শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৪-৩০
দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব নেন তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা।
তাঁর মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য সংগঠন-১ অনুবিভাগের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা আদেশে নতুন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মেয়াদও শেষ হওয়ায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহের হোসেন।
এভাবে গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। মামলা-পাল্টা মামলায় ঝুলে আছে নির্বাচন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচবার স্থগিত করা হয় নির্বাচন, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
সর্বশেষ চলতি মাসের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও ঘোষণার নির্দেশনা দিয়েছে এফবিসিসিআইয়ের সালিসি ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মিসেস নাসরিন বেগম এবং সদস্য এএসএম কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মদ এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর মামলার সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদে নির্দেশনা দেন।
তবে নির্বাচন নিয়ে এখনও জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে চলমান মামলা, চেম্বারের সংঘবিধি সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে জড়িত।
নির্বাচন না হওয়ার পেছনে যাদের নাম বারবার সামনে এসেছে, তারা হলেন- ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচন করতে চাওয়া গার্মেন্টসের পণ্য সরবরাহকারী মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একটি গ্রুপের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক ও ওই গ্রুপের সদস্য আজিজুল হক। কিন্তু চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড ওই আবেদন খারিজ করে দিলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই শুরু করেন বেলাল হোসেন। বেলালের ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মামলাগুলোর বাদী চট্টগ্রাম চেম্বারের অ্যাসোসিয়েট সদস্য এসএম নুরুল হক, অর্ডিনারি সদস্য মুহাম্মদ বেলাল ও মুহাম্মদ আজিজুল হক।
ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাধারণ সদস্য এবং হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দেন মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। তবে মামলার শুনানিতে চট্টগ্রাম গার্মেন্ট এক্সেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। একই ব্যক্তি দুটি ভিন্ন শ্রেণির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না-এই যুক্তিতে তার আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের অভিযোগ, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করে চট্টগ্রাম চেম্বারের ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কারণে বারবার আটকে যায় নির্বাচনী কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম চেম্বারের কার্যক্রম মূলত আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ জন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ৬ জন পরিচালক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ৬ জন পরিচালক সমঝোতার ভিত্তিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে এই ২৪ জন পরিচালকের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়।
সংগঠনটিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে চার হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য হিসেবে দুই হাজার ৭৬৪ জন, শহর সমিতির সদস্য হিসেবে ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য হিসেবে ১০ জন সহ মোট ৬ হাজার ৭৮০ জন সদস্য তালিকাভুক্ত আছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম, অন্যটি সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সমমনা পরিষদ। সর্বশেষ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৪ এপ্রিল চার ক্যাটাগরিতে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। এরপর তাদের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তবে ২২ এপ্রিলের রায়ে সেই তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিলে সরাসরি নির্বাচনের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এখন উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এতদিন চেম্বার নির্বাচন নিয়ে যে তিনটি মামলা চলেছে, তা খারিজ করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সালিসি ট্রাইব্যুনাল। মামলাগুলোর বাদী চট্টগ্রাম চেম্বারের অ্যাসোসিয়েট সদস্য এসএম নুরুল হক, অর্ডিনারি সদস্য মুহাম্মদ বেলাল ও মুহাম্মদ আজিজুল হক। নির্বাচন রি-শিডিউল করার নির্দেশনা দিয়েছে সালিসি ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু নির্বাচনের ৫০-৭৫ ভাগ কাজই ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন যত দ্রুত চট্টগ্রাম চেম্বারে ভোট হবে তত বেশি এ জনপদের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীরা সুফল পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন বোর্ডের প্রধান মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন সংশোধন না করে সরাসরি ভোটে নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় সেটি সংশোধনের সুযোগও নেই। এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি’।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited