শিরোনাম
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি :: | ১০:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৭-১৮
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এখন আতঙ্কের অপর নাম সাগরের জোয়ারের পানি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দ্বীপের তীরবর্তী হাজারো পরিবার প্রহর গুনেন, কখন তাদের ভিটেমাটি সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধ এখন এ দ্বীপের রক্ষাকবচ নয়। বরং স্থানীয়দের জন্য তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে ভূমিহীন হওয়ার মিছিলে কুতুবদিয়া উপজেলার চিত্র এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে যে হারে বসতভিটা সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে, তার বাস্তব চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। একসময়ের স্বচ্ছল অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বছর উপজেলার আলী আকবর ডেইল ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেকেই তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ভূমিহীনদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। এবারের বর্ষায়ও ওই এলাকা গুলোতে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন আব্দুল কাদের, আব্দু শুক্কুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার। একই অবস্থা উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়ন, দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ও লেমশীখালী ইউনিয়নের।
কান্নায় ভেঙে পড়ে মোস্তফা বেগম(৬০) বলেন, সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আর কতদিন থাকব? নিজের কোনো ঘর নেই, নেই কোনো ঠিকানা। খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। অমানবিক এই সংকটময় মুহূর্তে নিরুপায় হয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন অসহায় এই নারী।
আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, সর্বনাশা সাগরের ভাঙনে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। এর আগেও দুই বছর আগে একবার ভিটেমাটি হারানোর শিকার হয়ে ছিলো। অনেক কষ্টে নতুন করে সংসার সাজালেও, প্রকৃতির রোষে আবারও বিলীন হয়ে গেছে সেই শেষ সম্বলটুকুও। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবারের সদস্যরা। স্থায়ী আশ্রয়ের অভাব এবং ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তারা।
বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ইতিমধ্যে সাগরের গ্রাসে ১৫-২০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জিও ব্যাগ প্রদান এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেছেন, শুধু জিও ব্যাগে সমাধান হবে না। এ দ্বীপকে রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণই এখন সময়ের দাবি। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অচিরেই বড়ঘোপ ইউনিয়ন ও আলী আকবর ডেইলের কয়েকটি এলাকা সাগরগর্ভে হারিয়ে যাবে।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও উপজেলা সহকারী (ভুমি) কমিশনার সাকিব উল আলম সাগরগর্ভে বিলীন হওয়া বসতভিটা ও দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited