শিরোনাম
আনোয়ারা প্রতিনিধি : | ০৭:৪৩ পিএম, ২০২৬-০৫-০৯
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তিলক শীলের বিরুদ্ধে নামজারি (মিউটেশন), দাখিলা কাটা, মিস মামলার তদন্ত, জমির রিপোর্ট প্রদানসহ বিভিন্ন সেবায় প্রকাশ্যে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বেতনের বাইরে প্রতি মাসে তার অবৈধ আয় লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারখাইন ভূমি অফিস এখন যেন একটি ঘুষের কারখানায় পরিণত হয়েছে। অফিসে সরাসরি টাকা লেনদেন এড়াতে তিলক শীল অফিসের ঝাড়ুদার নয়নকে ব্যবহার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়ুদারকে অফিসারের মতো চেয়ার, টেবিল দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র টাকা আদায়ের কাজে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়ে পরে ফাইল নড়াচড়া করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি নামজারির ফাইলের প্রস্তাব পাঠাতে সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ফাইল জমা পড়ায় শুধু প্রস্তাব পাঠিয়েই মাসে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দাখিলা কাটা, তদন্ত রিপোর্ট, জমির কাগজ যাচাই সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ৭০ টাকা আবেদন ফি এবং ১১০০ টাকা ডিসিআর ফি জমা দিয়েই নামজারি সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে একজন আবেদনকারীকে সার্ভেয়ার খরচ, কানুনগো খরচ, রিপোর্ট খরচ, ডিসিআর খরচ, সহ নানা অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এক ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি একটি ১৪৫ ধারার মামলার তদন্তের জন্য তিলক শীলের কাছে গেলে তাকে মোবাইলে কল দিয়ে ডকুমেন্টসহ টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তিনি ১ হাজার টাকা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিলক শীল তাকে বলেন তদন্তে গেলে আরও মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। কিন্তু পরে তিনি আর তদন্তে না গিয়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী। একই পোস্টে তিনি তিলক শীল ও ঝাড়ুদার নয়নের বিরুদ্ধে বড় বাটপার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বহু মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভূমি অফিস নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কেন কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারখাইন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তিলক শীলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব দেননি।
অপরদিকে, আনোয়ারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি তার মোবাইলে প্রকাশিত সংবাদ পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বারখাইনসহ আনোয়ারা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য, ক্যাজুয়েলদের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক নীরবতার পেছনের রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী একাধিক পর্বে প্রকাশ করা হবে।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited