শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৮:০২ পিএম, ২০২৬-১০-০৪
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় গভীর রাতে নির্মাণকাজে নিয়োজিত দুই শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁদের মুক্তির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন ও আলীকদম থানা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
৩ অক্টোবর সকালে থানচি সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নির্জন পাহাড়ে মধ্যরাতের আতঙ্ক:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের আওতায় বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় দোকান প্লট ও পর্যটন স্পট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে হেডমাঝি এরশাদের নেতৃত্বে চারজন শ্রমিক সেখানে নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চার সদস্যের একটি সশস্ত্র দল নির্মাণস্থলে আসে বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সশস্ত্র দলটি অস্ত্র প্রদর্শন করে চার শ্রমিকের মধ্যে আমিন (২৮) ও শামুসু (৩৮) নামের দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যায়। একই সময় ঘটনাস্থলে থাকা অপর দুই শ্রমিকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আমিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায়। অপর শ্রমিক শামুসু আলীকদমের ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সশস্ত্র দলের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অপর একজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুই শ্রমিকের দুঃসাহসিক পালিয়ে ফেরা:
ঘটনার সময় একই স্থানে থাকা অপর দুই শ্রমিক মো. ইমরান (১৭) ও সাহিদুল ইসলাম (১৬) কোনোভাবে সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হন। পরে কিছু দূর হেঁটে মোটরসাইকেলযোগে তাঁরা আলীকদমে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে।
ইমরান বটতলী পাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আমির হোসেন। সাহিদুল ইসলামও একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম শফিউল আজম। বর্তমানে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মুক্তির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা!:
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে হেডমাঝি এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপহরণকারীরা। এ সময় দুই শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগে ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল নম্বরের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পাহাড়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান:
ঘটনার খবর পাওয়ার পর আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলমের নেতৃত্বে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন ও আলীকদম থানা পুলিশ অপহৃত শ্রমিকদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও অভিযান শুরু করে।
২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট দল থানচি সড়কের ডিম পাহাড়সংলগ্ন ২৩ কিলোমিটার এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করে।
উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয় পর্যায়েও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন সাবেক আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। তাঁর উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয় বলে জানা গেছে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান, বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে অবহিত করা হয়েছিল। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়।
শেষ পর্যন্ত মিলল দুই শ্রমিকের সন্ধান:
সর্বশেষ ৩ অক্টোবর সকালে থানচি সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা থেকে অপহৃত দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধারের পর তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
কে বা কারা জড়িত উত্তর খুঁজছে পুলিশ:
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ পারভেজ জানান, দুই শ্রমিককে অপহরণের বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। পরে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গা ও দস্যুতা সংগঠনের অভিযোগে একাধিক মামলার আসà...বিস্তারিত
আনোয়ারা, প্রতিনিধি :: : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে মো. আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের টানা ৩২ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ডাকাত...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর মুরাদাবাদ এলাকায় অস্ত্র মামলার আসামি বা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বান্দরবানের আলীকদমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited