শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৪:৫১ পিএম, ২০২৬-০২-১৯
মাহবুবুল মাওলা রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি) :
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল নিজেরাই গর্তে পরবে বলে দেশব্যাপী জনগণের ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই বলেছেন বিএনপি'র বিসমিল্লাহই গলদ। যাদের শুরুটাই অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ কিভাবে যাবে এটা নিজেরাই বুঝা উচিত।
২৪ জুলাইকে অস্বীকার করা মানে দেড় হাজার শহীদ কে অস্বীকার করা, সাড়ে তিন হাজার আহত পঙ্গু ছাত্র জনতার সাথে গাদ্দারি করা। যাদের জীবন রক্তের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ বছর পর, অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সরকার গঠন করলো। যে জুলাইয়ের কারণে তারেক জিয়া নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসলো , সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তি হলো, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ভারত থেকে দেশে ফিরল, বিএনপি জামাতের হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল থেকে মুক্তি পেল জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হল, নতুন প্রজন্মের বিপুল তরুণ সংসদ সদস্য লাভ করলো, তাদেরকে অস্বীকার করা, অবজ্ঞা করা বিএনপির ঠিক হয়নি।
প্রত্যেক ক্রিয়ার যেমন প্রতিক্রিয়া থাকে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ শপথ না নেওয়ার এই প্রতিক্রিয়া বিএনপি'কে কড়াগন্ডাই হিসাব দিতে হবে বলে অনেকে মনে করেন। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি পথ চলার জন্য তাদের সাথে হয়তো আর কাউকে নাও পেতে পারে।
এদিকে জামায়াত, এনসিপি এমন কি চরমোনাইসহ আরো ছোট ছোট দলগুলো নিয়ে একসাথে বিএনপি'র এই দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে সহসা মাঠে নামবে। ইতোমধ্যে জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান এই ব্যাপারে সরকারকে কড়া ভাষায় আল্টিমেটাম দিয়েছে।
গণভোটের ব্যাপারে বিএনপির শুরু থেকে ধরি মাছ না ছুইপানি, দ্বিধাদ্বন্দ ছিল। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে কখনো হ্যাঁ কখনো না নিয়ে সময়ক্ষেপন করেছে, তারপর বিএনপি'র বেশ কিছু নেতা বিভিন্ন জায়গায় হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বললেও তার সূর ছিল খুবই দুর্বল। বিএনপি সংস্কারের পক্ষে না ভোট দেবে, এটা জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচার হলে তাদের মধ্যে কিছুটা ভোটের ব্যাপারে শংকা সৃষ্টি হয় । ১২ তারিখ নির্বাচনের মাত্র কয়দিন আগে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট দেয়ার সাথে সাথে সংবিধান সংস্কারে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান। জনগণের মনে আগে রাগ গোস্বা থাকলেও তারেক জিয়ার এই আহবানে বরফ গলতে শুরু করে। ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও এটার মূল কারণ। নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের কর্মীদের মাঝে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেয়ার কথা থাকলেও সংস্কারে হ্যাঁ প্রচারণা ছিল খুবই দুর্বল। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তাদের দৃশ্যমান কোন কিছু দেখা যায়নি।
একজন ভোটার হিসেবেও আমি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখি তাদের কর্মীরা ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা বলার সাথে সাথে, একটি না ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা করেছে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠানে সামনে ভেসে আসল।তাহলে কি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা "মুখে মধু অন্তরে বিষ" এটাই প্রমাণিত হল।
না ভোটতো তিন ভাগের একভাগ পড়েছে। বিএনপি যদি না ভোট অস্বীকার করে, এটা তাদের দলের না । তাহলে কি পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ এই ভোটগুলো দিয়েছিল বিএনপিকে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দিল। না ভোটের পক্ষে যতটুকু পড়েছে এটা জুলাইকে অস্বীকার করার নয় কি? সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ না নিয়ে বিএনপি এদেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।
বিএনপির বাড়াবাড়িতে খেলা উল্টো হতে পারে। রাষ্ট্রপতি যে অধ্যাদেশের কারণে ২০২৯ এর নির্বাচন না হয়ে ২৬ শে নির্বাচন হলো, তাতে স্পষ্ট লেখা এমপিরা দুটি শপথ নেবেন। একটি শপথ এমপি হিসেবে অন্যটি সংস্কার পরিষদের মেম্বার হিসেবে। যিনি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, তিনি একসাথে দুইটি পড়াবেন।
নির্বাচন কমিশনার সমস্ত এমপিদের কাছে শপথের আগে ২টি চিঠি দিয়েছেন। একটি এমপির শপথ, অপরটি সংস্কার কমিশনের মেম্বার হিসেবে শপথ। জামায়াতে ইসলামীর জোট দুটি শপথ পড়লেও বিএনপি-র এমপিরা শুধু এমপি হিসেবে শপথ করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না পড়ে তারা বড়ই ভুল করেছে।
১১ দলীয় জোট যারা সংস্কারের শপথ পড়েছে তারা জুলাই সনদসহ সংস্কার পরিষদের সভা ঢাকাতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এদিকে গণভোট নিয়ে বিএনপি'র পক্ষে কোর্টরিট করা হয়েছে। কোর্টের চ্যালেঞ্জ কোর্টে হবে। গণভোটের রায় জনগণের রায়। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এ রায় দিয়েছে, এ রায় কোর্ট কোনদিন চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য যারা শপথ নিয়েছে তারা সবাই মিটিং শুরু করে দিলেই বিএনপির দৌড়ের উপর থাকবে। সব মিলিয়ে বিএনপির বাড়াবাড়িতে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের দরজার দিন দিন মুক্ত হবে।
বিএনপি তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলেছে দেশের মানুষ ক্লান্ত, আন্দোলন সংগ্রাম করার মতো শক্তি সামর্থ্য এখন তাদের নাই। শুধু চাল ডাল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর হলে দেশের মানুষ আন্দোলন সংগ্রামে আর লিপ্ত হবে না। এটা তাদের ভুল ধারণা।
জামাতকে কোণঠাসা করতে গিয়ে বিএনপি নিজেই কোণঠাসা হয়ে গেল । জনগণকে ক্লান্ত বলে হেও করে তাদেরকে আবার চাঙ্গা করার জন্য স্মরণ করে দিল। এদেশের জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায় নামতে হয়, তাদেরকে আর জ্ঞান দিতে হবে না।
বিএনপির সকল কর্মকান্ডে রেমিটেন্স যোদ্ধরাও ক্ষেপে গিয়েছে। ইতিমধ্য তারা ছোটখাটো হুমকি দিয়েছে বিএনপিকে। প্রয়োজনে যোদ্ধারা দেশের ছাত্র-জনতা নিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করবে।
আজকের বিএনপি'র যে সকল তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বড় বড় কথা বলছেন, তারা দীর্ঘ ১৭ বৎসর আন্দোলন তো দূরের কথা মাঠে নামেননি । বাসার ড্রয়িং রুমে বসে বসে কিছু মুখরিত পরামর্শ দেওয়া সহজ, বাস্তবতা অনেক কঠিন । এই সকল বুদ্ধিজীবীরা এবং তাদের তথাকথিত লেজুর ভিত্তিক যারা আছে তারা ১৭ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে মুক্তি দিতে পারেনি, এমনকি তার বাসার সামনে বালুর ট্রাক সরাতে পারেনি, তারেক জিয়াকে দেশে ফিরাতে পারেনি। আজকে লম্বা লম্বা কথা বলে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত ।
বিএনপি’র উচিত সহসা সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে বিরোধীদলসহ দেশ গঠনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। অন্যথায় আন্দোলনের দানা যেকোনো সময় প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited