শিরোনাম
রিপোর্টার | ০৭:৪২ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫
তিন সপ্তাহ পর পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই গরু-ছাগলের খামারি, বেপারী, হাটের ইজারাদারদের ব্যস্ততার শেষ নেই। এর মধ্যে নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ তিনটি হাট ইজারা দিয়ে চসিকের আয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর বাইরে কোরবানি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো অন্তত ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেবে চসিক। যদিও চসিকের ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা নির্ভর করছে জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমোদনের ওপর। চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকা এবার ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হচ্ছে ফজলে আলিম চৌধুরীকে। মুরাদপুরের বিবিরহাট ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইলকে। এ ছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়। এসব পশুর হাট এক বছরের জন্য (বাংলা সন) ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালে বিবির হাট বাজার ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও পোস্তার পাড় ছাগলের বাজার ১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল। গতবছর সাগরিকা বাজার ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশন করেছিল চসিক। ২০২০ সালে সাগরিকা পশুর হাট ইজারামূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিবিরহাট বাজার ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ইজারা সংক্রান্ত বিধি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি নানা কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্য বেশি মনে হলে ইজারাদাররা অনেক সময় দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। চসিকের রাজস্ব আহরণের অন্যতম বড় খাত স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা। এর আগে সাগরিকা ও বিবিরহাটে ইজারাদার না পাওয়ায় খাস কালেকশনে বাধ্য হয়েছিল চসিক। যদিও খাস কালেকশনে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হয় অনভিজ্ঞতা, হাসিল চুরি, কর্মীদের মজুরি, বাজার ব্যবস্থাপনা খরচ, অপচয়সহ নানা কারণে। সাগরিকা বাজারের ইজারা পেতে দরপত্র জমা দেন চারজন। এর মধ্যে একজন বাংলানিউজকে বলেন, চসিকের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ইজারা প্রক্রিয়া শেষ হতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এদিকে কোরবানি দরজায় কড়া নাড়ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারীদের জন্য জায়গা বরাদ্দ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, হাসিল আদায়ের বুথ তৈরি, কর্মী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনাসহ প্রচুর কাজ বাকি। অথচ একটি পশুর হাটে এক বছরে যে আয় হয় তার ৭০ ভাগ কোরবানির বাজারে হয়ে থাকে। বাকি ৩০ ভাগ হয় বাকি ১১ মাসে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নানা জটিলতার কারণে পশুর হাট ইজারায় আগের মতো লাভ হচ্ছে না। প্রথমত প্রতি বছর ইজারামূল্য বাড়ছে। ব্যবস্থাপনাগত খরচ বাড়ছে। তারওপর অনলাইনে পশু বিক্রি হচ্ছে, অনলাইনে ভাগা কোরবানি হচ্ছে, নগরজুড়ে অলিগলিতে প্রভাবশালীদের পশুর হাট বসছে। তারপরও ইজারা দিলে চসিক মোটাদাগে বেশি রাজস্ব পায়। আট কোটির পশুর হাট খাস কালেকশনে পাঁচ কোটি আদায় করতেও কষ্ট হবে। চসিকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অস্থায়ী পশুরহাট ৬টির অনুমোদন প্রায় চূড়ান্ত। এর মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত তিনটি ইজারা নিতে আগ্রহ নেই কারও। তারপরও রাজস্ব আহরণ ও নগরবাসীর সুবিধার্থে সঠিক লোকেশনে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে চাইছে চসিক। কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে আশাকরি। ইজারাদারদের শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, চসিকের স্থায়ী ও অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোরবানি উপলক্ষে যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। প্রতিবছর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করি। এবারও অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, অবৈধ হাটের কারণে শুধু যে চসিকের রাজস্ব বা ইজারাদার হাসিল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় তা নয় একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, পেশি শক্তির প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, যানজট সৃষ্টি, পশুর গোবর পরিষ্কার না করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তাহীনতাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। বৈধ কোরবানির পশুর হাটে জাল বুথ শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত আলোকায়ন, গোখাদ্য সরবরাহ, গরু বাঁধার ছাউনি, পশুর গোবর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প ও টহল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। অবৈধ হাটগুলোতে এসব থাকে না। স্থায়ী পশুর হাটের বাইরে আরও ১৪টি সাধারণ হাট-বাজার ইজারা দিয়েছে চসিক। এর মধ্যে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ১ কোটি ৫৬ লাখ, কাজীর হাট ১ কোটি ৩৮ লাখ ২ হাজার, কর্নেল হাট ২৭ লাখ ৫ হাজার, ফইল্যাতলি বাজার ২০ লাখ ২৭ হাজার, ফিরিঙ্গিবাজার ৪ লাখ ৫ হাজার, হাজি আব্দুল আলী আর্কেট (বেইজমেন্ট) ৭ লাখ ১৫ হাজার, দেওয়ান হাট (বেইজমেন্ট) ৭ লাখ ৭৫ হাজার, বকশির হাট ১৪ লাখ ৯৯ হাজার, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার ১১ লাখ ৫২ হাজার, আনন্দবাজার ২ লাখ ৭০ হাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার ১২ লাখ ৪০ হাজার, কমল মহাজন হাট ২৬ হাজার, নয়াহাট ৯০ হাজার এবং বেপারীপাড়া কাঁচাবাজার ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা হয়েছে এ বছর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চসিক পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর কর, বিজ্ঞাপন কর, সপসাইন ফি, প্রমোদ কর, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন ফি, এস্টেটসহ বিবিধ খাতে মোট রাজস্ব আহরণ করেছিল ৩৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (৩০ এপ্রিল পর্যন্ত) চসিকের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited