শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০:৪৮ পিএম, ২০২৫-০৭-১৯
মুনির চৌধুরী :
‘দৈনিক আমাদের বাংলা’য় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে নিয়োগ বাণিজ্য ও তেল চুরি সিন্ডিকেটের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অবশেষে অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভিন। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
‘দৈনিক আমাদের বাংলা’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে উন্মোচিত হয় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তেল চুরি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা। দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হয় নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগের তীর সরাসরি মেঘনার এমডি টিপু সুলতান সিন্ডিকেট ও তার সহযোগীদের দিকে।
কোটি টাকার বাণিজ্য :
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ১৪৭টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়, যা কোম্পানির ইতিহাসে নজিরবিহীন। ৪ জুলাই ঢাকার বিআইএম-এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী এতে অংশ নেন। ফলাফলে ৯৮১ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হল—ফলাফলে এমন ১৮ জনের নাম আছে, যারা পরীক্ষাতেই অংশ নেননি!
অভিযোগে উঠে এসেছে, অন্তত ৮০ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকা করে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে টিপু সুলতান সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে জড়িত আছেন মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) মো. ইনাম ইলাহী চৌধুরী ও ঢাকা জোনের ডিজিএম মো. লুৎফর রহমান।
অবসরের আগে শেষ আঘাত :
মেঘনার এমডি টিপু সুলতান চলতি মাসের ২৭ তারিখে অবসরে যাচ্ছেন। এ বছরের শেষের দিকে অবসরে যাবেন জিএম ইনাম ইলাহী চৌধুরীও। অভিযোগ আছে, অবসরের আগেই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং চেয়ারম্যানের পিএস হিসেবে পরিচিত সরকারের দোসর আহমাদুল্লাহকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে।
বছরের পর বছর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য :
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানিগুলো বছরে হাজার কোটি টাকার লোকসান দেখালেও তেল চুরি সিন্ডিকেট, অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদারদের সম্পদের পাহাড় দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে লাইটার ও ট্যাংকার জাহাজ, ঠিকাদার সিন্ডিকেট (ইনোভেটিভ অ্যাসোসিয়েশন, এস এ ইন্টারন্যাশনাল, এসবি ট্রেডিং, আরিফ, হোসাইন, সাদেক, জিয়া গং), সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠান, কর্ণফুলী নদীর তেল চোরাই চক্র, পোর্ট ল্যান্ড গ্রুপের মিজান গং, সিবিএ নেতাসহ অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবৈধ বাণিজ্যের রাজত্ব গড়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, বিগত ১৪ বছরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির অসাধু কর্মকর্তারা ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দোসরদের নিয়ে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
ক্রমাগত মুখোশ উন্মোচন :
‘দৈনিক আমাদের বাংলা’য় তেল চুরি ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।
(পরবর্তী পর্বে : পদ্মা অয়েল কোম্পানির তেল চুরি সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন)
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited