধ অর্থের প্রবাহ, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব চক্রের বিরুদ্ধে কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং তাদের অর্থের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, পৃষ্ঠপোষকতা ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বিশেষ করে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের অপরাধী হিসেবে একঘরে না করে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক প্রভাব কিংবা সামাজিক ক্ষমতা যেন অপরাধীদের সুরক্ষাকবচ হয়ে উঠতে না পারে। প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ অভিযান এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকবিরোধী সংগ্রাম এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। একটি প্রজন্মকে মাদকের অন্ধকার থেকে রক্ষা করা মানেই একটি পরিবারকে রক্ষা করা, একটি সমাজকে নিরাপদ রাখা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। মাদক কারবারের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন এবং মাদকাসক্তদের মানবিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা না গেলে এই সামাজিক ব্যাধি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
আমাদের ডেস্ক : : ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় প্রশিক্ষিত যুব সংস্থা (পà§...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : সকালের আলো ফুটতেই সরব হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। পণ্য ওঠানামা করে, চলে দরদাম, খাতায়-কলমে হিসাব...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : মাসের শেষ দিকে সংসারের খরচ মেলাতে গিয়ে অনেক সরকারি কর্মচারীকেই হিমশিম খেতে হয়। বাড়িভাড়া, সন্তানদà§...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনà¦...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited