শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮:৩২ পিএম, ২০২৫-০৯-০২
সেলিম উল্লাহ :
হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে মালিক বনে যাওয়া মুজিবুর রহমান আজ অঢেল সম্পত্তি ও ক্ষমতার অধিকারী। ব্যবসায়ী থেকে এমপি হওয়ার এই রহস্যময় যাত্রাপথে রয়েছে এক ভয়ংকর ইতিহাস, যার কেন্দ্রবিন্দু দখল, অর্থ ও রাজনৈতিক আঁতাত।
ক্ষমতার ট্রায়াল ম্যাচ
প্রথমে পরিবারের ছোট ভাই তারেককে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়। টাকার জোরে চেয়ারম্যান হলেও আওয়ামী সরকার পতনের পর সাধারণ মানুষ তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেয়। এটিই ছিল ক্ষমতার পরীক্ষামূলক খেলা, যা পরবর্তীতে মাফিয়া মুজিবের বড় রাজনৈতিক যাত্রার ভিত্তি তৈরি করে।
আওয়ামী লীগের ছায়াতলে উত্থান
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক থেকে সহ-সভাপতি—এভাবেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নেন মুজিব। সর্বশেষ নির্বাচনে বাঁশখালী-১৬ আসনের এমপি হন তিনি। অথচ ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যখন আওয়ামী লীগের এমপিরা জীবন বাঁচাতে গা ঢাকা দেয়, তখন মুজিব সর্বদলীয় মাফিয়া চক্রের কান্ডারি হয়ে প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে।
অর্থ ও আঁতাতের জাল
মুজিবের অর্থবল এতটাই শক্তিশালী যে প্রতিবেশী রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও ম্যানেজ করেছেন তিনি। এনসিপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম নগর আহ্বায়ক মীর আরশাদুল হক তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন বলে প্রচলিত। একইসঙ্গে জামাত-বিএনপিকেও আগেই কৌশলে নিজের প্রভাববলয়ে এনেছেন তিনি। অথচ চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লালন-পালন, আইনি সহায়তা ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত এই ভোটচোর মুজিব ও তার পরিবার। সাত ভাই ও তিন বোন মিলে তারা সবাই আওয়ামী লীগের ডোনার।
নজির আহমদের উত্থান ও ‘পূর্বদেশ’
মুজিবের পিতা নজির আহমদ ছিলেন বাঁশখালীর সাবেক সাংসদ সুলতানুল কবিরের পরিবারের বর্গাচাষা। মুক্তিযুদ্ধের পর স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার সুভাষ বাবু মাস্টারি ছেড়ে দিলে সুলতানুল কবিরের প্রভাবে নজির আহমদকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তিনি ‘নজির মাস্টার’ নামে পরিচিতি পান।
তাকে বিখ্যাত করার জন্য পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। পাকিস্তান আমলের একটি পত্রিকা ‘পূর্বদেশ’ ক্রয় করে প্রতিষ্ঠাতার নামে ব্যবহার শুরু হয়। আজ সেই পত্রিকার সম্পাদক সিআইপি মুজিব। অথচ সমালোচকরা বলেন—“যে মানুষ পাড়ার নলকূপের জন্য চেয়ারম্যানকে চিঠি লেখার যোগ্যতা রাখে না, সেই হচ্ছে সম্পাদক।” এটি সংবাদপত্রের সম্পাদক মণ্ডলীর মর্যাদাকে নিন্মস্থরে নামিয়ে আনে। নজির আহমদের নামে কলেজ, মার্কেট এবং মায়ের নামে আম্বিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিবার সামাজিক মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করে এবং তাতে অনেকটাই সফল হয়।
স্মার্ট গ্রুপ ও বন্দর রাজনীতি
মুজিবের বড় ভাই স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই গ্রুপকে বলা হয় ‘স্মার্ট লেবাসধারী মাফিয়া চক্রের’ অন্যতম অংশ। বন্দরকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রভাবশালী বন্দরকেন্দ্রিক এমপি লতিফের পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে তারা। ২০০৫ সালেও মাত্র একটি ছোট অফিস থেকে স্মার্ট গ্রুপের কার্যক্রম চলত। সাত ভাই মিলে একটি বিল্ডিংয়ে থাকতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আঙুল ফুলে কলাগাছ, আর কলাগাছ থেকে বটগাছ হয়ে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায়। এরপর পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে এমপি পদও বাগিয়ে নেন।
বিএম ডিপো ট্র্যাজেডি ও দায়মুক্তি
সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক প্রাণহানি ঘটলেও মুজিব দায়মুক্তি পান। দুর্ঘটনার মূল কারণ যে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, তা এখনও তার প্রতিষ্ঠিত হাটহাজারির আল রাজী কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে উৎপাদিত হচ্ছে। বিএম ডিপোর সেই কেমিক্যাল সংরক্ষণের ক্ষমতা আদৌ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার সাহস কারও হয়নি, আওয়ামী দোসর হওয়ার সুবাদে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।
প্রশ্নের মুখে সম্পাদক মুজিব
অতীতের এই ইতিহাস দেখায়, অর্থ আর ক্ষমতা থাকলেই কেউ সম্পাদক বা এমপি হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একজন পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার মাপকাঠি কি শুধুই টাকা? কিভাবে নজির আহমদকে প্রতিষ্ঠাতা বানানো হলো? আর অর্থলোভী এই পরিবারের হাত ধরে কিভাবে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার টিকে রইল?
সংক্ষেপে বলা যায়, মাফিয়া মুজিব ও তার পরিবার নিজেদের দরিদ্র পটভূমি আড়াল করে অর্থ, প্রভাব ও রাজনৈতিক আঁতাতের মাধ্যমে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছে। আজও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও মুজিব থেমে নেই। বরং আওয়ামী পুনর্বাসনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই জাতি এখনো স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। চলবে…
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited