শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৬:৪৮ পিএম, ২০২৬-০২-১৯
যাকাত ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ। কালিমা – ঈমানের স্বীকৃতি। নামাজ (সালাত)। রোজা (সাওম) যাকাত ও হজ।
যাকাত কী: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। শরীয়তের দৃষ্টিতে—নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজের কাছে থাকার পর তার একটি অংশ গরিব ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করাকে যাকাত বলা হয়। আল-কুরআন-এ যাকাত আদায়ের ওপর বহুবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যাকাতের গুরুত্ব: সম্পদ পবিত্র করে দারিদ্র্য কমায়। সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে।
কার উপর যাকাত ফরজ: প্রথমত তাকে একজন মুসলিম হতে হবে। তারপর জাকাত ফরজ হয়— যাকাতদাতাকে হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ (নিসাব) থাকতে হবে। এবং সম্পদ এক হিজরি বছর (পূর্ণ থাকতে হবে। খ্রিস্টাব্দের বর্ষ নয়)।
নিসাবের পরিমাণ কী: ৭.৫ ভরি সোনা (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম)। অথবা রূপা: ৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম)। যার সম্পদের মূল্য এই পরিমাণের সমান বা বেশি, তার ওপর ২.৫% (১/৪০ অংশ) যাকাত ফরজ।
কারা যাকাত পাবে: আল-কুরআন-এর সূরা আত-তাওবা (৯:৬০) অনুযায়ী ৮ শ্রেণির মানুষ যাকাত পেতে পারে, যেমন— গরিব, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত, মুসাফির ও আল্লাহর পথে কর্মরত ব্যক্তি ইত্যাদি।
যাকাত আদায় করার নিয়ম:
যাকাত শুধু টাকা দেওয়া নয়—এটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আদায় করতে হয়। যেমন- নিসাব পূর্ণ হয়েছে কি-না যাচাই। যদি আপনার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সোনা/রুপা/টাকা/ব্যবসার মাল) এক হিজরি বছর পূর্ণ থাকে, তাহলে যাকাত ফরজ হবে। নিসাবের ভিত্তি কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে (সূরা আত-তাওবা ৯:৬০, আল-কুরআন)। মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসাব করুন।
যা যা যোগ হবে: নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা সোনা-রুপা,
ব্যবসার পণ্য কারো কাছে পাওনা টাকা (আদায়ের সম্ভাবনা থাকলে)।
যা বাদ যাবে: নিজের ব্যবহারের বাড়ি। ব্যবহারের গাড়ি
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। ও দেনা (যদি তা পরিশোধযোগ্য হয়) ২.৫% হিসাব করে মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (১/৪০ অংশ) দিতে হবে।
উদাহরণ: যদি মোট সম্পদ ৫,০০,০০০ টাকা হয়
তাহলে যাকাত = ৫,০০,০০০ × ২.৫% = ১২,৫০০ টাকা।
যাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করবেন—
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ফরজ যাকাত আদায় করছি।” আলাদা করে মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়, অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট।
সঠিক প্রাপকের কাছে পৌঁছানো: যাকাত অবশ্যই কুরআনে নির্ধারিত ৮ শ্রেণির কারো কাছে দিতে হবে (গরিব, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ইত্যাদি)। বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান বা স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন গরিব হলে তাদের দেওয়া উত্তম।
সময়মতো আদায়: এক হিজরি বছর পূর্ণ হলে বিলম্ব না করে দ্রুত যাকাত আদায় করা উত্তম। রমজানে দিলে বেশি সওয়াব, তবে বাধ্যতামূলক নয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যাকাত নগদ অর্থে দেওয়া উত্তম, তবে প্রয়োজন হলে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় জিনিসও দেওয়া যায়। কাউকে অপমান করে যাকাত দেওয়া যাবে না।
গোপনে দেওয়া উত্তম।
অন্যদানের সাথে যাকাতের অর্থ একত্রিত করা যাবে কি না—এর উত্তর নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও বণ্টন পদ্ধতির উপর।
মূলনীতি: যাকাত একটি ফরজ ইবাদত। এটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মাঝেই বিতরণ করতে হবে, যা উল্লেখ আছে কুরআনুল কারীম–এর সূরা সূরা আত-তাওবা (৯:৬০) আয়াতে।
একত্রিত করা যাবে কখন: আলাদা হিসাব থাকলে
যদি আপনি যাকাত ও সাধারণ দান (সাদাকা) একসাথে তহবিলে দেন, কিন্তু— যাকাতের অংশ আলাদাভাবে হিসাব রাখা হয়, এবং তা শুধুমাত্র যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, তাহলে একত্রে সংগ্রহ করা জায়েজ।
হিসেব মিশে গেলে যদি যাকাত ও সাধারণ দান একসাথে মিলিয়ে ফেলা হয় এবং— যাকাতের অর্থ অযোগ্য খাতে ব্যয় হয় (যেমন: মসজিদ নির্মাণ, রাস্তা, সাধারণ কল্যাণমূলক কাজ) তাহলে তা শুদ্ধ হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: যাকাত দেওয়ার সময় নিয়ত (ইচ্ছা) থাকতে হবে যে এটি যাকাত। যাকে দেওয়া হচ্ছে, সে যেন যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়।
যাকাতের টাকা দিয়ে সরাসরি এমন প্রকল্পে খরচ করা যাবে না, যেখানে নির্দিষ্ট উপযুক্ত ব্যক্তির মালিকানা নিশ্চিত নয়।
যাকাত গোপনে দেওয়া উত্তম: গোপনে যাকাত দেওয়া বেশি ফজিলতপূর্ণ। এতে রিয়া (দেখানো) থেকে বাঁচা যায় এবং গরিবের সম্মান রক্ষা হয়। নগদ দেওয়া উত্তম। বর্তমান সময়ে নগদ অর্থ দেওয়া অনেক সময় বেশি উপকারী, কারণ গরিব ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য বা চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া যায়।
যে ৮ শ্রেণির মানুষ যাকাত পাওয়ার অধিকারী—তা আল-কুরআন-এর সূরা আত-তাওবা (আয়াত ৬০)-এ উল্লেখ আছে।
ফকির (Al-Fuqara)। যাদের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর মতো সম্পদ নেই।
মিসকিন (Al-Masakin) যাদের কিছু আয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজন পূরণ হয় না।
যাকাত সংগ্রহকারী কর্মচারী (Amil) যারা যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
নব-ইসলাম গ্রহণকারী বা হৃদয় আকর্ষণের জন্য (Mu’allafatu Qulubuhum) যাদের মন ইসলামের প্রতি অনুরাগী করতে বা দৃঢ় করতে সহায়তা দেওয়া হয়।
দাসমুক্তির জন্য (Fir-Riqab) দাসত্ব বা বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (Al-Gharimin) যারা বৈধ কারণে ঋণে জর্জরিত এবং পরিশোধে অক্ষম।
আল্লাহর পথে (Fi Sabilillah) যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম বা কল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত।
মুসাফির (Ibnus Sabil) যাত্রী, যারা সফরে বিপদে পড়ে আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে গেছে।
লেখক: সাংবাদিক ও প্রাক্তন ছাত্র আল আরাবিয়া মোজাহেরুল উলুম।
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুহাম্মদ কিফায়তুল্লাহ শফীক : ১. অবতরণিকা : সময়ের মহাপ্রবাহে কত নাম উচ্চারিত হয়, কত নামই বা কালের ন...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আত্মত্যাগ, বিশà§...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চলে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। একজন মুসলমানের জন্য এ রমজান মাসের গুরুত্ব কতটুকু তা বলে বোঝানো যাবে ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। এটি এমন একটি ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কাল ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত à...বিস্তারিত
ইসলাম ডেস্ক : : ভোট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘সামনে আসছে নির্বাচন, গ্রাম পর্যায়ে এক কাপ চা, দুইশত টাকা, পাঁচ শত টাক...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited