চট্টগ্রাম   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

হৃদরোগে ৬২.৩ শতাংশের মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে

স্টাফ রিপোর্টার :    |    ০৬:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৪-২৭

হৃদরোগে ৬২.৩ শতাংশের মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে মোট মৃত্যুর ৬২.৩ শতাংশই ঘটে প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এই মৃত্যুহার দেরিতে হাসপাতালে আসা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং রেফারাল ব্যবস্থার দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজির সহকারী অধ্যাপক ডা. সাগর চৌধুরী ও ডা. হাবিবুল ইসলাম চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শিমুল কুমার ভৌমিক, চমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে প্রশিক্ষণরত ডা. কাজী মোহাম্মদ ফয়সাল ও ডি-কার্ড ট্রেইনি ডা. মো. ইমরান বিন শওকত।
তাঁদের মতে, উল্লিখিত কারণসমূহের সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিরূপণের জন্য আরও বিস্তৃত ও পদ্ধতিগত গবেষণা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয় রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের জার্নালে।
গবেষণায় দেখা যায়, ১ হাজার ৯৪৪ জন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২১১ জন (৬২.৩ শতাংশ) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান। মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল- অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (৫১.০ শতাংশ), হার্ট ফেইলিউর ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা (২১.৭ শতাংশ), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (৭.১ শতাংশ) এবং সেপসিস (২.৯ শতাংশ)।
মাত্র ১৫০ জন (৭.৭ শতাংশ) রোগী ৫ দিনের বেশি বেঁচে ছিলেন। এই গবেষণায় কার্ডিওলজি বিভাগে মৃত্যুহার পাওয়া গেছে ৯.৯ শতাংশ, যেখানে অধিকাংশ মৃত্যু অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, হার্ট ফেইলিউর, ইস্কেমিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি, অ্যারিদমিয়া, কার্ডিয়াক ট্যাম্পোনেড (রক্ত জমা) এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে হয়েছে। কিছু মৃত্যু নন-কার্ডিয়াক কারণেও হয়েছে। যেমন: ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, একাধিক অঙ্গ বিকলতা, স্ট্রোক, সেপসিস, অ্যাজমা ও তীব্র পেটের সমস্যা।
গবেষকরা মৃত রোগীদের মেডিক্যাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে জনসংখ্যাগত তথ্য, অন্যান্য রোগ, ভর্তি হওয়ার কারণ নিয়ে অনুসন্ধান চালান। মোট ১৯ হাজার ৫৯৪ জন রোগীর মধ্যে জানুয়ারিতে ভর্তি হন ১ হাজার ৯২৩ জন, মৃত্যু হয় ২২৬ জনের। ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হন ১ হাজার ৮৪৭ জন, মৃত্যু হয় ১৭৮ জনের। মার্চে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৪৩ জন, মৃত্যু হয় ১৬৬ জনের। এপ্রিলে ভর্তি হন ১ হাজার ২৫১ জন, মৃত্যু হয় ১১০  জনের। মে মাসে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৭৩ জন, মৃত্যু হয় ১৬৪ জনের। জুনে ভর্তি হন ১ হাজার ২৮৮ জন, মৃত্যু হয় ১২৪ জনের। জুলাইয়ে ভর্তি হন ১ হাজার ৬২৩, মৃত্যু হয় ১৪২ জনের। আগস্টে ভর্তি হন ১ হাজার ৬৯৯ জন, মৃত্যু হয় ১৫৩ জনের। সেপ্টেম্বরে ভর্তি হন ১ হাজার ৬৫৬ জন, মৃত্যু হয় ১৬৮ জনের। অক্টোবরে ভর্তি হন ১ হাজার ৬০০ জন, মৃত্যু হয় ১৬৬ জনের। নভেম্বরে ভর্তি হন ১ হাজার ৬৩৮ জন, মৃত্যু হয় ১৭২ জনের। ডিসেম্বরে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৫৩ জন, মৃত্যু হয় ১৭৫ জনের।
মৃত্যুবরণকারী ১৩৪ জনের বয়স ৪০ বছর, যেখানে নারী ৩০ জন, ৪১-৫০ বছরের ২৩৪ জনের মধ্যে নারী ৮৯ জন, ৫১-৬০ বছরের ২৬৮ জনের মধ্যে নারী ৮৯ জন, ৬১-৭০ বছরের ৪৬৩ জনের মধ্যে নারী ১৩৩ জন, ৭১-৮০ বছরের ৩০৯ জনের মধ্যে নারী ১৩৫ জন, ৮০ বছরের ১৬৫ জনের মধ্যে নারী ৪৫ জন।
গবেষকরা জানান, অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম ও অ্যাকিউট হার্ট ফেইলিউর ছিল ভর্তি হওয়া রোগীর প্রধান সমস্যা, যেখানে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ৬৬.৩ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। নন-কার্ডিয়াক কারণ ১১ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। উচ্চ রক্তচাপ (৪৩.৮ শতাংশ) ও ডায়াবেটিস (৪০.৮ শতাংশ) ছিল সবচেয়ে বেশি সহ-রোগ। এরপর ছিল ক্রনিক কিডনি রোগ ৯.২ শতাংশ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ ৯.১ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী স্ট্রোক ৪.৬ শতাংশ। 
তাঁদের মতে, ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ এবং মারাত্মক ভেন্ট্রিকুলার সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসার ফলে হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুহার ২৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ-তে নেমে আসে। এরপর থেকে সিসিইউ সেবা অনেক উন্নত হলেও এর ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এছাড়া, অনেক স্থানে চাহিদার তুলনায় সিসিইউ’র প্রাপ্যতা এখনও অপর্যাপ্ত। দুটি সাম্প্রতিক গবেষণায় সিসিইউতে মৃত্যুহার ৫ শতাংশ থেকে ৮.৩ শতাংশ এর মধ্যে পাওয়া গেছে। নিম্ন-আয়ের দেশে কার্ডিওলজি ইউনিটে প্রায়ই নন-কার্ডিয়াক সমস্যাযুক্ত রোগী ভর্তি হয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে এসব জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। 
সহকারী অধ্যাপক ডা. সাগর চৌধুরী বলেন, কার্ডিওভাসকুলার রোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে এবং বিশেষায়িত কার্ডিওলজি ইউনিটগুলো রোগীর সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসায় অগ্রগতি সত্ত্বেও কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি থাকা কিছু রোগী মৃত্যুবরণ করেন। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল- হাসপাতালে মৃত্যুহার নির্ধারণ করা এবং একটি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালের কার্ডিওলজি ইউনিটে মৃত রোগীদের ক্লিনিক্যাল ও জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা। কার্ডিওলজি ইউনিটগুলোতে চাপ অনেক বেশি। দ্রুত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, অ্যাকিউট করোনারি সিন্ড্রোম ও হার্ট ফেইলিউরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং জটিল বা নন-কার্ডিয়াক সমস্যার প্রাথমিক শনাক্তকরণ রোগীর বেঁচে থাকার হার উন্নত করতে পারে।
তিনি বলেন, বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে যদিও পুরুষ রোগী বেশি, তবুও বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার মৃত্যুহার বেশি দেখা যায়। অ্যাকিউট হার্ট ফেইলিউর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ইস্কেমিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও ভালভুলার (যখন হৃদপিণ্ডের এক বা একাধিক ভালভ সঠিকভাবে কাজ করে না) রোগের কারণে এর প্রকোপ বেশি। কম বয়সীদের মধ্যেও হার্ট ফেইলিউর বাড়ছে।

রিটেলেড নিউজ

মেয়াদ ফুরাল, নির্বাচন হলো না

মেয়াদ ফুরাল, নির্বাচন হলো না

আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত


রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযান: মাদক কারবারি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ১২

রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযান: মাদক কারবারি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ১২

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত


সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে? নিরাপদ সড়কের দাবি দেশজুড়ে

সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে? নিরাপদ সড়কের দাবি দেশজুড়ে

মো.আরফান উদ্দীন  : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত


মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নীরব কূটনীতি, অনুত্তরিত প্রশ্ন ও রাষ্ট্রের দায়

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নীরব কূটনীতি, অনুত্তরিত প্রশ্ন ও রাষ্ট্রের দায়

আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত


লায়ন্স ও লিও ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এলিটের উদ্যোগে দিনব্যাপী সেবামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

লায়ন্স ও লিও ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এলিটের উদ্যোগে দিনব্যাপী সেবামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত


বরেণ্য কবি নূরুল হকের সাথে লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বরেণ্য কবি নূরুল হকের সাথে লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর