শিরোনাম
বান্দরবান প্রতিনিধি : | ০৫:৩৫ পিএম, ২০২৫-১২-০৮
পাহাড়ি জনপদ। ছড়া বেয়ে পানি নেমে আসে বর্ষায়। সেই পানির তোড়ে ও বন্যায় ভেঙে যাওয়া একটি ব্রিজ। আর সেই ব্রিজের কাঠামোর ওপর টিকে থাকা একটি যুগের দীর্ঘশ্বাস—গর্জনিয়া উত্তর বড়বিল–দক্ষিণ বাইশারী ব্রিজ। বন্যার বছর ২০১২। মুহূর্তের প্রবল স্রোতে ধসে গিয়েছিল ব্রিজটি। তারপর কেটে গেছে ১৪টি বছর—যুগ পেরিয়েছে, সরকার বদলেছে, বাজেট পাস হয়েছে, সেতু হয়েছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কিন্তু ব্রিজটি রয়ে গেছে ঠিক তেমনই—মৃত্যুর প্রবেশদ্বারের মতো দাঁড়িয়ে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল—এ যেন অবহেলার জ্যান্ত স্মৃতিস্তম্ভ। খালের ওপর ঝুঁকে থাকা বাঁশের সাঁকোটি মাঝে মাঝেই কেঁপে উঠে, মনে হয়—ঠিক এখনই ভেঙে যাবে। তবুও থেমে নেই মানুষের যাতায়াত। কারণ ৪৫ হাজার মানুষের জন্য এটিই একমাত্র পথ।
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ও কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া—দুই ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো পার হচ্ছে। কেউ বাজারে যাচ্ছে, কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে, আর শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন বই-খাতা হাতে এই মৃত্যু–সাঁকো পার হচ্ছে।
শিক্ষার্থীর অঙ্গহানি—তবুও নীরব প্রশাসন। দুই বছর আগের ঘটনা। বাইশারীর এক স্কুলছাত্র স্লিপ করে সাঁকো থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত হয়। শেষ পর্যন্ত তার একটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও নড়েচড়ে বসেনি কেউ।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে নির্মিত ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন–নিবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ক্ষোভ-১৪ বছর ধরে জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছি।
বাইশারী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মো. জমির বলেন, একটা ব্রিজ ভাঙা থাকবে ১৪ বছর—এটা কিভাবে হয়? আমাদের জীবন নিয়ে যেন কারও কোনো ভাবনাই নেই।
মো. শফি আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় নিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় স্কুলেও যেতে পারে না।
মো. জালাল উদ্দীন বলেন, বাইশারীতে রোগী নিয়ে যেতে আমাদের যে কষ্ট হয়—তা বলার মতো না। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, রোগী স্ট্রেচারেও নেয়া যায় না ঠিকমতো।
মো. ইউসুফ বলেন, আমরা বারবার বলেছি, লিখেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ব্রিজ না থাকায় আমাদের কৃষিপণ্য বাজারে আনতে সমস্যা হচ্ছে।
অন্যদিকে গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজ বলেন, গর্জনিয়া থেকে উৎপাদিত শাক–সবজি ও তরি–তরকারি বাইশারী বাজারে আনতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। মাঝে মাঝে সাঁকো ভেঙে গেলে কয়েকদিন যাতায়াতই বন্ধ থাকে।
আব্দুস ছামাদ বলেন, প্রতিবারই দেখা গেছে—দেখতে আসে, ছবি তোলে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
আবু রায়হান মনে করেন, দুই ইউনিয়নের জনগণ ভোট দেয়, কর দেয়। কিন্তু প্রতিদান হিসেবে একটি ব্রিজও পায় না—এটা দুঃখজনক।
মো. নুরুন্নবী বলেন, এখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দায়িত্বশীলরা উদাসীন।
বাইশারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল কবিরের বক্তব্য তিনি বলেন, দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ আমি দেখছি প্রতিদিন। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত এই ব্রিজ পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ আহমদের মন্তব্য তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকবার বিভিন্ন কর্মকর্তা এসে দেখে গেছে। সাংবাদিকেরা লেখালেখি করেছে। কিন্তু ব্রিজের কাজ শুরু হয়নি। কথার ফুলঝুড়ি ছাড়া বাস্তবে কিছুই পাইনি আমরা।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম (কোম্পানি) যা বলেন, চেয়ারম্যান বলেন, ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য আমি বান্দরবান জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু ব্রিজটি ঠিক কোন উপজেলার আওতাধীন—তা নিশ্চিত নই। যে উপজেলার অধীনে পড়বে, তাদেরই কাজটি করতে হবে। যদি ব্রিজটি নাইক্ষ্যংছড়ির অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে আমাদের কর্মকর্তারা গিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited