শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৫৬ পিএম, ২০২৬-০৮-০৬
পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, পায়েসে চিনিগুঁড়া চালের জুড়ি মেলা ভার। বিয়ে থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের অতিথি আপ্যায়নে চিনিগুঁড়া পছন্দের শীর্ষে।
ছোট ছোট দানা, সুগন্ধ আর অপূর্ব স্বাদের কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজয় করছে চিনিগুঁড়া। এ কারণে রপ্তানি হচ্ছে চালটি।
তবে রপ্তানির অজুহাতে নৈরাজ্য চলছে দেশের বাজারে। খোলা ও প্যাকেজজাত চিনিগুঁড়ার দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
শুধু যে দাম বাড়ছে তা নয়, কমদামি মোটা চাল মেশিনে কাটছাঁট করে চিনিগুঁড়ার নামে খোলা বাজারে ছাড়ছে এমন সন্দেহ ভোক্তাদের।
চট্টগ্রামের প্রধান দুইটি চালের বাজার চাক্তাই ও পাহাড়তলী।
দুই বাজারের আড়তদারেরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া, নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ চালের প্রধান বিপণিকেন্দ্রগুলোতে চিনিগুঁড়ার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।
চাক্তাইয়ের চাল ব্যবসায়ী অজয় মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, চিনিগুঁড়া রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মে মাসে সোনার চাবি ব্রান্ডের চিনিগুঁড়া বিক্রি করেছি ৭ হাজার ২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ৯ হাজার ৩০০ টাকায় ঠেকেছে। নবাব, ডায়মন্ড, সনজয়, অনজন, সাগর সুপার, বাবুর্চিসহ অনেক নামের বস্তা রয়েছে চিনিগুঁড়ার। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান উঠবে। তখন বাজারে চিনিগুঁড়াসহ সব ধরনের চালের দাম কমবে।
পাহাড়তলীর মেসার্স হক অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. লোকমান চালের আড়তে কাটিয়েছেন ৪০ বছর। তিনি জানান, সোনার চাবি ব্রান্ডের চিনিগুঁড়া ৫০ কেজি ৮ হাজার টাকা। ২ মাস আগে ছিল পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। নবাব ব্রান্ডের চিনিগুঁড়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা ৫০ কেজি।
তিনি জানান, পাইকারি বাজারে দাম ওঠানামা করে মোকামে দামের তারতম্যের কাছে। চাহিদা বেশি হলে দাম বেড়ে যায়, আবার চাহিদা না থাকলে কম লাভে, কেনা দামেও বিক্রি করে টাকা নগদ করা হয়।
খুচরা বাজারে দেখা গেছে, চিনিগুঁড়া চাল মান ও ব্রান্ড ভেদে ১৭০-২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শপিং ব্যাগ নামের একটি সুপারশপে খোলা চিনিগুঁড়া ২১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ১৯০ টাকা থাকলেও নতুন প্যাকেটে এমআরপি লেখা হয়েছে ২৩০ টাকা।
নাম প্রকাশ না করে কাজীর দেউড়ির একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, কম দামে কেনা চিনিগুঁড়ার প্যাকেট ছিঁড়ে অনেকে খুচরায় ২০০ টাকাও বিক্রি করছেন। খোলা চিনিগুঁড়ায় নকল, ভেজাল, ভাতের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলেও প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়ার কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহ নেই।
মোমিন রোডের হক স্টোরে কেনাকাটা করতে আসা রোকসানা বেগম বলেন, এ বছর অস্বাভাবিক বেড়েছে চিনিগুঁড়া চালের দাম। এত দাম এ জীবনে আর দেখিনি। ছোট্ট শিশুরা বড় দানার ভাত খেতে চায় না দেখে আলাদা করে কয়েক মুঠো চাল রান্না করে দিতাম। মেহমান আসলে চিনিগুঁড়ার পোলাও রান্না করতাম। এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে দাম। শুধু চিনিগুঁড়া নয়, কাটারি চালও ৯৫-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের পাশাপাশি চিনিগুঁড়া নিয়ে বিপদে আছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং সার্ভিস। চালের দাম বাড়লেও ভাতের দাম বাড়াতে সাহস পাচ্ছে না। এতে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার শঙ্কা তাদের।
কাজীর দেউড়ির ক্যাফে লায়লা হোটেলের ম্যানেজার জানান, চিনিগুঁড়ার পোলাও বিক্রি করি। চালের দাম বাড়ছে। লাভ হচ্ছে না। তারপরও পোলাওয়ের দাম বাড়াইনি এখনও।
জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সুগন্ধি চাল রফতানির জন্য ৭৯টি প্রতিষ্ঠান অনুমতি নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ মে’র অনুমোদন থেকে ৭৩টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৪ জুলাইয়ের অনুমোদন থেকে ৬টি প্রতিষ্ঠান অনুমতি নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমতি নেওয়ার প্রবণতা খুবই কম।
প্রতিকেজি সুগন্ধি চালের রপ্তানি মূল্য সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৬০ ডলার হলে (১৯৫ টাকা) দেশের বাজারে তা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানির মাধ্যমে দেশে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছিল। সেবার ৬৬৩ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়। পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে হয় ২০ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ ছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে এই আয় আরও কমে ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি স্থগিত রাখে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
দেশে বছরে সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনুমতিসাপেক্ষে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে। এর মধ্যে কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়া, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসী মালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল, দুলাভোগ ইত্যাদি রয়েছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ২০২৫-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৪৭ দশমিক ২৯ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১২ দশমিক ৩০৬ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ দশমিক ২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, যখন থেকে প্যাকেট করা শুরু হয়েছে তখন থেকেই চিনিগুঁড়ার দাম বাড়তে শুরু করে। রপ্তানির অজুহাতে এবার নৈরাজ্য চলছে। দাম বাড়ায় নকল, ভেজাল, মানহীন চাল মেশিনে কেটে ছেঁটে চিনিগুঁড়া চালের নামে বিক্রির অভিযোগ আসছে। এসব চালে কৃত্রিম সুবাস রান্নার পর থাকছে না। স্বাদ যেমন নেই তেমনি ঝরঝরে হচ্ছে না ভাত। রীতিমতো প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা।
তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে চিনিগুঁড়ার চাহিদা বিভিন্ন দেশে বাড়ছে। বিশেষ করে যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আছেন। কিন্তু রপ্তানির অজুহাতে দেশের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি মেনে নেওয়া যায় না। উৎপাদন, মজুত, রপ্তানির সঠিক পরিসংখ্যান, দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যাসহ সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া উচিত। মিথ্যা ঘোষণায় ভিন্ন পণ্যের চালানে চিনিগুঁড়া পাচার হচ্ছে কিনা সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা- খুচরা বাজারে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। নয়তো ইলিশের মতো চিনিগুঁড়াও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
আমাদের ডেস্ক : : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জ...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির এক সভা ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইসলামী ব্...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির করাক...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ফট...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : অনিরুদ্ধ অপু: এশিয়াখ্যাত কর্ণফুলী পেপার মিলকে আরো আধুনিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ কেম...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited