শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৩২ পিএম, ২০২৬-০৪-১৯
কাজী হুমায়ুন কবির
বন্ধ হয়নি প্ল্যান, নকশা শাখায় গ্রাহকদের হয়রানি প্রকল্পগুলোর দুর্ণীতি অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা নিতে নয়ছয় নতুন নিয়োগ ও প্রমোশনে অনিয়মের গুঞ্জন
চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে সিডিএকে কতটুকু নগর বান্ধব এবং সেবা গ্রহিতাদের হয়রানি বন্ধ করতে পেরেছেন নতুন চেয়ারম্যান। ৫ আগষ্টের পর নবনিযুক্ত নতুন চেয়ারম্যানের কাছে প্রত্যাশার কমতি ছিলনা নগরবাসীর। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি কি পেরেছেন সিডিএকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে, তিনি কি পেরেছেন অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত করতে, পরিকল্পিত নগর পরিকল্পনায় তিনি কি কোন নজির রাখতে পেরেছেন? গ্রাহক হয়রানি কি বন্ধ করতে পেরেছেন, নাকি সিন্ডিকেটকে তোষন প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহিতাদের এখনো সিন্ডিকেট ও দালালদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, এখনো প্ল্যান বিভাগে সেবা গ্রহিতাদের শত শত ফাইল ঘুরফাক খাচ্ছে, নকশা বিভাগে সময়মতো মিটিং হয়না, বছর না ঘুরলে নকশা অনুমোদন হয়না। দীর্ঘসুত্রিতার কারনে অনেক গ্রাহকরা সিডিএর প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, যার কারনে নতুন আবেদন আগের মতো জমা পড়ছেনা। আস্থা হারাচ্ছে সেবা গ্রহিতা, ঘুষ দিয়েও ক্লান্ত হয় বলে। সেবা গ্রহিতারা মাসের পর মাস এভাবে হয়রানির শিকার হয় বলে অনেকে সিডিএর অনুমোদন না নিয়েই আইন না মানার প্রবনতায় চলে যায়। সিড্এিতে সেবা নিতে আসা একজন সেবা গ্রহিতা বলেন, দুর্ণীতির তকমা লাগানো আগের সুরের বাজনাতেই পড়ে আছে সিডিএ সংস্কার ।
জানা যায়, শেখ হাসিনার আমলে পরিকল্পিত নগরায়নের কর্মযজ্ঞের চেয়ে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। সেসব প্রকল্পেও উঠেছে অনেক দুর্ণীতির অভিযোগ। এসব অভিযোগের তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চলছে নয়ছয়। তাই অপরাধীরা আছে বহাল তবিয়তে। পরিকল্পিত নগর, সেবা গ্রহিতাদের সেবা, প্ল্যান ও নকশা শাখায় অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে দেখার যেন কেউ ছিলনা। নগরে যারা নকশা বর্হিভুত ভবন নির্মান করেছে, নেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা। যত্রতত্র এলইউসি দেয়ায় বিলীন হয়ে গেছে নগরীর অনেক পাহাড়, পুকুর ও খেলার মাঠ। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নগরজুড়ে সিডিএ অসংখ্য প্রকল্প গ্রহন করে কাজের কাজ যা হয়েছে তথ্য উঠে আসে কর্মকর্তারা হয়েছে কোটিপতি।
জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চউকের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে প্রতিটি কাজে বা প্রকল্পে চেয়ারম্যানসহ তার পছন্দের চউকের কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট অংশ নগরের মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে শোষনের হাতিয়ার। সিডিএতে আসা সেবাগ্রহিতাদের থেকে এমন কোন কাজ নেই যেখানে তারা সুবিধা নিতেন না। সরকার পতনের পর অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নতুন চেয়ারম্যানের আগমনে চউক নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, নতুন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম দায়িত্বভার গ্রহন করার পর কতটুকু উন্নতি হয়েছে সিডিএর সেবার মান। যে সিন্ডিকেট চউকে এতদিন ধরে রামরাজত্ব কায়েম করেছিল সেই সিন্ডিকেটকে চউকে রেখে কতটুকু নগরের নাগরিক বান্ধব উন্নয়ন করবে তা নিয়ে সাধারণ জনমনে প্রশ্নে উঠেছিল, নতুন নিয়োগে কর্মকর্তা ও নতুন কর্মচারী বাড়লেও প্ল্যান ও নকশা শাখায় জমা হচ্ছেনা নতুন আবেদন। যা আছে তার ডেলিভারী হচ্ছেনা সঠিকভাবে। প্লানে অসংখ্য ফাইল জমা পড়ে আছে। হচ্ছেনা পাশ, অথরাইজেশন শাখা সুত্রে বলছে, প্ল্যান শাখা থেকে আগের মতো ফাইল নকশার জন্য আসছেনা, তাই কাজ কমে যাচ্ছে। মাসের পর মাস পড়ে থাকে ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদনেও চলে নয় ছয়, ঘুস ছাড়া প্রতিটি টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে মাস থেকে বছর। এই হচ্ছে সিডিএর হালচিত্র। শুধু তাই নয় বিভিন্ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানো, সব মিলিয়ে একটা গ্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। নতুন চেয়ারম্যান আসার পর কতটুকু সংস্কার হয়েছে । জানা যায় , নগরীর সেবা গ্রহিতারা আগের মতো ভিড় জমায়না সিডিএতে। আস্থা সংকটে ভুগছে সবাই।
সম্প্রতি নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। নতুন নিয়োগে পরির্দশক পদ নিয়ে অসংগতি দেখা যায়, সার্কুলারে পরির্দশক পদের জন্য এইচ এস এস সি ও সমমান এবং সার্ভে ফাইনাল চাওয়া হলেও কয়েকজন পরিদর্শক এসএসসি পাশ দিয়েই নিয়োগ পেয়েছে। যা সম্পুর্ণ সার্কুলার বহির্ভূত। এ অনিয়মের বিষয় গনমাধ্যমে প্রচার হলে নিয়োগপ্রাপ্তদেরকে এইচ এস সি পাশের সার্টিফিকেট জমা দেয়ার নোটিশ দেয়া হয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা পড়ে বিপাকে। সিডিএ কতৃপক্ষ তাদের নিজেদের দায়ভার নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মাথার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দুর্ণীতি মুক্ত হিসাবে প্রমান করতে চায়।
জানা যায়, বিগত সময়ে ১২/১২/২০০৫ সালে দৈনিক সংগ্রামের এক নিয়োগ সার্কুলারে দেখা যায় এমন ভুল হয়েছিল নকশাবিদ নিয়োগে।
সার্কুলারে দেখা যায়, ডিপ্লোমা থাকতে হবে এবং কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেই সার্কুলার অনুযায়ী অনেক নকশাবিদেরই ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট ছিলনা। ছিলনা ৩ বছরের অভিজ্ঞতা। সিডিএর সে সময়ের চেয়ারম্যানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের কল্যানে আজ অবধি তারা নকশাবিদ হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। জানা যায়, উপরের অনেক পদেও রয়েছে এধরনের অনেক অসংগতি। আর এদের দিয়েই চলছে সিডিএর নগর উন্নয়নের কাজ। এভাবে অতিত থেকে বর্তমান অনেকের পদায়ন হয়েছে সার্কুলার না মেনে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির গত ২৬ জানুয়ারী সহকারী সচিব পদে ১ জন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ১১ জন ও গত ২৮ জানুয়ারী এস্টেট অফিসার বিল্ডিং পদে ১ জন, মূল্যায়ন কর্মকর্তা পদে ১ জন, মার্কেট সুপারিনটেনডেন্ট পদে ১ জন, উচ্চমান সহকারী পদে ১ জন, ক্যাশিয়ার পদে ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ২ জন, পাম্প ড্রাইভার পদে ৩ জন, হেড দারোয়ান/প্রধান নিরাপত্তা প্রহরী পদে ১৩ জন এবং সহকারী স্থপতি পদে ১ জনসহ মোট ৩৬ জনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত সিডিএ’র ৪৬৮তম বোর্ডসভায় পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে ১৫ ফেব্রুয়ারী চিঠি ইস্যু করেছেন তৎকালীন সচিব রবীন্দ্র চাকমা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১১তম গ্রেডে কর্মরত একজন সেকশান অফিসার নাছির আহাম্মদ খানকে ১৪তম গ্রেডে পদায়ন করে সেটিকে পদোন্নতি বলে অফিস আদেশ জারী করেছে সংস্থাটির সচিবালয় বিভাগ। এই আদেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এমন গড়মিল দেখা গেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারী নাছির আহাম্মদ খান।
নাছির আহাম্মদ খান বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকেই ১১তম গ্রেড সুবিধা ভোগ করছি। যা গতবছরের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। উচ্চতর গ্রেডে স্বাক্ষরের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে সেই একই ব্যক্তির পদোন্নতির চিঠিতে ১৪তম গ্রেডে কর্মরত দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিছক ভুল কি না তা নিশ্চিত করতে এই আদেশ সংশোধন করে বিভাগীয় পদোন্নতি কালীন মার্কেট সুপারের পরিবর্তে সেকশান অফিসার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য একই তারিখে চেয়ারম্যান বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছেন সিডিএর সেকশন অফিসার ও আইন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাছির আহাম্মদ খান। সেই চিঠিকে আমলে না নিয়ে তাকে পুনরায় বিভাগীয় পদোন্নতির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সৃজিত জ্যেষ্ঠতার তালিকায় উচ্চমান সহকারী হিসাবে প্রথম অবস্থানে থাকলেও সেকশান অফিসারে পদোন্নতি না দিয়ে জুনিয়রদের ওই পদে পদোন্নতির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সিনিয়রকে মার্কেট সুপারের পদে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে ওই পদটি উচ্চমান সহকারী পদের সমতুল্য। এই পদে পদায়িত করার অর্থ হলো চউক প্রবিধানমালা-১৯৯০ অনুযায়ী স্ববিরোধী কার্যক্রম যা’ আইনের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য যে, একই পদোন্নতির চিঠিতে মোহাম্মদ আলমগীর খানকে ১১ তম গ্রেড থেকে সরাসরি ৯ম ও একজন নক্সাবিদকে ১৫তম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। একজন মার্কেট সুপারকে ১৪তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেড দিয়ে এস্টেট অফিসারে পদোন্নতি দিয়েছে আবার একজন সিনিয়র অডিট অফিসারকে ক্যাশিয়ার করা হলেও তার গ্রেডেশনের কোন পরিবর্তণ হয়নি। ২০ গ্রেডের একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৬তম গ্রেড দেয়া হয়েছে অথচ ২০ গ্রেডের আরো ১৩ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে ১৯তম গ্রেড দিয়ে প্রধান নিরাপত্তা প্রহরী করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাপ্রহরী থেকে সরাসরি অফিস সহকারী পদে যাওয়ার সুযোগ নেই কিন্তু এই ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তা করা হয়েছে। আবার ২০/২৫ বছর যাবৎ চাকরী করছেন এমন ব্যাক্তিকেও পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
একজন সিনিয়র অডিট অফিসারকে ক্যাশিয়ার করা হলেও তার গ্রেডেশনের কোন পরিবর্তণ হয়নি। ২০ গ্রেডের একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৬তম গ্রেড দেয়া হয়েছে অথচ ২০ গ্রেডের আরো ১৩ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে ১৯তম গ্রেড দিয়ে প্রধান নিরাপত্তা প্রহরী করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাপ্রহরী থেকে সরাসরি অফিস সহকারী পদে যাওয়ার সুযোগ নেই কিন্তু এই ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তা করা হয়েছে। আবার ২০/২৫ বছর যাবৎ চাকরী করছেন এমন ব্যাক্তিকেও পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
বিগত বছরগুলোতে নগরের গুরুত্বপূর্ন আবাসিক এলাকাগুলো হারিয়ে গেছে। আবাসিক এলাকাগুলোতে একের পর এক হয়েছে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সিডিএর নাকের ডগায় আবাসিকের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা হারাচ্ছে এলাকাগুলো। আবাসিকের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অবৈধ বানিজ্যিক ইমারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও এবং গণমাধ্যমে লেখালেখি হলেও সুদৃষ্টি দেননি তারা। জানা যায়, উল্টো সিডিএর অথোরাইজড অফিসার ও পরিদর্শকদের ম্যানেজ করে তারা ছাড়পত্র নিয়ে পুরো আবাসিক কাঠামো ভেঙ্গে ব্যবসা শুরু করে।
ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, চীফ ইঞ্জিনিয়ার, প্ল্যানিং শাখা, অথোরাইজড শাখা, স্থাপত্য শাখা, ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা, এষ্টেট শাখার কয়েকজন কর্তাব্যাক্তির সিন্ডিকেটের কারনে এমন রাম রাজত্ব কায়েম হয়েছে বিগত সময়ে, অপরিকল্পিত নগরায়নসহ জনগণ ভোগান্তির শিকার হলেও তারা সুবিধা ছাড়া ফাইল ছাড়েননি। সিডিএর সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেবা গ্রহিতাদের এমন আচরণ করা হয় তারা যেন একেক জন নবাব। সেবা গ্রহিতারা তাদের সাধারণ প্রজা।
সিডিএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হলেও এসব মামলার তদন্তে দীর্ঘসুত্রিতা ও তদবীরের কারনে অনেকে এখনো বহাল তবিয়তে দাপটের সাথেই আছেন। যার ফলে যারা এতদিন আওয়ামী আমলে খেয়েছেন, তারা অন্তবর্তীকালিন সরকারের অধিনেও খেয়েছেন এখন নতুন সরকারের আমলেও বহাল তবিয়তে আছেন। এতেই হয়েছে সিডিএর সেবা গ্রহিতাদের বেহজম অবস্থা। বার বার কর্মময় শাখাগুলোতে একই লোকের দাপটের ভার গ্রাহক আর বইতে পারছেনা।
নগর যথাযথ উন্নয়নের স্বার্থে চউকের অথরাইজেশন, পরিকল্পনা ও প্রকৌশল বিভাগের কাজে গতিশীলতা স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নগরের জনগণের ভোগান্তি রয়েই যাবে মনে করেন নগরবাসীরা।
অর্গানোগ্রাম না মেনেই চলছে সিডিএর কার্যক্রম, ব্যহত হচ্ছে গ্রাহক সেবা ও নগর উন্নয়ন
সেই ৪২ বছর আগের অর্গানোগ্রাম আপডেট না করে, সেই অরগানোগ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আপডেট না করে চলছে সিডিএর সকল কার্যক্রম। একটি প্রতিষ্ঠানে অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ না করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি হয় । এর ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যেমন, কাজের সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা, কর্তৃত্বের সংকট, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, জবাবদিহিতার অভাব, সম্পদের অপচয় ও অদক্ষতা। ,অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী না চলার অর্থ হলো একটি প্রতিষ্ঠানের 'মেরুদণ্ডহীন' হয়ে পড়া। এতে প্রতিষ্ঠানটি তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে সিডিএ’র কয়েক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ১৯৮৪ সালের অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) দিয়ে এখনো চলছে সিডিএ। বর্তমানে সিডিএ’র কার্যক্রম ও কাজের পরিধি বাড়লেও উল্টো কমতে থাকে লোকবল। অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন ও জনবল নিয়োগের জন্য সিডিএ’র পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে নতুনভাবে অর্গানোগ্রাম আজো আলোর মুখ দেখেনি। চেয়ারম্যান আসে আর যায়, কিন্তু কোন চেয়ারম্যানই অর্গানোগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে নগর বান্ধব করে এখনো সংকট উত্তরণে ব্যবস্হা নেয়নি। এতেই সিডিএতে ঘুষ, দুর্ণীতির প্রবনতা, দলীয়করণ, দালালীকরণসহ সঠিক সময়ে জবানদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা।
জানা যায়, এক সময় সিডিএ নিজেই জনবল নিয়োগ দিতে পারলেও পরবর্তীতে জনবল নিয়োগের ক্ষমতা মন্ত্রণালয় নিয়ে যায়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল নিয়োগও দিয়েছে। কিন্তু সিডিএ ৪২ বছর আগের অর্গানোগ্রাম দিয়ে চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ না করে চলার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সিডিএ’র কার্যক্রমে অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত পদায়ন এবং জনবল সংকটের মতো সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অরগানোগ্রামে পদ থাকলেও আজকে প্রায় বিশ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটিতে চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদ শুন্যই রয়ে গেল, দীর্ঘ বছর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হয়েছে চীফ ইঞ্জিনিয়ারের কার্যক্রম। সিডিএ’র বর্তমান অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ মাত্র ১টি। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ৫ জন কর্মকর্তা এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরাসরি অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘন, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদোন্নতি না দিয়ে ভূমি মূল্যায়ন এস্টেট অফিসার (বিল্ডিং) এবং নকশাবিদদের মতো পদগুলোতে গ্রেড পরিবর্তনের মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী তদারকি না থাকায় এবং কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বেড়িবাঁধ কাম সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ধরনের অব্যবস্থাপনা সিডিএ’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ বছর পর জনবল নিয়োগের জট খুলছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময়ে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে সেবা প্রার্থীদের। মামলা জটিলতায় ২০১০ সালের পর থেকে সিডিএ কোন জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি। তবে ২০১০ সালের পর সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।প্রয়োজনে অগ্রানোগ্রাম পরিবর্তন করা হবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সিডিএ যেসব কাজ করছে তাতে আমাদের প্রায় দেড় হাজার জনবলের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের লোকবলের সংখ্যা অনেক কম। প্রথম ধাপে জনবল নিয়োগের পর অগ্রানোগ্রাম পরিবর্তন করে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিব।
যে কাজের পরিধি ও সিডিএ’র নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়লেও উল্টো কমেছে জনবল। ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না সেবাপ্রার্থীরা। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিডিএ থেকে ‘ছিনিয়ে নেওয়া’ জনবল নিয়োগের ক্ষমতা ফেরত পেয়েছে সিডিএ।
এনাম কমিটির এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় সিডিএ’র জনবলের সাংগঠনিক কাঠামোয় মোট পদের সংখ্যা ছিল ৫২০টি। পরবর্তীতে সাংগঠনিক কাঠামোর ৫২টি পদ বিলুপ্ত করা হয়। আবার সৃজন করা হয় ৫১টি পদ। সেই হিসেবে সিডিএ’র অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৫১৯টি। তবে বর্তমানে মোট ১৯৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫৮টি পদের মধ্যে ১৮টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪৭টি পদের মধ্যে ১০টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪১টি পদের মধ্যে ৬৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ২৭৩টি পদের মধ্যে ১০২টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম বলেন, আমার পূর্ববর্তীরা কেন অর্গানোগ্রাম আপডেট করতে পারেনি, সেটা তাদের বিষয়। আশা করি, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে অর্গানোগ্রাম আপডেট করে মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো। দেরী হওয়ার কারন সিডিএর প্লানিং, অথোরাইজেশন, ইনস্টলেশন সব শাখার সমন্বয় নিয়ে এটা করতে হবে। চীফ ইঞ্জিনিয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, শীঘ্রই এই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited