শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৬:৪৮ পিএম, ২০২৬-০৪-১৯
দেশবরেণ্য রম্য সাহিত্যিক শফিক হাসান—প্রায় তিন দশক ধরে অবিরাম সৃজনশীলতায় দু’হাতে লিখে চলেছেন। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল বিচরণ তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য স্বাতন্ত্র্য। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বইমেলায় তাঁর সঙ্গে সাহিত্যের নানামাত্রিক প্রসঙ্গ নিয়ে প্রাণবন্ত আলাপ হয়। সেই বিস্তৃত কথোপকথনের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য নিচে উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর সাহিত্য সম্পাদক আবদুল্লাহ মজুমদার।
আপনার লেখালেখির শুরুর গল্পটা জানতে চাই। কীভাবে রম্য লেখালেখিতে আসা?
শফিক হাসান : শৈশব থেকেই পড়তে ভালো লাগত। গোগ্রাসে পড়তাম দৈনিক ইত্তেফাকের কচি-কাঁচার আসর। আরও পত্রিকা তো ছিলই। সঙ্গে এপার-ওপার বাংলার নানা স্বাদের বই। বইয়ে মানে গল্প-উপন্যাসে থাকে নানা রকম চরিত্রের সমাবেশ। পড়তে পড়তে মনে হতো এখানে যদি আমার নামটা মুদ্রিত থাকত! সাদা বা রুপালি পর্দায় নিজেকে দেখা আর নিজের নাম মুদ্রিত অবস্থায় দেখার মোহ বোধকরি অনেকেরই থাকে। আমারও ছিল। এভাবেই বোধহয় লেখকসত্তার বীজ ভেতরে রোপিত হচ্ছিল।
শৈশবে দৈনিক প্রথম আলোর আলপিন ও দৈনিক যুগান্তরের বিচ্ছু ছিল পাঠতালিকার মজাদার রসদ। বিচ্ছুতে ছিল ‘কুপরামর্শ’ বিভাগ। একদিন সাহস করে একটা প্রশ্ন পাঠিয়ে দিই। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেটা ছাপাও হয়ে যায়। একসময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আগমন ঘটে আমার। তখন জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচুর রম্য লিখতে হয়েছিল। বাণিজ্যিক ধারার লেখা, শুধু টাকার জন্য। পত্রিকার পাতা ভরানোর জন্য!
প্রথম লেখা কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল? সেই অনুভূতিটা কেমন ছিল?
শফিক হাসান : আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল রহস্যপত্রিকায়, সেবা প্রকাশনীর মাসিক ম্যাগাজিন এটা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি। তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার জন্য। তখন তো কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ছিল না আমাদের। বিনোদন বলতে ছিল বই ও নানা স্বাদের পত্রপত্রিকা। সম্পাদক কাজী আনোয়ার হোসেন বরাবর একটা প্রশ্ন পাঠিয়েছিলাম। সেটা প্রকাশিত হওয়ার পর নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না, আমার লেখা ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হতে পারে। কিছুক্ষণ পরপর, বারবার পত্রিকার পাতা উল্টে দেখছিলাম। তৃষ্ণা মিটছিল না যেন। এটা ছাপা হয়েছিল সফি আলম নামে, দ্বিতীয় লেখা ছাপা হয়েছিল বিচ্ছুতে, প্রায় পাঁচ বছর পরে। বিচ্ছুর লেখাটা ছিল মো. শফিকুল ইসলাম আমার ন্যাশনাল আইডির নামে। ২০০৯ সালের দিকে বাধ্য হয়ে আমি শফিক হাসান নাম ধারণ করি।
তিন দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা কী ছিল?
শফিক হাসান : ওই অর্থে আমার কোনো প্রেরণা ছিল না। বোধকরি এখনো নেই। পরিকল্পনা করে লেখালেখি শুরু হয়নি। এলোমেলোভাবে এগিয়েছে। এখনো আমার সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই। তবে কিছু স্বপ্ন তো থাকেই, যেটা প্রায় সব লেখকই বপন করেন।
আপনার লেখার বিষয়বস্তু ও আগ্রহ কী?
শফিক হাসান : এক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকিনি। বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছি। লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা যেমন করেছি, তেমন রম্য ম্যাগাজিনে চটুল লেখাও লিখেছি প্রচুর। এটা দেখে আমাদের অগ্রজ লেখক মাইনুল এইচ সিরাজী একবার প্রশ্ন করেছিলেনÑ আপনি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন আবার রম্যও লেখেন; কীভাবে! তাঁকে জবাব দিয়েছিলাম কোনোটার সঙ্গেই কোনোটা সাংঘর্ষিক নয়। যে আমি চা বানাতে পারি, সেই আমিই খিচুড়িও রাঁধতে পারি।
আমার আগ্রহ বিচিত্র বিষয়ে। তবে আগ্রহের পেছনে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারিনি। এক বসায় লেখা যায়, এমন লেখাই প্রচুর লিখেছি। একদিনে একাধিক লেখা লিখতে হয়েছে। যেমন গতকাল এক বসায় দুইটা লেখা লিখেছি। ফরমায়েশি লেখা। দৈনিক যুগান্তরের বিচ্ছুতে প্রকাশিত হবে।
আপনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে আসছেন। কোন কোন বিষয় নিয়ে বেশি লেখালেখি করেছেন?
শফিক হাসান : এই প্রশ্নের জবাব বোধকরি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। রম্য লেখা বেশি লিখেছি। নিজেকে বিক্রি করেছি সস্তা দামে। সংবাদপত্রে চাকরির সুবাদে প্রচুর প্রতিবেদনসহ প্রচ্ছদ রচনাও লিখেছি। সেটা নিশ্চয়ই এই প্রশ্নের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। এখনো আমি রম্য লিখি টাকার জন্য, নিষ্ঠুর ঢাকা শহরে টিকে থাকার জন্য।
কোন বিষয়গুলো নিয়ে লিখতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং কেন?
শফিক হাসান : আমার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা ছোটগল্প। যদিও সেটা সহজে বা তরতর করে লেখা যায় না। প্রচুর শিখা পোড়ার পরে তবেই মোক্ষলাভ ঘটে। এর বাইরে সম্পাদকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রচুর লিখেছি। টাকার বিনিময়ে অন্যদেরও কিছু কিছু লেখা লিখে দিয়েছি। তাদের নামে প্রকাশিত হয়েছে। ধারাবাহিক নাটকও লিখে দিয়েছি। পর্যাপ্ত টাকা পাইনি। অনেকেই ঠকিয়েছে আমাকে। সম্পাদক বা ঊর্ধ্বতন কেউ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে লিখতে বলেছেন আর আমি লিখিনি বা লিখতে পারিনি এমন ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি।
সময়ের সাথে কি আপনার লেখার বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন এসেছে?
শফিক হাসান : পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। গত মাসে আমি যে লেখাটা যেভাবে লিখেছি, আজ কিন্তু সেভাবে লিখব না। একটু হলেও পরিবর্তন আসবে। আবার কয়েক বছর আগে যেটা লিখেছিলাম, সেটা এখন পড়লে লজ্জা লাগে। হয়তো এখন যে লেখাটা লিখছি, ভবিষ্যতে এটার জন্যও আমাকে লজ্জিত হতে হবে! অনেকেরই লেখার শুরুতে প্রেম-ভালোবাসাটা তুমুল মাত্রায় থাকে। আমারও ছিল। ধীরে ধীরে প্রেম-পিরীতির প্রকোপ কমে এসেছে। প্রেম ছাড়া কোনো লেখাই হয় না, প্রচ্ছন্নভাবে থাকেই।
প্রকাশিত বই ও ধরন। এ পর্যন্ত আপনার কতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে?
শফিক হাসান : এখন পর্যন্ত আমার ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। ছোটগল্পের বই ৩টি প্রতিদিন একটি খুন, স্বপ্নময়ী একাকী, খোলস।
রম্যগল্পের বই ১২টি সবার উপরে ছাগল সত্য, নোমান মামার সমাজসেবা, পাতালের তারকা, ঘরজামাই পর-জামাই, লোকাল ক্যাচাল, এক থাপ্পড়ে দুই মশা, ফরমালিনের রাজ্যে ফল চিরঞ্জীব, অটোগ্রাফের ফাঁদে, ইট ছুড়লে পাটকেল ফ্রি, সংসার সুখের হয় পুরুষের গুণে, ঘোলা জলে সোনা ফলে, আমজনতার কাঁঠাল খাওয়া।
সাক্ষাৎকার বই ২টি গল্প-কথায় ৩৫ গল্পকার, মুখোমুখি রতনতনু ঘোষ।
সম্পাদিত বই ৩টি প্রকাশ নির্বাচিত গল্পবিষয়ক প্রবন্ধ, কাশির চেয়ে হাসি ভালো (রম্যগল্প), ফেসবুক রঙ্গ রসিকতা (রম্য)।
জীবন ও কর্ম-বিষয়ক ১টি চিকিৎসা সেবায় শাহলা খাতুন।
ভ্রমণকাহিনী বই ১টি দেখি বাংলার মুখ।
প্রবন্ধ বই ১টি নীতিকবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ।
গবেষণা বই ১টি লেখা অলেখা চিঠি।
কবিতার বই ১টি ঘুমের বাদ্যে রাষ্ট্র নাচে।
শিশুতোষ গল্পবই ২টি মানুষও উড়বে আকাশে, নতুন জামার আনন্দ।
আপনার প্রকাশিত বইগুলো লোকাল ক্যাচাল, ইট ছুড়লে পাটকেল ফ্রি, ঘরজামাই পরজামাই, অটোগ্রাফের ফাঁদ, ঘুমের বাদ্যে রাষ্ট্র নাচে, খোলস, প্রতিদিন একটি খুন এগুলো নিয়ে সংক্ষেপে বলবেন?
শফিক হাসান : এখানে ছোটগল্প, রম্যগল্প, কবিতার বইয়ের নাম আছে। সমসাময়িক নানান বিষয় যেমন একজন লেখককে তাড়িত করে, সেটাই ফুটে ওঠে রচনায়। বইগুলো বিভিন্ন সময়ে লেখা। তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়-আশয়ের দেখা মিলবে এখানে। সংক্ষেপে বলা সম্ভব হবে না। এত বড় স্পেস পত্রিকা দিতে পারবে বলে মনে হয় না।
আপনার বইগুলো মূলত কোন ধরনের রম্যরচনা, ব্যঙ্গ, গল্প নাকি ভ্রমণধর্মী লেখা?
শফিক হাসান : সব ধরনের লেখাই আছে। রম্যরচনা ও ব্যঙ্গরচনা আলাদা কিছু নয়। রম্যের ভেতরেই ব্যঙ্গ থাকে কিংবা ব্যঙ্গ’র ভেতরে রম্য। প্রকাশিত সব ধরনের বইয়ের নামই বলেছি। আশা করছি এখান থেকে পাঠক জবাব খুঁজে পাবেন।
আপনার লেখা ‘দেখি বাংলার মুখ’-এর মতো ভ্রমণধর্মী রম্য লেখার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
শফিক হাসান : দেখি বাংলার মুখ ভ্রমণকাহিনী, রম্য নয়। তবে সব লেখাতে রম্য প্রচ্ছন্নভাবে হলেও থাকে। সেটা হয়তো কেউ খুঁজে পাবেন। দীর্ঘদিন ভ্রমণকাহিনী লেখার পর বইটা প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমে করেছিল পারিজাত প্রকাশনী। পরে বর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন।
আপনার কোন বইটি আপনি নিজের সেরা কাজ বলে মনে করেন এবং কেন?
শফিক হাসান : এভাবে সেরা নির্ধারণ কঠিন। নিজের কোনো বইকে ‘অসেরা’ মনে হলে সেটা নিশ্চয়ই প্রকাশ করতাম না। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘প্রতিদিন একটি খুন’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। এটা নিয়ে একধরনের আবেগ আছে। ভালোলাগা আছে। স্মৃতি আছে। অন্য লেখকদেরও যেমন থাকে!
রম্য লেখার দর্শন ও ধরন। আপনি রম্য লেখাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন?
শফিক হাসান : সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিনই। কারণ কোনো সংজ্ঞাই শেষপর্যন্ত মোক্ষম কিছু নয়। সংজ্ঞার বাইরেও অনেক কিছু হয়, হবে। ভালো লেখক সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে গিয়ে নিজস্ব ঘরানা সৃষ্টি করেন। অনেক কথা আছে, যেগুলো আমরা সরাসরি বলতে পারি না। নানান দিক থেকে রক্তচক্ষুর ভয় থাকে। এমন অবস্থায় রঙ্গ-ব্যঙ্গের ছলে কিছু কথা বলা যায়। প্রাজ্ঞ পাঠক এখান থেকেই প্রয়োজনীয় মেসেজ পেয়ে যান। বোঝেন, কীভাবে কী বলা হয়েছে! কোন কথাটা বলার জন্য রূপকের আশ্রয় নিতে হয়েছে।
আপনার লেখায় হাসির আড়ালে কি সচেতনভাবে কোনো বার্তা থাকে?
শফিক হাসান : সব লেখাতেই কোনো না কোনো বার্তা থাকে। ‘বার্তা’ হচ্ছে লেখার প্রাণ। বার্তা কিংবা দর্শন না থাকলে সেই লেখা শেষপর্যন্ত দাঁড়ায় না। ভিত মজবুত হয় না। আমার লেখায়ও সচেতন বা অবচেতনভাবে কোনো না কোনো বার্তা থাকে। মনোযোগী পাঠক বার্তা যদি খুঁজে নিতে পারেন আর কী!
একজন ভালো রম্য লেখকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ কী বলে মনে করেন?
শফিক হাসান : সময়কে বুঝতে পারা, সময়ের ভাষা রপ্ত করতে পারাটা জরুরি। রসবোধ থাকাটাও। রসবোধ মানে ছ্যাবলামি নয়, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর পাঁয়তারাও নয়। এটাকে হতে হয় কোমলে-কঠোরে মেশানো ধারা। সবচেয়ে বড় কথা, থামতে জানা জানাটা জরুরি। সব কথা বলে দেওয়া রম্য লেখকের কাজ নয়। কিছু কথা তিনি বলবেন, এই বলার ভেতরেই কিছু কিছু কথা থাকবে ‘অ-বলা’, উহ্য।
অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তন। গত ৩০ বছরে বাংলা রম্য সাহিত্যে কী ধরনের পরিবর্তন দেখেছেন?
শফিক হাসান : ওই অর্থে বড় কোনো পরিবর্তন দেখিনি। বরং রম্য লেখক ও রম্যের পাঠক কমেছে। আগে রম্য লেখার প্লাটফর্ম ছিল। তারপর তো একে একে নিভিছে দেউটি। ফলে লেখকের পাশাপাশি পাঠকও ‘হাওয়া’ হতে শুরু করেছে। অবশ্য রম্যসাহিত্যকে হালকা, লঘু ও গুরুত্বহীনভাবে দেখা হয়। এই দমিয়ে রাখার পেছনে দৈনিকের সাহিত্য পাতা ও ম্যাগাজিনগুলোর অদূরদর্শিতা ও অজ্ঞতাকেই দায়ী করতে হয়। এটাকে অনেকেই সিরিয়াস সাহিত্য হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলা একাডেমি বা অন্যান্য পুরস্কারদাতা প্রতিষ্ঠান কখনো রম্য সাহিত্যে পুরস্কার দেয় না। রম্য লেখককে এখানে ভাসুর বা অচ্ছুৎ জ্ঞানে আড়ালে রাখা হয়।
প্রিন্ট মিডিয়া থেকে অনলাইন এই পরিবর্তন আপনার লেখালেখিতে কী প্রভাব ফেলেছে?
শফিক হাসান : বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি। দুই মাধ্যমেই আমি লিখছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে কাগজে লিখতে পছন্দ করি। এটাই তুলনামূলক স্থায়ী মাধ্যম। সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ভালো। কাগজ কিনতে হয় না বলে এখন অনলাইন ওয়েব পোর্টালের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট লিংকটা মুছে দিলে কিংবা ওয়েবসাইটের ‘আয়ু’ ফুরালে তো সবই শেষ। কেঁদে-কেটেও এই লেখা আর পুনরুদ্ধার করা যাবে না। সবই হাওয়া হয়ে যায়!
পাঠকের রুচিতে কি পরিবর্তন এসেছে? এ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
শফিক হাসান : পাঠক কোথায়! মানুষ তো বই ও পত্রিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন ফেসবুকে সস্তা রিলস দেখতেই অনেকের আগ্রহ। ইউটিউব আছেই দুনিয়ার তাবত বিনোদনের ডালপালা নিয়ে। তবে সংখ্যায় কম হলেও পাঠক আছে। এই পাঠকের মৃত্যু হয়নি। হবেও না। যারা ভাবতে পছন্দ করেন, চিন্তাশীল মানুষ তারা অবশ্যই পড়েন, পড়বেন।
চ্যালেঞ্জ ও মজার ঘটনা। রম্য লেখালেখিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
শফিক হাসান : রম্য লেখার জন্য সাহস কিংবা দুঃসাহস থাকাটা জরুরি। যে রাঘব-বোয়াল লেখক খেলবেন তাদের পাল্টা আঘাত সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবে সুখের (আদতে দুঃখের) বিষয় হচ্ছে, আমাদের এখানে কেউই আর পড়েন না। ফলে ‘নিন্দার কাঁটা’ গায়ে মাখার সময় কই তাদের! কারও গায়েই কিছুটি লাগছে না, বিছুটির হুলও পড়ছে না, এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে ‘পাঠকশূন্য’ পরিস্থিতিতেও লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে রম্য লেখকের।
লেখালেখির পথে কোনো মজার বা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?
শফিক হাসান : সুযোগ পেলেই আমি ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ি। একবার রংপুরে যাচ্ছিলাম। বাসের সুপারভাইজার টিকিট চেক করতে এসে বললেন, আপনি অমুক না? হ্যাঁ বলার পর তিনি আমার সম্বন্ধে অনেক কিছুই বলে গেলেন তরতর করে। ভেতরে ভেতরে ভড়কে গেলাম। পেছনে ফেউ লাগেনি তো! তখন একটা জাতীয় দৈনিকে সাব এডিটর পদে কাজ করি। ডেস্কে বসে প্রায়ই লিড নিউজ লিখি। বাইনেমে ছাপা হয়। আমার আশঙ্কার গোড়ায় পানি ঢেলে দিয়ে তিনি আবার বললেন, আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। আপনি ভাই গ্রহণ করলেন না!
একসময় তিনি আমার লেখা পড়তেন। মোবাইল ফোনে কথাও হতো। একপর্যায়ে শারীরিক স্বাস্থ্য অবনতির কারণে চাকরি ছেড়ে দিতে হয় তাকে। তারপর থেকে গণপরিবহনে কাজ করেন।
আরেকবার আমি দিনাজপুর শহরের রাস্তায় হাঁটছি। অবাক হয়ে দেখলাম একটা র্যালি আসছে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের কবিরা ব্যানার নিয়ে র্যালি করছেন। বিষয়টা অবাক লাগল, তাই ধার-করা ক্যামেরাটা বের করে ছবি তুলতে শুরু করলাম। হঠাৎ র্যালি থেকে বেরিয়ে এলেন একজন। সামনে এসে বললেন, আপনি শফিক হাসান না?
এক রাতে দেখা হয়েছিল। হিরণয় হিমাংশু পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন কাহারোলের বাসিন্দা প্রফুল্ল রায় সদাশীত কবি, ঔপন্যাসিক ও ছোটকাগজ সম্পাদক। তার সঙ্গে অল্প সময়ে পরিচয় যে এতদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি। তিনি আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেখানে আরেক অভিজ্ঞতা!
সম্প্রতি অপরিচিত দুজনকে বিশেষ দরকারে কল করেছি। আমি নাম বলার পর শুনতে হয়েছে আমি আপনাকে চিনি। আপনার ফেসবুক আইডিতে যুক্ত আছি। এসব নিঃসন্দেহে আমার জন্য ভালোলাগার ঘটনা।
কখনো কি লেখা নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনার মুখে পড়েছেন? সেটা কীভাবে সামলেছেন?
শফিক হাসান : একবার বড় একটা বিতর্কের মুখে পড়েছিলাম। বিভাগীয় সম্পাদক নিজেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলেন। দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক তখন বিদেশে অবস্থান করছিলেন। কিছুক্ষণ পরপর বিভাগীয় সম্পাদক আমাকে কল করে ধমক দিয়ে বলতেন ‘আপনি ওই লাইনটা কেন লিখলেন! এটা কেন করলেন?’ তিনি নিজেও নাকি লেখাটা ভালোভাবে পড়েননি। বড় কোনো ঝামেলায় গড়ানোর আগেই শেষপর্যন্ত সমস্যাটা মোকাবেলা করা গেছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস। লেখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা রুটিন আছে?
শফিক হাসান : একসময় সকালে ঘুম থেকে উঠে লিখতাম। এখন ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। আগের মতো লেখালেখির পেছনে অত সময় দিতে পারি না। পারিবারিক জীবনের হ্যাপা কম নয়। এখন সম্পাদকরা লেখা চাইলে লেখাটা সময়মতো দেওয়ার চেষ্টা করি। এখানে সময়-অসময় বিবেচ্য নয়; লেখাটাই শেষ করতে পারলাম কিনা সেটাই হচ্ছে কথা।
দৈনন্দিন জীবনের কোন বিষয়গুলো লেখার উপকরণ হয়ে ওঠে?
শফিক হাসান : নির্দিষ্ট কোনো বিষয় উঠে আসে না। বলতে গেলে যে লেখায় যখন যা দাবি করে সেটাই উঠে আসে। তবে এটা ঠিক যাপিত জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ লেখায় বিরাজ করে। আমি নির্দিষ্ট কোনো গ-িতে আবদ্ধ নই। আলোকিত বা অনালোকিত সব পথেই আলোকসম্পাতের চেষ্টা করি।
লেখালেখির বাইরে প্রিয় কাজ কী?
শফিক হাসান : বই পড়ি, সিনেমা দেখি, ভ্রমণ করি। হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হয় কমই। স্মার্টফোনে ওটিটি কনটেন্ট দেখতেই বেশি পছন্দ করি। একটা সময় ছিল ভ্রমণের টাকাটা জোগাড় হলেই আমি যে কোনো একদিকে চলে যেতাম। এখন তেমনটা হয় না। তবে ভ্রমণ থামেনি। বছরের অন্য সময়গুলোতে ফুরসত না পেলে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। যদিও এতে আশপাশের লোকজনের ভ্রু কুটি দেখতে হয়।
নতুন প্রজন্ম ও পরামর্শ। নতুন যারা রম্য লেখালেখি শুরু করতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
শফিক হাসান : পড়তে হবে প্রচুর। সমসাময়িক লেখকদের লেখা, সেই সঙ্গে সাবেকি আমলের লেখকদের লেখাজোকাও। উত্তীর্ণ লেখাগুলো পড়া উচিত। না পড়ে লিখলে সেটা ভালো লেখা নাও হতে পারে। পড়া, পড়া ও পড়ার কোনো বিকল্প নেই। চটজলদি জনপ্রিয়তার ভূত মাথায় না ঢুকলেই ভালো। লেখা ভালো হলে পাঠকপ্রিয়তা এমনিতেই আসবে। এটার জন্য বাড়তি সময় ব্যয়ের কোনো অর্থ নেই। সেটা যথার্থ লেখকের কাজও নয়। অবশ্য জনপ্রিয়তা জরুরি কোনো বিষয়ও নয়।
বর্তমান তরুণ লেখকদের মধ্যে কাদের কাজ আপনাকে আশাবাদী করে?
শফিক হাসান : তরুণ ও অনতি তরুণ রম্য লেখকদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ, অমল সাহা, ইমন চৌধুরী, সত্যজিৎ বিশ্বাস, শিমুল শাহিন প্রমুখকে আমি সামনের কাতারে রাখতে চাই। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে রম্য লেখক বর্তমানে তেমন একটা নেই। চাইলেও যে অনেক নাম বলতে পারব এমনও নয়। আবার রম্য লিখলেই যে কাউকে ‘রম্য লেখক’ মনে করতে পারবÑ এখানেও বড় একটা দোটানা রয়ে গেছে। এই যে জবাব দিলাম, জবাবটা নিজেরই মনোপূত হলো না! প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাম বলতে পারলাম না। এমনও হতে পারে, সব নাম এই মুহূর্তে আমার স্মৃতিতে আসছে না।
সমসাময়িক বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গি। বর্তমান সমাজ-রাজনীতি আপনার লেখায় কতটা প্রভাব ফেলে?
শফিক হাসান : সমাজ ও রাজনীতির বাইরে কিছু নয়। ভালো-মন্দ প্রভাব তো ফেলেই। আমাদের জীবন ও সমাজ রাজনীতি-নিয়ন্ত্রিত। রাজনীতি ভালো হলে সমাজ ভালো হবে, সমাজ ভালো হলে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু সেটা আমরা পাচ্ছি কই? লেখাজুড়ে তাই হাপিত্যেস ছাড়া আর কীইবা রাখতে পারি আমরা! সমাজ না বদলালে আমাদের লেখাগুলো কি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় না!
রম্য লেখার মাধ্যমে কি সমাজ পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন?
শফিক হাসান : সব লেখার মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। কথা হচ্ছে যাদের নিয়ে আমরা লিখছি, তারা লেখাটা পড়ছে কিনা। খারাপ মানুষরা হয়তো লেখা পড়েন না, তবে ভালোরা পড়েন এটা নিশ্চিত। ব্যক্তির পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সমাজে পরিবর্তন ঘটে। এটা রাতারাতি হয় না। ব্যক্তির বোধে, মনন-নির্যাসে লেখা অদৃশ্যভাবে কাজ করে। তার মধ্যে ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে দেয়। আর একজন সচেতন মানুষ কখনো অন্যায় বা অপরাধে জড়ান না। নীতি-নৈতিকতা তাকে বাধা দেয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সামনে কোনো নতুন বই বা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন কি?
শফিক হাসান : প্রায় প্রতিবছরই আমার বই প্রকাশিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়েও বিচ্ছিন্নভাবে লেখাজোকা চলমান। কিন্তু বলার মতো তেমন কোনো ‘প্রকল্প’ হাতে নেই। বড় কোনো পরিকল্পনা নিয়ে কখনো লিখিনি। আমার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হুটহাট করে লেখা, সম্পাদকের চাহিদা পূরণ করা। আমার দম কম। যেহেতু খুব বেশি গুছিয়ে, অনেক সময় নিয়ে কোনো কাজই করতে পারি না। যদিও সেটা পারা উচিত। সম্পাদক বা পাঠকচাহিদার কাছে সমর্পিত থাকা ভালো কোনো কথা নয়।
নিজের লেখকজীবন নিয়ে আপনার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কী?
শফিক হাসান : লেখকজীবনের বড় স্বপ্ন তো লেখক হওয়াই! সেটা পারছি কই? পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হচ্ছে, বই বেরোচ্ছে আর আমি লেখক হয়ে গেলাম বিষয়টা আদৌ এমন নয়। লেখক হওয়া একজনমের সাধনা। সেই সাধনাই চালিয়ে যাচ্ছি। নিরন্তর। বড় স্বপ্ন তাই লেখক হওয়া। ‘লেখকজীবন’ এখনো খুঁজে পাইনি। লেখকজীবন যখন খুঁজে পাব, তখন নিজেকে ‘লেখক’ দাবি করতে পারব হয়তো।
যদি আপনি লেখক না হতেন, তাহলে কী হতে চাইতেন?
শফিক হাসান : লেখক হওয়া কোনো চাকরি নয়। বাংলাদেশের লেখকদের রুটি-রুজি সংস্থান করেই লিখতে আসতে হয়। লেখাকে পেশা হিসেবে নিতে পেরেছেন, লেখার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন বর্তমানে তেমন কোনো লেখক দেশে আছেন কি! নিশ্চয়ই এটা থাকা উচিত ছিল, হওয়া উচিত ছিল। লেখার ভূত মাথায় না থাকলে আমি হয়তো বেশি টাকা-পয়সা উপার্জন করা যায় এমন কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকতাম। অন্য অনেকের মতো!
নিজের কোনো লেখা পড়ে নিজেই হেসেছেন এমন ঘটনা আছে?
শফিক হাসান : এখনো পুরোনো কোনো লেখা পড়লে নিজের অজান্তেই হেসে ফেলি। সব লেখা নয়, কোনো কোনো লেখা। নিজের লেখা পড়ে হেসেছি, এমন ঘটনা বিরল নয়। নিজের লেখা সব গল্প তো মনে থাকে না। তাই যখন পড়ি, পাঠক হিসেবেই পড়ি। তখন নিজের লেখা, তাই হাসা যাবে না এমন ‘বাস্তব’ বোধ কাজ করে না! তবে অতৃপ্তিই বেশি কাজ করে। মনে হয়, যা লিখেছি তার অনেক কিছুই হলো না।
আপনার জীবনের সবচেয়ে ‘রম্য’ ঘটনা কোনটি?
শফিক হাসান : সৈয়দ আবুল হোসেন তখন যোগাযোগমন্ত্রী। আমি একটা মাসিক ম্যাগাজিনের প্রধান প্রতিবেদক। পদ্মাসেতুতে বিদেশি বিনিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংক ঋণ-অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ঘটনাটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা! সম্পাদক আমাকে মাদারীপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। নিজ এলাকায় মন্ত্রীর ভাবমূর্তি কেমন? এসব অভিযোগ সম্বন্ধে তাদের ধারণাইবা কী। পত্রিকার আলোকচিত্রী সোহেল মামুনকে সঙ্গে নিয়ে ছুটলাম মাদারীপুরে। যাচ্ছি তো যাচ্ছি, রাস্তা আর ফুরায় না। কতবার যে গাড়ি পাল্টাতে হলো! অনেক দৌড়ঝাঁপ শেষে পৌঁছালাম মাদারীপুরের কালকিনীতে। হঠাৎ চোখ গেল দোকানের একটা সাইনবোর্ডে। সেখানে লেখা গৌরনদী, বরিশাল। এলাম মাদারীপুরে, বরিশালে পৌঁছে গেলাম কখন, কীভাবে! এটা কোন ভৌতিক ব্যাপার। সোহেল মামুনকে দেখলাম। তারও মাথা চক্কর দেওয়ার অবস্থা! অবশেষে স্থানীয় একজনকে বললাম। তিনি একটা কালভার্ট দেখিয়ে দিয়ে বললেন, এই খালের ওইপারে মাদারীপুর আর এইপারে বরিশাল। আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। যাক, ভুতুড়ে কিছুর খপ্পরে পড়িনি!
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited