শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৫:৫০ পিএম, ২০২৬-০৬-০৪
এস এম মেহেদী হাসান
পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ কখনো এত দ্রুত প্রকৃতিকে পরিবর্তন করেনি, যতটা করেছে গত একশ বছরে। শিল্পায়ন, নগরায়ণ, ভোগবাদী জীবনযাপন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার ব্যবহারের ফলে আজ পরিবেশ সংকট একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, বায়ু ও পানি দূষণ, বন উজাড় এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের বিস্তার শুধু প্রকৃতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, হুমকির মুখে ফেলছে মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকেও।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে যখন পরিবেশ রক্ষার নানা অঙ্গীকার উচ্চারিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বাস্তবতা উদ্বেগজনক। দেশের নদী-নালা, বনভূমি, পাহাড়, কৃষিজমি এবং জলাশয় ক্রমাগত পরিবেশগত চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পবর্জ্য নদীতে পড়ছে, নদীর দূষণ গিয়ে মিশছে বঙ্গোপসাগরে, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা হচ্ছে, বন্যপ্রাণী পাচার অব্যাহত রয়েছে, আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে উন্নয়ন প্রকৃতি ধ্বংস করে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপদ ডেকে আনে, তাকে কি সত্যিকার অর্থে টেকসই উন্নয়ন বলা যায়?
প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ দূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর উদ্যোগে ১৯৭৪ সাল থেকে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
দূষণের বৈশ্বিক চক্রব্যূহ ও প্লাস্টিকের অভিশাপ
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হলো দূষণ। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা, ইটভাটা, নির্মাণকাজ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া প্রতিনিয়ত বায়ুর মানের অবনতি ঘটাচ্ছে। বিশ্বের দূষিত নগরীগুলোর তালিকায় প্রায়ই ঢাকার নাম উঠে আসে।
বায়ুদূষণের পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল বর্জ্য বছরের পর বছর পরিবেশে থেকে যাচ্ছে। এসব বর্জ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, মাটির গুণগত মান নষ্ট করছে এবং নদী-খাল হয়ে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে।
এদিকে ঘরবাড়ি নির্মাণ, শিল্পায়ন ও নগর সম্প্রসারণের কারণে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। বনভূমি কমে যাওয়ায় কার্বন শোষণের স্বাভাবিক ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নদী থেকে সমুদ্রে বিষের স্রোত: বিপন্ন নীল অর্থনীতি
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো ক্রমেই শিল্পবর্জ্যের ভারে বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ফেলা হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই দূষণ শুধু নদীতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নদীপথে বয়ে যাওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু, প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশছে।
এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নীল অর্থনীতি (Blue Economy)। কোরাল, সামুদ্রিক শৈবাল, প্ল্যাংকটনসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। ডলফিন, কচ্ছপ, তিমিসহ বহু সামুদ্রিক প্রাণী দূষণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ফলে তা আবার মাছের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসছে। ফলে পরিবেশ দূষণের এই চক্র শেষ পর্যন্ত মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সুন্দরবনে বিষ-বাণিজ্য: হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু এখানেও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড থেমে নেই।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গনি গাজী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘টাইগার গনি’ নামে পরিচিত একজন বাসিন্দা, তিনি বলেন:
“বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশে যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। বিষাক্ত পানিতে শুধু মাছ মরছে না; নদী ও খালের এই পানি খেতে আসে আমাদের অহংকার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ বনের শত শত পশুপাখি। এই বিষাক্ত পানি পান করে বনের বন্যপ্রাণীগুলোও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, অনেকেই ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আর এই বিষাক্ত মাছ যখন বাজারে যাচ্ছে, তা খেয়ে সাধারণ মানুষের লিভার, কিডনি নষ্ট হচ্ছে। লাভের আশায় বিষ ঢেলে আমরা আসলে প্রকৃতি আর মানুষ উভয়েরই ক্ষতি করছি।”
পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্যপ্রাণী পাচার ও সাপের জীবনসংকট
প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল এবং কৃষি উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাপ কৃষকদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করে।
মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মশাহিদ আহমদের নেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে সিলেট অঞ্চলের অভিজ্ঞ সাপুড়ে দুলাল মিয়া বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের নানা তথ্য তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:
“আমি সিলেট অঞ্চল থেকে বিভিন্ন বিষধর ও দুর্লভ প্রজাতির সাপ ধরি। এই সাপগুলো পরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বড় সিন্ডিকেটের কাছে চলে যায়। শুনেছি নামী-দামি ওষুধ কোম্পানির লোকেরাও ওষুধ তৈরির কথা বলে এগুলো কম দামে নিয়ে যায়। এছাড়া দেশের বাইরেও চামড়া ও বিষের জন্য উচ্চ মূল্যে এই সাপগুলো পাচার করা হচ্ছে। বন-জঙ্গল ও গ্রামীণ ঝোপঝাড় থেকে এভাবে নির্বিচারে সাপ ধরে শেষ করে ফেলার কারণে প্রকৃতিতে সাপ কমে যাচ্ছে। এর ফলে ফসলের খেতে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ছে, যা সামগ্রিক পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
উপকারী কীটপতঙ্গের সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা
অধিক ফলনের আশায় কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় নয়, উপকারী কীটপতঙ্গও ধ্বংস হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান বলেন:
“আমরা অনেকেই জানি না যে, আমাদের উৎপাদিত ফসলের ও নিত্যদিনের খাদ্যের একটা বিশাল অংশ সরাসরি এই ছোট ছোট কীটপতঙ্গের পরাগায়নের ওপর নির্ভর করে। জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর পোকার সঙ্গে সঙ্গে উপকারী পোকাগুলোও গণহারে মারা যাচ্ছে। শুধু কীটনাশকই নয়, কৃত্রিম আলোর দূষণ ও বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তনও উপকারী পোকামাকড়ের জীবনচক্রে প্রভাব ফেলছে। উপকারী কীটপতঙ্গের সংখ্যা কমে গেলে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সংকটে পড়তে পারে।”
হাওর ব্যবস্থার সংকট: পর্যটন চাপ, দূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাওরাঞ্চলগুলো এখন পরিবেশগত চাপের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাউসবোট পর্যটনের ব্যাপক বিস্তার স্থানীয় পরিবেশের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক সময় হাউসবোটে রাতভর অবস্থান, উচ্চস্বরে সংগীত বাজানো এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন কার্যক্রমের কারণে হাওরের স্বাভাবিক নীরবতা ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিছু পর্যটক মাদক সেবন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অসচেতন আচরণের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিতভাবে সামনে আসছে, যা জলজ পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
একই চিত্র দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতেও দেখা যায়, যেখানে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের চাপ দিন দিন বাড়ছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের হাইল হাওর ও কাউয়াদিঘি হাওরে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের (ফিশারি) বিস্তার পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে হাওরের মৌসুমি জলধারণ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি জলাভূমির ওপর বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও উঠছে, যা স্থানীয় জীবিকা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে নতুন সংকট তৈরি করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাইল হাওর ও কাউয়াদিঘি এলাকায় বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রস্তুতির খবরকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিবেশ ও জীবিকা রক্ষার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওরাঞ্চলে যেকোনো বড় অবকাঠামো বা শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। না হলে এই অনন্য জলাভূমি ব্যবস্থা তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
চিকিৎসাবর্জ্যের কালোবাজারি ও বর্জ্য দহন
বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংক্রামক চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মৌলভীবাজারের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও সহযোগী অধ্যাপক (ইন সিটু) ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন:
“শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং গৃহস্থালির আবর্জনা সরাসরি মাটিতে ফেলার কারণে মাটি ও পানির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতু ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা। খোলা জায়গায় প্লাস্টিক ও চিকিৎসাবর্জ্য পোড়ানোর ফলে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সূক্ষ্ম ধূলিকণা মানুষের শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
জলাশয় ভরাট, কৃষিজমি দখল ও খামার বর্জ্যের প্রভাব
নদী, খাল, বিল এবং প্রাকৃতিক জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে এসব জলাশয় দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আসম সালেহ সোহেল বলেন:
“আইনগতভাবে জলাশয় ভরাট বা কৃষি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা প্রায়ই ঘটছে। জলাশয় ভরাটের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিজমি কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত হতে হবে।”
পাহাড় কাটা ও প্রকৃতি হত্যার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা
দৈনিক আমাদের বাংলার সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিদিন আমরা উন্নয়নের নানা চিত্র দেখি। কিন্তু এর আড়ালে প্রকৃতি ধ্বংসের বাস্তবতাও রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে পাহাড় কাটা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বর্ষাকালে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। পাহাড়, বন ও জলাশয় রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।”
আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালিক বলেন:
“বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আইন রয়েছে। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হলো কার্যকর প্রয়োগ। পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং জলাশয় ভরাটের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে না। পরিবেশ আদালতগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন।”
উপসংহার: এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়
পরিবেশ রক্ষা কেবল একটি দিবস পালনের বিষয় নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সুন্দরবন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী পাচার রোধ, কৃষিতে নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাশয় রক্ষায় কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত থ্রি আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতির বাস্তবায়ন, শিল্পবর্জ্য শোধনের বাধ্যবাধকতা, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রকৃতি ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখা-ই হতে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
লেখক: সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি
বাংলাদেশ রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিআরসি)
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited