শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৩:২৯ পিএম, ২০২৬-০৬-০৮
এস.এফ.এম.মোস্তাঈন বিল্লাহ
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতামতের স্বাধীন প্রকাশ, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা। কিন্তু সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গণতন্ত্রের চর্চা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তা বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাবের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
রাজনীতির করিডোরে আজ সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দলীয় আনুগত্যের অতি-প্রাধান্য, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বিস্তার এবং ক্ষমতার প্রভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা, দক্ষতা ও জনস্বার্থের চেয়ে দলীয় পরিচয় বেশি গুরুত্ব পায়, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে।
একসময় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল আদর্শ, নীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই আদর্শের পরিবর্তে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ মুখ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে গ্রহণ না করে প্রতিপক্ষকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় দাসত্বের সংস্কৃতি যখন বিস্তৃত হয়, তখন স্বাধীন মতপ্রকাশ সংকুচিত হয়ে যায়। দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে যুক্তিসংগত সমালোচনা বা পরামর্শ দেওয়ার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বহুমতের পরিবর্তে একমুখী মতামতের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।
ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ইতিহাস বলে, ক্ষমতার ভারসাম্য ও কার্যকর জবাবদিহিতা না থাকলে অনেক সময় ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হয়ে পড়ে। তখন প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক কার্যকর ও স্বাধীন হতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি ধারাবাহিক সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো রাজনীতি কি জনগণের কল্যাণকেন্দ্রিক হবে, নাকি ক্ষমতা ও প্রভাবের বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর।
গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র, জনগণ ও ন্যায়ের প্রশ্নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হলেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited