চট্টগ্রাম   শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি প্রভাষকের খোলা চিঠি

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৭:৫২ পিএম, ২০২৬-০৮-১০

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি প্রভাষকের খোলা চিঠি

আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রসঙ্গে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করা প্রভাষকের খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়, 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়: দেশের ক্রম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আশা করি, দেশের কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা নিয়ে আজ আপনার কাছে এই খোলা চিঠি লিখছি।

একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ। আর জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো—তারা নিরাপদে বসবাস করবে, নির্বিঘ্নে চলাফেরা করবে, নিজের কর্মস্থলে যাবে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে জীবনযাপন করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জন- নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখ তুবড়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়।

চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মারা-মারি এবং নানা ধরনের অপরাধ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে—এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সম্প্রতি টেকনাফের দিন দুপুরে বিকাশের এজেন্টের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই,ঈদগাও উপজেলার ঘর ডাকাতি মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করেছে। দেশের  কোথাও কোথাও অপরাধীরা প্রকাশ্যে অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে, আবার কোথাও ভুক্তভোগীরা মামলা করা কিংবা আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেন।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আইনশৃঙ্খলা কেবল পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন নাগরিক যখন রাস্তায় বের হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না—এই দুশ্চিন্তায় থাকেন, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ মানুষ অপরাধীর হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আমরা চাই না কোনো পরিবার একজন প্রিয়জনকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ুক। আমরা চাই না একজন সাধারণ ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির ভয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিক। আমরা চাই না একজন শিক্ষার্থী বা নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হোক। সর্বোপরি, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে অপরাধীর পরিচয় নয়, আইনের শক্তিই হবে  অপরাধীদের সবচেয়ে বড় ভয়।কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।রাষ্ট্রই সবার আগে।সুতরাং রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল ও রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলেই আপনার সফলতা।

এ কারণে আপনার কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি—

প্রথমত: অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে।সম্ভবপর হলে সেনাবাহিনী ও যৌথবাহিনি চৌকি বসিয়ে দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা। 

দ্বিতীয়ত: মাদক ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর, নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কারণ মাদক অনেক সময় অন্যান্য অপরাধেরও অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে।

তৃতীয়ত: চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাস,অপহরণ, ধর্ষণ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত: থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি, হয়রানি বা অনীহা থাকলে তা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে জনগণ ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের ভয় নয়, বরং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

পঞ্চমত: কিশোর গ্যাং ও তরুণদের অপরাধপ্রবণতা রোধে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ষষ্ঠত: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যারা দায়িত্বে অবহেলা করেন বা অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ করেন, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার অধিকার কখনো পরিবর্তিত হওয়ার নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক, যে পরিচয়েরই হোক কিংবা যত প্রভাবশালীই হোক—তার বিরুদ্ধে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা না গেলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আপনাকে ও সাধারণ জনগণের বিষোদগারের মুখোমুখি হতে হবে। 

আমরা কঠোরতা চাই, কিন্তু অন্যায় কঠোরতা চাই না। আমরা অপরাধীর শাস্তি চাই, কিন্তু নিরপরাধের হয়রানি চাই না। আমরা পুলিশের সক্রিয়তা চাই, কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার চাই না। আমরা এমন একটি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে ভয় পাবেন না; বরং ন্যায়বিচারের আশ্বাস পাবেন।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়, আজকের এই খোলা চিঠি কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। এটি একজন সচেতন নাগরিকের উদ্বেগ, একজন সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

আপনার মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই—অপরাধ যত বড়ই হোক, আইনের হাত তার চেয়ে বড় হবে; অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের কাছে সে অসহায় হবে; আর সাধারণ মানুষ যত দুর্বলই হোক, রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে।

আসুন, আমরা এমন একটি নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ  বাংলাদেশ গড়ে তুলি— যেখানে রাতের রাস্তায় চলতে মানুষ ভয় পাবে না, যেখানে ব্যবসায়ী চাঁদাবাজের ভয়ে থাকবে না, যেখানে শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না, যেখানে নারী ও শিশু নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে, যেখানে থানায় গেলে সাধারণ মানুষ সম্মান ও সহযোগিতা পাবে এবং যেখানে অপরাধীর কাছে ক্ষমতা নয়, আইনের শাসনই হবে শেষ আশ্রয়স্থল।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা—জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত, দৃশ্যমান, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

দেশের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, আইনের শাসন চায়। সুশাসন চাই।তাদের এই ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এটাই আমার বিশ্বাস।

বিনীত 

একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক

মুফিজুর রহমান

প্রভাষক, রঙ্গিখালি দারুল উলুম ফাযিল ডিগ্রী মাদ্রাসা।

রিটেলেড নিউজ

প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের বেড়াজালে সামাজিক সংগঠনসমূহ

প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের বেড়াজালে সামাজিক সংগঠনসমূহ

আমাদের ডেস্ক : : লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম  আমাদের সমাজে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন কিংবা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক à...বিস্তারিত


বিদায়ের প্রহরে ইউএনও মঞ্জুর আলম, আলীকদমবাসীর হৃদয়ে মানবিক এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

বিদায়ের প্রহরে ইউএনও মঞ্জুর আলম, আলীকদমবাসীর হৃদয়ে মানবিক এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ: একজন কর্মকর্তা আসেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং একদিন বদলির আদেশ নিয়ে চলে যা...বিস্তারিত


আন্দোলনের মুখে সাত দিন ধরে সার্কিট হাউসে চুয়েটের নতুন ভিসি

আন্দোলনের মুখে সাত দিন ধরে সার্কিট হাউসে চুয়েটের নতুন ভিসি

স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়à...বিস্তারিত


লবণের স্তরে সংরক্ষিত ঐতিহ্য: চট্টগ্রামের নোনা ইলিশের গল্প

লবণের স্তরে সংরক্ষিত ঐতিহ্য: চট্টগ্রামের নোনা ইলিশের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফিশারিঘাটের পুরোনো মাছবাজারে সকাল শুরু হয় ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। একদিকে সদ্য ধরা রুপালি ইলিশের হাঁ...বিস্তারিত


চুয়েটের সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চুয়েটের সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার চোখে কালো কাপড় বে...বিস্তারিত


ইঞ্জিন-জনবল সংকটে পূর্বাঞ্চলে সংকুচিত রেলসেবা

ইঞ্জিন-জনবল সংকটে পূর্বাঞ্চলে সংকুচিত রেলসেবা

খবর বিজ্ঞপ্তি : একসময় যেসব রেলপথে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের ছুটে চলা ছিল নিয়মিত দৃশ্য, এখন ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর