চট্টগ্রাম   মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

রাষ্ট্রজুড়ে অস্থিরতা: নেপথ্যে কারা?

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৮:৩৬ পিএম, ২০২৬-০৮-০৩

রাষ্ট্রজুড়ে অস্থিরতা: নেপথ্যে কারা?

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একটি জনগণের সরকার তখনই সফল বলা যায়, যখন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারে, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারে, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

কিন্তু আজ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে। কোথাও গ্যাসের সংকট, কোথাও পানির সংকট, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং। অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা -সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। নাগরিকের প্রত্যাশা ছিল উন্নত সেবা ও স্বস্তির জীবন; কিন্তু বাস্তবে অনেকেই প্রতিদিন নতুন নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ কম নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ নিয়মিত সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপরাধের খবর মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদক ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সমাজের জন্য অশনিসংকেত।

গ্রাম থেকে শহর -মাদক কারবার যেন অনেক জায়গায় শিকড় গেড়ে বসেছে। ইয়াবা, গাঁজা, আইসসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রজন্মগত সংকট। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণদের ওপর। সেই তরুণদের যদি অপরাধচক্র ব্যবহার করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাষ্ট্র।

নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল -রাষ্ট্রযন্ত্র আরও কার্যকর হবে, অপরাধ কমবে, দুর্নীতি দমন হবে এবং জনসেবায় গতি আসবে। কিন্তু বাস্তবতা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। যদি সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হয়, তাহলে কেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে? কেন অপরাধচক্র বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? কেন চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পরও অনেক ক্ষেত্রে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই জনমনে আরেকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায় -নেপথ্যে কারা?

কারা সেই প্রভাবশালী গোষ্ঠী, যারা রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস পায়? কারা প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধের বিস্তার ঘটায়? কারা দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করে, ব্যাংকিং খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে? কারা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে সাধারণ মানুষ 

ন্যায়বিচারের চেয়ে প্রভাবশালীদের ক্ষমতাকেই বেশি ভয় পায়?:

রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কেবল আইন প্রণয়ন বা অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষমতা -কোনো কিছুর আড়ালে যেন অপরাধীরা আশ্রয় না পায়।

একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন আইনের চোখে সবাই সমান থাকে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থা থাকতে পারে না। জনগণ দেখতে চায় -দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা সন্ত্রাসী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ হচ্ছে।

আজ দেশের মানুষ রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত গ্যাস ও পানি সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং ন্যায়বিচারকে। জনগণ চায়, তাদের করের অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় হোক; রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে জবাবদিহি করুক; প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করুক।

সরকারেরও মনে রাখা উচিত, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই আস্থা অর্জন করা যায় কার্যকর পদক্ষেপ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে। কোনো সমস্যাকে অস্বীকার করে নয়, বরং বাস্তবতা স্বীকার করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার মধ্যেই রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার সাফল্য।

আজ তাই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন -রাষ্ট্রের ভেতরে যদি কোনো দুর্নীতিবাজ চক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক কিংবা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকে, তবে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে কবে? জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে কে?

কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় -রাষ্ট্রকে কখনো বাইরের শত্রুরা যতটা দুর্বল করতে পারেনি, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে রাষ্ট্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ, অপরাধী ও সুবিধাভোগী চক্র। তাই আজ দেশের মানুষের একটাই প্রশ্ন - নেপথ্যে কারা? আর সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করাই এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

রিটেলেড নিউজ

সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেটের ‘আওয়ামী এজেন্ডা’ রুখে দেওয়ার এখনই সময়

সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেটের ‘আওয়ামী এজেন্ডা’ রুখে দেওয়ার এখনই সময়

মিজানুর রহমান চৌধুরী :   বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করে জিয়ার স্লোগান দিয়ে যারা জাতীয়তাবাদী সেজেছে, তারা আওয়ামী ...বিস্তারিত


জুলাই বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি : ক্ষমতার লুটপাট ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুতুল দশা!

জুলাই বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি : ক্ষমতার লুটপাট ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুতুল দশা!

আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : ক্ষমতার বাহাদুরি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। যারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ভীতু ও হতাশà...বিস্তারিত


জুলুম ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলবে

জুলুম ও জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলবে

মিজানুর রহমান চৌধুরী : ✍️ মিজানুর রহমান চৌধুরী “রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক ত...বিস্তারিত


রাজনৈতিক দলের পদলোভীরা বেপরোয়া, ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না

রাজনৈতিক দলের পদলোভীরা বেপরোয়া, ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না

মিজানুর রহমান চৌধুরী : পদবী লোভী লুটেরা দালালদের এ মুহুর্তে থামিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি এরকম পদলোভী লুটেরà¦...বিস্তারিত


চট্টগ্রাম ওয়াসাকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন ।

চট্টগ্রাম ওয়াসাকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন ।

সম্পাদকীয় ডেস্ক :: : চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়াসা ৮শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরের ৮০ হাজার গ্রাহকের কাছে &l...বিস্তারিত


যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন অর্থনৈতিক জোটের লক্ষ্য আসলে কী, কী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ?

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন অর্থনৈতিক জোটের লক্ষ্য আসলে কী, কী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ?

আলাউদ্দীন বেলাল :   ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোটà§...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর