শিরোনাম
মুনীর চৌধুরী : | ১২:১২ এএম, ২০২৬-০৭-১৮
একই নামে দীর্ঘদিনের নিবন্ধিত ও সরকারি তালিকাভুক্ত সংবাদপত্র সচল থাকার পরও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কর্তৃক হুবহু সেই নামেই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালুর উদ্যোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। চসিকের আগের ছয়টি ডিজিটাল প্রকল্পই রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার পর, নতুন এই বিপুল ব্যয়ের অ্যাপটির স্থায়িত্ব ও নামকরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে খোদ চসিকের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কখনো তেল চুরি ঠেকানো, কখনো হোল্ডিং ট্যাক্স আত্মসাৎ রোধ, আবার কখনো মশক নিধনের তদারকি—বিগত বছরগুলোতে একের পর এক ডিজিটাল অ্যাপ ও সফটওয়্যার চালুর হুজুগ দেখা গেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক)। তবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব অ্যাপের একটিও সচল রাখতে পারেনি সংস্থাটি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দক্ষ জনবলের সংকট এবং অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ভেস্তে গেছে আগের অন্তত ৬টি ডিজিটাল উদ্যোগ।
এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্যেই এবার প্রায় তিন কোটি (৩০ মিলিয়ন) টাকা ব্যয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে নতুন একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ উদ্বোধন করতে যাচ্ছে চসিক। তবে উদ্বোধনের আগেই এই অ্যাপটি ঘিরে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী সংকট। একদিকে রয়েছে আগের প্রকল্পগুলোর মতো অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা, অন্যদিকে যুক্ত হয়েছে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রের নাম হুবহু নকল করার গুরুতর আইনি অভিযোগ।
টেবিলে প্রতিদিন যে পত্রিকা, সেই নামেই অ্যাপ: 'অজ্ঞতা' নাকি উদাসীনতা?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (DFP) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত একটি প্রথম সারির আঞ্চলিক দৈনিক, যা দীর্ঘ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই পত্রিকাটি প্রতিদিন নিয়ম করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র দপ্তর, জনসংযোগ শাখা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ টেবিলগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে পত্রিকার নাম চসিকের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকালে নিজেদের টেবিলে দেখছেন, সেই একই নাম হুবহু ব্যবহার করে কোটি টাকার সরকারি অ্যাপ তৈরি করা কীভাবে সম্ভব? আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নামকরণের ক্ষেত্রে "জানতাম না" বা "অজ্ঞতা"র অজুহাত দেওয়ার সুযোগ চসিকের নেই। এটি চরম প্রশাসনিক অপেশাদারিত্ব এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সুনাম বা ‘গুডউইল’ ক্ষুণ্ন করার শামিল।
আইনি মারপ্যাঁচে চসিক: ট্রেডমার্ক ও পাসিং অফ মামলার ঝুঁকি:
বাংলাদেশ ট্রেডমার্কস ও কপিরাইট আইন অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নাম হুবহু ব্যবহার করে অন্য কোনো সত্তা ডিজিটাল সেবা বা অ্যাপ চালু করলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি (Deception/Confusion) তৈরি করে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, চসিকের এই অ্যাপের বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি, নাগরিক ক্ষোভ বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার নেতিবাচক প্রভাব পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিনের সুপরিচিত ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’ পত্রিকার ওপর পড়বে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ যদি চসিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাড ফেইথ’ বা অসদুপায়ে নাম ব্যবহারের অভিযোগে আদালতে ‘পাসিং অফ’ (Passing Off) মামলা বা রিট দায়ের করে, তবে প্রতিদিন চসিকে পত্রিকা সরবরাহের বিষয়টি চসিকের বিপক্ষেই সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
অথচ, সামান্য দূরদর্শিতা দেখালে এই বিতর্ক এড়ানো যেত। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বোদ্ধাদের মতে, চসিক চাইলে সরকারি ডিজিটাল রীতির সাথে মিলিয়ে ‘আমার সরকার’ বা ‘আমার স্কুল’ অ্যাপের আদলে এর নাম ‘আমার চট্টগ্রাম’ রাখতে পারত। এতে যেমন নাগরিকদের ব্যক্তিগত মমত্ববোধ বাড়ত, তেমনি এড়ানো যেত আইনি জটিলতা।
আগের ৬ অ্যাপের ভূত: ৩ কোটি টাকাও কি যাবে জলে? :
চসিকের আইটি শাখা সূত্র নিশ্চিত করেছে, এর আগে গাড়িগুলোর জ্বালানি চুরি ঠেকাতে ট্র্যাকিং সিস্টেম, ট্যাক্স আদায়ে বিশেষ ড্যাশবোর্ড এবং মশার ওষুধ ছিটানো তদারকির অ্যাপগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল। কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল ব্যয়ের পর সেগুলো এখন আইটি বিভাগের ফাইলবন্দী মৃত প্রজেক্ট।
নতুন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপটি পরিচালনার জন্য যে ধরণের উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন ও নিবেদিত আইটি সেল প্রয়োজন, তা চসিকের নেই। আউটসোর্সিং বা থার্ড-পার্টি এজেন্সির মাধ্যমে অ্যাপটি তৈরি করা হলেও, মাঠ পর্যায়ে নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স বা জন্মনিবন্ধনের মতো ১০টি সেবা সচল রাখার মতো চসিকের নিজস্ব স্থায়ী দক্ষ জনবল নেই বললেই চলে। ফলে উদ্বোধনের রাজকীয় উৎসব শেষ হলে, এই ৩ কোটি টাকাও আগের প্রকল্পগুলোর মতো ভেস্তে যাবে কিনা—তা নিয়ে নগরবাসীর মনে তীব্র সংশয় রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই নামকরণের বিতর্ক ও অ্যাপের স্থায়িত্ব নিয়ে চসিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অ্যাপটি মূলত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর (CSR) তহবিলের অর্থায়নে তৈরি এবং এটি অলাভজনক নাগরিক সেবা। তবে একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের নাম হুবহু ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি যাচাই বা ‘মার্কেট রিসার্চ’ করা হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক।
অন্যদিকে, পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। তারা তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ ও দীর্ঘদিনের পাঠকপ্রিয়তা রক্ষায় প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
নগরবিদদের মতে, ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা চসিকের দায়িত্ব, কিন্তু তা করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার অপচয় এবং আইনি মারপ্যাঁচে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৩ কোটি টাকার এই অ্যাপ শেষ পর্যন্ত নগরবাসীর ভাগ্য বদলাবে, নাকি শুধু আরেকটি ব্যর্থ ডিজিটাল স্মারক হিসেবে চসিকের ডাস্টবিনে জমা হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited