শিরোনাম
এস এম সালাহউদ্দিন, আনোয়ারা | ০৮:১১ পিএম, ২০২৫-০৯-২০
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্য নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বেপরোয়া চলাচল ও অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহী অটোরিকশার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে টোকেন ব্যবসার নামে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ এবং বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক ও আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকায় সিএনজি নিয়ন্ত্রণের নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাসিক কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালাচ্ছে।
এ চক্রটি মূলত রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, মালিক সমিতির নেতাকর্মী ও কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের যোগসাজশে পরিচালিত হচ্ছে।
চালকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি অটোরিকশার জন্য মাসে ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। বিনিময়ে চালকরা পান একটি ভিন্ন রঙের টোকেন, যার উপর ইংরেজি অক্ষরে লেখা থাকে মাসের নাম। এই টোকেনটি চালকদের বাধ্য হয়ে টুলবক্সে লুকিয়ে রাখতে হয়, যাতে চেকপোস্টে ধরা না পড়ে।স্থানীয়রা জানায়, সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার শিকলবাহার জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা এ চক্রের মূল হোতা। তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মো. সেলিম, বাহাদুর, পাগল জিয়া, ইউছুপ, রেদোয়ান, সুমন, আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী মসজিদের উত্তর পাশের বাড়ীর জাবেদ ও কায়সারসহ আরও কয়েকজন। তারা মইজ্জ্যারটেক থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, পেকুয়া হয়ে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত রুট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এ কাজে সহযোগিতা করছে শিকলবাহা চৌমুহনীর আবু সৈয়দ, যিনি স্থানীয়ভাবে “ট্রাফিক পুলিশের ক্যাশিয়ার” হিসেবে পরিচিত।
চালকদের দাবি, অনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবে টোকেন ব্যবসা শুরু হয়েছে। এতে প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কিছু ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং নামসর্বস্ব সমিতি এ চাঁদাবাজি আরও জোরদার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কর্ণফুলী ও আনোয়ারায় টোকেন ব্যবসা এখন প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে।
এ বিষয়ে মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) আবু সাঈদ বাকের বলেন, “টোকেনের ব্যাপারে আমরাও জেনেছি। যেসব গাড়িতে টোকেন পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আটক করছি।” তবে তিনি নিজে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করার পরে ফোন রিসিভ না করায় মতামত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজিব কান্তি রুদ্র বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। টোকেন বাণিজ্যের বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই টোকেন বাণিজ্য শুধু সিএনজি চালকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে। তাই দ্রুত প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ এবং কার্যকর তদারকি ছাড়া এ অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে না। এব্যাপারে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।
স্টাফ রিপোর্টার : : সিআইডির ওসি পরিচয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে তদন্তের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা ভুইয়া গলিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযো...বিস্তারিত
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি :: : কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে তপসি দাস (৪২) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্য...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে এক নারীকে ধর্ষণ করে সেই ঘটনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ, পরবর্তীতে সেগুলো দেখিয়ে দীর্ঘদ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্তে ২৫ লক্ষ টাকার ৮২ কেজি গাঁজা সহ ভারতীয় পন্য জব্দ করেছে বর্ডার গা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited