চট্টগ্রাম   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  

শিরোনাম

চাঁদের হাসি ঈদের খুশি

আমাদের সাহিত্য :    |    ০৭:৫৩ পিএম, ২০২৫-০৫-৩১

চাঁদের হাসি ঈদের খুশি

ফারুক আহম্মেদ জীবন 

আজ চাঁপা, লতা, কথাদের স্কুলে ঈদের আগে শেষ ক্লাস। এরপরেই টানা পনেরো দিন ঈদুল আজহার ছুটি। আনন্দের যেনো সীমা নেই তাই ওদের মনে। ক্লাসে সহপাঠীদের সাথে ঈদে ওরা কে- কোথায় বেড়াতে যাবে, তাই নিয়ে কথা বলছে। চাঁপা বললো: জানিস! আমি ঈদের পরদিন আব্বু আম্মুর সাথে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাবো যশোরে। নানু বাড়ি গিয়ে আমার বয়সী  মামাতো ভাই- বোনদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াবো। ইশ! কত্তো মজা হবে তাইনা? লতা বললো: হুম অনেক মজা হবে। চাঁপা, লতাকে বললো, তুই কোথায় যাবি লতা? লতা বললো: আমি আমার আব্বু আম্মুর সাথে আমাদের দেশের বাড়ি সাতক্ষীরায় যাবো ঈদ করতে। ওখানে আমার দাদা-দাদি আছে। চাচা- চাঁচি চাচাতো ভাই- বোন আছে। সকলের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে ঈদ করবো। নতুন জামা জুতা পরে ঘুরবো। ফিরনী সেমাই- মিষ্টি মাংস কুরমা-পোলাও খাবো। জানিস আমার আব্বু তো জবের সুবাদে আমাদের নিয়ে ঢাকায় থাকে। সাতক্ষীরায় আমার দাদার অনেক সম্পত্তি আছে। প্রায় পঞ্চাশ বিঘার উপরে হবে আমাদের দুটটা বাগদা চিংড়ি মাছের ঘের আছে।

চাঁপা বললো: বাগদাচিংড়ি খেতে অনেক টেস্টি তাইনা? লতা বললো: হুম অনেক সুস্বাদু। বলতো..
আমাদের সাতক্ষীরা কিসের জন্য বিখ্যাত? চাঁপা
বললো: তা- তো জানিনা, তুই বল? লতা বললো:
অনেক কিছুর জন্যই বিখ্যাত। তবে বাগদা চিংড়ি পোনার হ্যাচারীর জন্য বিশেষ ভাবে বিখ্যাত। তারপর বললো:  জানিস, প্রতিবছর কুরবানির ঈদে আমার বাবা- চাচারা মিলে অনেক টাকার বড় দামী গরু কুরবানি দেয়। কয়েকটা ছাগলও কুরবানি দেয়। সেই গরু ছাগলের মাংস আমরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মজা মজা করে খায়। এমন সময় ক্লাসে প্রবেশ করলো প্রধান শিক্ষক মকবুল মিয়া। সকলে উঠে সালাম দিলো। মকবুল স্যার সালামের জবাব দিতে দিতে চেয়ারে বসলো। তারপর বললো: কি লতা, কুরবানির মাংস শুধু নিজেরা মজা মজা করে খেলে হবে? যারা গরীব দুঃখী তাদেরকেও তো দিতে হবে নাকি? লতা বললো: জ্বি স্যার। কথা, কোনো কথায় বলছে না।


মকবুল স্যার বললো: কি ব্যাপার কথা সামনে ঈদ
মন খারাপ কেনো? কথা বললো: না, এমনি স্যার।
মকবুল স্যার বললো: আচ্ছা চাঁপা তুমি বললো তো? কুরবানি অর্থ কি? চাঁপা বললো: আত্মত্যাগ।
মকবুল স্যার বললো: হুম ঠিকই বলেছ। আত্ম ত্যাগ বা প্রিয় জিনিসকে কুরবানি বা উৎসর্গ করা।
তারপর বললো: কুরবানি কিভাবে এসেছে লতা তুমি বলতে পারবে? লতা বললো: স্যার আমাদের আদি পিতা আদম (আঃ) এর সন্তান হাবিল আর কাবিল থেকে শুরু হয়েছে।হাবিল কাবিলের উপর আল্লার নির্দেশ আসে কুরবানি দেওয়ার জন্য। আল্লাহুর খুশিতে হাবিল ভেড়া কুরবানি করে। আর কাবিল তার ফসলের একাংশ আল্লার খুশিতে দান করে।


মহান আল্লাহ হাবিলের ভেড়া কুরবানি করাটাকে কবুল করেন। কাবিলেরটা কবুল করেন না। স্যার মকবুল বললো: বাহ! তুমি এসব কোথা থেকে জানলে? লতা বললো: আমার আম্মু বলেছে। কুরআনে এভাবে নাকি আল্লাহ বর্ণনা করেছেন।

আর কি বলেছেন তোমার আম্মু? লতা বললো:
এভাবে একসময় আল্লাহ মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে দেখান কুরবানি করতে। ইব্রাহীম নবী প্রথমে দশটি উট কুরবানি করেন। আল্লাহ আবার স্বপ্নে দেখান কুরবানি করতে। ইব্রাহিম নবী একশোটি উট কুরবানি করেন।তখন মহান আল্লাহ বলেন হে প্রিয় নবী ইব্রাহীম তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি কুরবানি করো। ইব্রাহীম নবী ভেবে দেখেন তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো তার সন্তান ইসমাইল (আঃ) তখন ইসমাইলকে কুরবানি দেওয়ার জন্য মিনারে নিয়ে যান। এবং কুরবানির জন্য গলায় ছুরি চালান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো। নবী ইসমাইলের জায়গায় দুম্বা কুরবানি হয়। আল্লাহ তখন ইব্রাহীম নবীর উপর খুশি হয়ে যান। এবং বলেন হে প্রিয় নবী  ইব্রাহীম আমি তোমার কুরবানিকে কবুল করেছি। এভাবে মুসলিম জাহানের উপর কুরবানির প্রথা চালু হয়। আল্লাহ কুরআনে কুরবানি নিয়ে আর কি বলেছে জানো? চাঁপা, লতা, কথা বললো..না স্যার। 


তখন মকবুল স্যার বললেন, আল্লাহ বলেন, আমার দরবারে কুরবানির পশুর রক্ত, মাংস কোনো কিছুই পৌঁছায় না। আমি দেখি ঐ বান্দার নিয়াত। কে আমাকে রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট করার জন্য কুরবানি করছে সেটা। আচ্ছা কথা তুমি বলোতো কুরবানি কয়দিন দেওয়া যায়? কথা বললো: তিনদিন স্যার। আরবী চন্দ্র মাসের জিলহজ্জের দশ, এগারো, ও বারো তারিখের সূর্যাস্ত পর্যন্ত। স্যার মকবুল শুনে খুশি হয়ে বললো, বাহ! ভেরি গুড। তোমরা তো দেখছি অনেক কিছুই জানো। আচ্ছা, তোমাদের মধ্যে এবছর কুরবানি করবে কারা? চাঁপা বললো: এবছর আমাদের কুরবানি দিবে না স্যার। কথাও বললো: আমাদেরও দিবে না স্যার। লতা বললো: আমাদের কুরবাবি দিবে স্যার। মকবুল স্যার শুনে বললো: যারা দিবে না এতে মন খারাপ করার কিছু নেই। যাদের সামর্থ্য আছে দিবে। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা দিবে না এটাই স্বাভাবিক। 

শোনো, আমাদের সমাজে অসহায় অভাবি, দরিদ্র গরীব দুঃখী মানুষ আছে।  "যারা সারাবছরও এক- টুকরা ছাগল কিম্বা গরুর মাংস কিনে খাওয়ার সাধ্য নেই। তারা সারাটি বছর অপেক্ষায় থাকে কুরবানির সময় লিল্লার গোস্তো পেলে একটু প্রাণ ভরে খাবে।"


ধনীদের অর্থ সম্পদে যে গরীবদের অধিকার আছে। আর এজন্য আল্লাহু পাক কুরবানির গোস্তো টাকে তিন ভাগে ভাগ করতে বলেছেন। একভাগ নিজ গ্রাম বা- এলাকার গরীব দুঃখীর জন্য। আরেকভাগ গরীব আত্মীয় স্বজন-দের মধ্যে বিলাতে বলেছে। আর একভাগ নিজের পরিবারের লোকজনদের জন্য। কি বুঝতে পেরেছ আমার কথা তোমরা? চাঁপা, লতা, কথা বললো জ্বি স্যার। শোনো, ঈদ আনন্দ ঈদের খুশি কিভাবে সকলে মিলেমিশে ভাগাভাগি করে নিতে হয়। তা- নিয়ে একটা ঈদের ছড়া বলি। কি শুনবে তোমরা? ছাত্র ছাত্রীরা বললো...জ্বি স্যার বলুন শুনবো।
শিক্ষক বললো বেশ তাহলে শোনো.....

ছড়ার নামঃ ঈদের খুশি

এসো ঈদের হাসি-খুশি 
করি ভাগা-ভাগি,
আছে যতো এতিম মিসকিন 
গরীব দুঃখীর লাগি।

ঈদ আনন্দ সবার জন্য 
না যায় যেনো ভুলে,
নতুন জামা তাদের হাতেও
দিতে হবে তুলে।

নতুন জামা পরে তারাও
যাবে ঈদের মাঠে,
হেসে খেলেই তাদের যেনো
ঈদের দিনটা কাটে।

তাদেরও দাও মিষ্টি মিঠাই 
সেমাই চিনি কিনে,
মাংস কিনে দাও সব তাদের 
এই- না ঈদের দিনে।

ধনী গরীব সব ভেদাভেদ 
ঈদের দিনে ভুলে,
তাদের সাথেও কোলাকুলি 
করি প্রাণ খুলে।

কি কেমন লাগলো তোমাদের ঈদের ছড়া। সকলে বললো, খুব সুন্দর স্যার। স্যার মকবুল বললো: তাহলে আজ আমরা ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানির ঈদ নিয়ে একে অপরের কাছ থেকে বহু কিছু জানলাম তাইনা? আমরা সবসময় চেষ্টা করবো অভাবি গরীব দুঃখীরাও যেনো আমাদের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে ঠিক আছে? সকলে বললো: জ্বি স্যার। তাহলে এসো আমরা সকলেই একসাথে বলি। 
"ঈদের বাঁকা চাঁদের হাসি, 
ঈদ আনন্দ ঈদের খুশি, সবার মনে আনুক খুশি, 
হাসি ঝরুক মুখে রাশিরাশি" 

ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীরা  সকলেই মকবুল স্যারের সাথে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বললো একইভাবে স্যারের বলা কথা গুলো বলতে লাগলো। মকবুল স্যার বললো: আজকের পর তো ঈদের ছুটি। সকলে ভালো থাকো। ঈদের আনন্দ উপভোগ করো। ঈদের পর স্কুল খুললে ইনশাআল্লাহ আবার তোমাদের সাথে দেখা হবে। এরপর ক্লাস রুম থেকে চলে আসতেই সকলে বললো:  ঈদ মোবারক স্যার। মকবুল স্যারও হেসে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো: তোমাদেরও জানাই ঈদ মোবারক। আল্লাহ হাফেজ।
 

রিটেলেড নিউজ

সৃষ্টি কুলের শ্রেষ্ঠ তুমি নূরে মুহাম্মদ

সৃষ্টি কুলের শ্রেষ্ঠ তুমি নূরে মুহাম্মদ

আমাদের ডেস্ক : : সালমান ফার্সি :  আসসালামু আলাইকুম, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম, ইয়া হাবিবাল্লাহ। সৃষ্...বিস্তারিত


নিঃশব্দ ভালোবাসা 

নিঃশব্দ ভালোবাসা 

আমাদের সাহিত্য : : আসাদুজ্জামান খান মুকুল মনের গভীরে জমে থাকা এক ছবি, যার রঙ কেবল চোখের জলে ধুয়ে যায়। সুখের খাতা কখন...বিস্তারিত


মীম্মা- মুমু

মীম্মা- মুমু

আমাদের সাহিত্য : : কোহিনুর আকতার  মীম্মা মুমু যমজ দু'বোন একই ক্লাসে পড়ে কার্টুন দেখে গানও গায় ঘুমায়ও একঘরে। বিদে...বিস্তারিত


শুভযাত্রা

শুভযাত্রা

আমাদের সাহিত্য : : শাহানাজ শিউলী  বোশেখ আসুক মুক্ত স্বাধীন স্বপ্ন নিয়ে  অ-দরকারি, জীর্ণ-জরা বিদায়  দিয়ে।  নতু...বিস্তারিত


আসাদুজ্জামান খান মুকুল -এর গুচ্ছকবিতা

আসাদুজ্জামান খান মুকুল -এর গুচ্ছকবিতা

আমাদের সাহিত্য : : শীতের শোভা  বঙ্গদেশের শীতের শোভা  দেখতে ভারি মনোলোভা ফুটে শীতের ফুল, হলুদ সর্ষের ফুল মনে হয়  ...বিস্তারিত


সাহিত্যমান বৃদ্ধিতে সাহিত্যাড্ডার বিকল্প নেই, সাগরকন্যা ও লেখালয়ের আড্ডায় আলোচকেরা

সাহিত্যমান বৃদ্ধিতে সাহিত্যাড্ডার বিকল্প নেই, সাগরকন্যা ও লেখালয়ের আড্ডায় আলোচকেরা

আবদুল্লাহ মজুমদার : : ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সাহিত্যমান, লেখকেরা তাদের লেখা বিজ্ঞজনের সান্নিধ্য ছাড়াই প্রকাশ করে লেখক ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত


ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে পশ্চিমাদের আবারও রাশিয়ার হুশিয়ারি

ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে পশ্চিমাদের আবারও রাশিয়ার হুশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : রাশিয়ার মাটিতে আঘাত হানতে পারে— এমন সব অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে হু...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর