শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৯:১৩ পিএম, ২০২৬-০৫-২৩
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বন্ধ ঘোষিত দেশের অন্যতম বৃহৎ পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান আমিন জুট মিলস লিমিটেডের দীর্ঘদিন বেদখল হয়ে থাকা সম্পদ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে ইতোমধ্যে মিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশের জমি উদ্ধার করে পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র মুরাদপুর এলাকায় হাটহাজারী রোড সংলগ্ন প্রায় ৭৯ একর জমির ওপর ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আমিন জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে দেশের পাটশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
দীর্ঘদিন বেদখল থাকা জমি উদ্ধার কার্যক্রমে অগ্রগতি:
সাম্প্রতিক সময়ে বিজেএমসি’র নির্দেশনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মিল কর্তৃপক্ষ একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় মিলের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন পেট্রোল পাম্প এর দক্ষিনপাশে প্রায় ১৮.৫৬ শতক এবং শ্রমিক কলোনি এলাকায় আরও ছোট বড় ৫১ টি জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমের পর জমির ওপর মিল কর্তৃপক্ষের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
মিল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত জমিসমুহের বর্তমান মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
৩০-৪০ বছরের দখলচক্র ভেঙে পুনরুদ্ধার:
সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া জমিগুলো প্রায় তিন থেকে চার দশক ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের দখলে ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে ধাপে ধাপে এসব অবৈধ দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মিলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জমিগুলো বেদখলে থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এসব সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্ভব হচ্ছে।
প্রশাসনিক উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
মিলের প্রকল্প প্রধান এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, উদ্ধারকৃত জমিগুলো ইতোমধ্যে ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে নিয়মিত আয় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু স্থাপনা দরপত্রের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা থেকে মিলের রাজস্ব আয় শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু বর্তমান উদ্ধারেই থেমে নেই। মিলের সীমানার ভেতরে যেসব জায়গা এখনও বেদখলে রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধারের জন্য সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তার মতে, মিলটি শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এসব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র সংক্রান্ত অগ্রগতি:
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, মিলের কিছু ভূমি সংক্রান্ত খতিয়ান ও দাগ নম্বরের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে মিল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী।
এছাড়া মিল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে কিছু ভূমিদস্যু ও স্বার্থান্বেষী মহল নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ও সরকারি নিরীক্ষা সংস্থার পূর্ববর্তী অডিটে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত কোনো আপত্তি পাওয়া যায়নি বলে মিল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। ফলে বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
শ্রমিক ও সম্পদের ব্যবস্থাপনা:
মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকাকালীন সময়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এছাড়া বর্তমানে উদ্ধারকৃত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মিলের নিজস্ব জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দখল পুনরায় সৃষ্টি না হয়।
পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে:
মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের উচ্ছেদ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে আরও কিছু বেদখল জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর আমিন জুট মিলের সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited