শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৯:০৮ পিএম, ২০২৪-১১-১০
"কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ছোট্ট একটি আন্দোলনকে বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত করতে একপ্রকার বাধ্য করেছিলো ফ্যাসিস্ট সরকার। তার উপযুক্ত জবাবে ৫ আগস্ট বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান এর দিকে ধাবিত হয় রাষ্ট্র। চরম অহংকার ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের রাজাকার আখ্যায়িত করাসহ গণহত্যার আদেশকারিনীর পলায়নের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে যে-কোনো মূল্যে। ৫৪ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। বর্তমান সরকার চেষ্টাও করছে। সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে সবাইকে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রসমাজ মাথানত না করে আমাদেরকে উপহার দেওয়া রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দেড় থেকে দুই বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে রাজনৈতিক দলের সংস্কার করাি জরুরি। যা আমাদেরকেই করতে হবে।"
জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্র কোনপথে শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট রাষ্ট্র বিজ্ঞানী, চবির রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ডক্টর এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী এসব কথা বলেন।
৯ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৪ টায় কাজির দেউড়িস্থ এপোলো শপিং-এর ৩য় তলায় চবি- ৩১ ব্যাচ ক্লাব মিলনায়তনে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম আয়োজিত জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্র কোনপথে শীর্ষক আলোচনা সভা এডিটরস ফোরামের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম এর সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম এর সাহিত্য সম্পাদক, লেখক আবদুল্লাহ মজুমদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি আলোচক হিসবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক লায়ন ডক্টর সানাউল্লাহ, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া লি: এর পরিচালক লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী, মাই টিভির আঞ্চলিক ব্যুরো নুরুল কবির, সংগঠক ও সমাজসেবক সাজ্জাদ উদ্দিন, এসজিডি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি তরুণ প্রজন্মের আইডল নোমান উল্লাহ বাহার, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক জিয়াউদ্দিন চৌধুরী ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মুহাম্মদ মোখতার উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, ১৬ বছরের ক্ষোভ জুলাই আন্দোলনের আগে একটি রাতও অনেক মানুষ নিজের ঘরে থাকতে পারে নাই, পারেনি স্বাধীন মতামতকে তুলে ধরতে, আমরা ভোট দিতে পারিনি, এবং ভোট দিতে না দেওয়ার জন্য প্রতিবাদও করতে পারিনি। চুপ করে থাকা যেমন একটি অপরাধ সে অপরাধেও আমরা একপ্রকার অপরাধী ছিলাম। স্বৈরাচারী বিভিন্ন চরিত্র বিভিন্নভাবে ধারণ করার ফলে সাধারণ জনগণ কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেছিলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সফলতার হেতু সে সাহস আমরা আবারও ফিরে পেয়েছি। এখন আবারও কথা বলতে পারছি স্বাধীন স্বরে।
বক্তারা আরো বলেন একজন রাষ্ট্র প্রধান স্বৈরশাসক হয়ে উঠে মুলত জনগণের নীরবতার সুযোগ বুঝে। পুলিশ বাহিনীকে, রাষ্ট্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখে ধীরে ধীরে স্বৈরশাসক হয়ে উঠার গল্প এখন জাতির কাছে পরিষ্কার। আর কখনোই মাথা চড়া দিয়ে যাতে উঠতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সুশীল সমাজের উচ্চনিম্ন সকলকে।
"জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্র কেনপথে শীর্ষক" ও আমাদের করণীয় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্র চিন্তক, সাংবাদিক ও গবেষক ওচমান জাহাঙ্গীর।
ওচমান জাহাঙ্গীর তার প্রবন্ধে বলেন- স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই বাংলাদেশে অনেকগুলো অভ্যুত্থান হয়েছে। দলীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে এমন পরিস্থিতির শিকার হতো না এদেশের জনগণ। আমেরিকায় দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা আছে। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিক। ব্রিটেনেও রয়েছে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা: লেবার পার্টি ও কনজারভেটিব পার্টি। একইভাবে আমাদের দেশেও ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দু'টি দলীয় ব্যবস্থাপনা ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে এই দলীয় ব্যবস্থাপনাকে ধাংসে করে এবং নিজের দলকেও ধ্বংস করে দেয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ গণহত্যাকারীর দল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিএনপি একটি বৃহৎ দল। কিন্তু সমকক্ষ কোনো দল নেই। যেমনি ছিল ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হাওয়ার পর বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা দেশ গড়ে উঠেনি। সরকার কর্তৃক বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে দলীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে দলগুলো গোপনীয় সহিংস তৎপরতা শুরু করে। দুঃশাসন-দুর্ভিক্ষের ফলে সামরিক অভ্যুত্থানে মুজিব সরকারের পতন ঘটে। দলীয় ব্যবস্থাপনা মুজিব ধ্বংস করে, সে কারণে দেশে এক ব্যক্তির শাসনের কৌশলে সামরিক শাসনে চলে আসে মেজর জিয়া ও এরশাদ। এরশাদের শাসনামলে, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়। পৃথক পৃথক দলীয় অবস্থায় সংগঠিত হয়। '৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিএনপি ১৯৯১ সালে, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে, বিএনপি ২০০১ সালে, ২০০৬ সালের ১/১১ পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ১৯৭২-৭৫ সালের বাপের দমন নীতি হাসিনা অনুসরণ করে। বিরোধী দলীয় ব্যবস্থাপনাকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে একদলীয় ব্যবস্থার উপর জোর দেয়। ২০২৪ জুলাইয়ের ছাত্রজনতার বিপ্লবের পর সেই শাসক দলের আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারের বা ফ্যাসিবাদের দল গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ১৬ বছর ধরে নির্যাতিত দল বিএনপি এখন একক দলীয় শক্তিতে অর্জিত, তেমন বিরোধী শক্তি নেই বললেই চলে। ছাত্রজনতার বিপ্লবের পর নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি বিপ্লবী ছাত্রদের পরামর্শে তিনি রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংকট ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু দেশে এখনো ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে রুখে দিতে ফ্যাসিবাদী অপচেষ্টার বিভিন্ন দিক বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফ্যাসিবাদীর বড় যড়যন্ত্র এর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিভাজিত করে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করা, এমতাবস্থায় অন্তবর্তীকালীন সরকার সংবিধান স্থগিত বা বাতিল করে সামরিক ফরমানে দেশ চালানোর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার গ্যারান্টি থাকবে না। এর মধ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটানোর চেষ্টাও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। যা বিগত দিনে হয়েছে (এরশাদের শাসনামলে)।
এ পরিস্থিতিকে জটিল করতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার নানা চেষ্টাও রয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক খাত অচল করে দেয়ার জন্য ক্ষমতা হারানোর আগেই ব্যাংকের ভাণ্ডার শূন্য করা হয়েছে। যার ফলে অধিকাংশ ব্যাংক গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে টাকা দিতে পারছে না। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে অর্থনীতির গতিশীলতা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। (এখানে কিঞ্চিৎ অংশ তুলে ধরা হলো মাত্র)। জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্র কোনপথে শীর্ষক আলোচনা সভায় রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি ও করণীয় বিষয়েও বক্তারা মুল্যবান মতামত তুলে ধরেন, কীভাবে ব্যাংক লুটেরা ও মাফিয়ারা দেশকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে লুটেপুটে নিঃস্ব করে দিয়েছে তার চিত্র তুলে ধরা হয়। কীভাবে বর্তমান সরকার এর ভালো কাজগুলোকে ব্যর্থ করে দিয়ে কুচর্ক্রীমহল সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাও মনিটরিং করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এবং এসব অপকর্মকে রুখে দেওয়ার জন্য একাত্মতা পোষণ করে বলেন দুঃসময়ে বাংলাদেশে জনগণের মাথার ছায়া হয়ে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্মন্ন একজন প্রফেসর ডক্টর মু. ইউনুস। আমরা তার সকল ভালো কাজগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়ে যাবো। কেননা এমন ছাত্র আন্দোলনের সফলতার বীজ উৎখাত করতে দেওয়া হবে না।
আলোচনা সভায় আরো অংশ নেন রাজনীতিবিদ এমরান চৌধুরী, নির্যাতিত রাজনীতিবিদ সেলিম উল্লাহ্, আই আই ইউ সি পরিচালক মাহাফুজুর রহমান, লাভ বাংলাদেশের চীফ কোডিনেটর আনম তাজওয়ার আলম, সাংবাদিক শাহ্ জালাল, সংগঠক সাইদুর রহমান মিন্টু, রাজনীতি গবেষক এডভোকেট মোস্তাফা নুর, সাংবাদিক রোকন উদ্দিন, সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আতাউল্লাহ্ খান, ছাত্রনেতা শহিদুজ্জামান, প্রবাসী সাংবাদিক মুনির চৌধুরী, সাংবাদিক ফিরোজ চৌধুরী, সাংবাদিক ফারজানা ইসরাত, সংগঠক আসিফ করিম সাকিব, মানবাধিকার কর্মী ওয়ালী উল্লাহ্ চৌধুরী, সাংবাদিক মুজিব উল্লাহ তুষার কোর্ট রিপোর্টার ইফতেকার চৌধুরী, সাংবাদিক নুরুল আজম ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রণি পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের আমরা স্পেস দিতে চাই না। যারা সিন্ডিকেট করে প...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যাপশন: কদম মোবারক মুসলিম এতিমাখানার নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ (২০২৬ - ২০২৯) এর অভিষেক ও ইফতার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা ব...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর ক...বিস্তারিত
রিপোর্টার : চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় ব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার কাজে সহায়তা করায় মো. জুয়েল মিয়া (৩৪) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited