শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৯:২৩ পিএম, ২০২৬-০৮-১২
ডাকটিকিটের আকার ছোট, কিন্তু তার ভেতরে কখনো কখনো জমা থাকে একটি দেশের দীর্ঘ ইতিহাস। একটি ছবি, কয়েকটি অক্ষর, একটি তারিখ কিংবা ডাকমোহর—সব মিলিয়ে যেন সময়ের ছোট্ট একটি জানালা। সেই জানালা দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন দেখেছেন সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান। ডাকটিকিট তাঁর কাছে ছিল না নিছক সংগ্রহের বস্তু; ছিল সময়কে ধরে রাখার এক অনন্য দলিল। সেই দলিলের পাঠোদ্ধার করতে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন গবেষক, সংগ্রাহক ও ইতিহাসের একনিষ্ঠ অনুসন্ধানী। পাশাপাশি সাহিত্য ও অনুবাদেও রেখে গেছেন তাঁর স্বতন্ত্র স্বাক্ষর।
দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১০ আগস্ট ২০২৬, সোমবার রাত ৯টায় ঢাকার উত্তরার আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দ্বীপজ প্রকাশনীর প্রকাশক সাব্বির আলম এবং তাঁর প্রয়াত ছেলের বন্ধু ফারজানা সুলতানা নীলা।
তাঁর মৃত্যুসংবাদে হঠাৎ মনে পড়ে গেল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের একটি বিকেলের কথা। ঢাকার আজিমপুরে তাঁর বাসায় তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল। আলাপের বিষয় ছিল তাঁর জীবন, সংগ্রাম, সাহিত্য, অনুবাদ, গবেষণা এবং সময়ের নানা বাঁক। বয়সের ভার তখন শরীরে স্পষ্ট, কিন্তু কথায় ছিল অদম্য প্রাণশক্তি। নিজের জীবনের নানা উত্থান-পতন, বাধা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তিনি বলেছিলেন অকপটে।
সেই সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিকতা খুব দ্রুতই সরে গিয়েছিল। কথোপকথন পরিণত হয়েছিল এক মানুষের জীবনসংগ্রামের অন্তরঙ্গ গল্পে। তাঁর কথা শুনতে শুনতে মনে হয়েছিল, একজন মানুষের জীবনী কেবল জন্ম, শিক্ষা, চাকরি আর বইয়ের তালিকা দিয়ে লেখা যায় না; তার পেছনে থাকে দীর্ঘ পথচলা, হারানোর বেদনা, স্বপ্ন এবং অদম্য চেষ্টা।
যশোর থেকে কলকাতা, তারপর জ্ঞানচর্চার পথে
সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানের জন্ম ১৯৪৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যশোরের খড়কি এলাকায়। বাবার চাকরিসূত্রে তাঁর শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে কলকাতায়। ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সেখানে তাঁর স্কুলজীবন কাটে। পরে ফিরে আসেন যশোরে এবং সেখানেই কলেজজীবন শেষ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ তাঁর শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলেছিল। পরে তিনি বি.এড. সম্পন্ন করেন এবং ১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইংরেজি সাহিত্যের এই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুবাদকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজিতে অনুবাদের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের নানা রচনাও তিনি বাংলায় রূপান্তর করেছেন।
কর্মজীবনে নানা পরিচয়
সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানের কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। শিক্ষকতা, প্রশাসন, সম্পাদনা, প্রকাশনা, অনুবাদ ও জনসংযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন।
তরুণ বয়সেই সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। Asian Voice নামে একটি পেন-ফ্রেন্ডশিপ ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে The Bangladesh Monitor ও Dhaka Calling-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে একসময় একাডেমিক ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ২০১৯–২০২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Printing and Publication Studies বিভাগে Adjunct Faculty Member হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কর্মজীবনের এই বৈচিত্র্যই হয়তো পরবর্তী সময়ে লেখক, গবেষক ও অনুবাদক সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানকে গড়ে তুলেছিল।
ডাকটিকিট যখন ইতিহাসের দলিল
তাঁর জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ফিলাটেলি গবেষণা। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের ডাকব্যবস্থা, ডাকটিকিট, ডাক-ইতিহাস, মুদ্রা ও কাগজি মুদ্রা নিয়ে নিয়মিত গবেষণা শুরু করেন।
শুরুতে যা ছিল আগ্রহ, সময়ের সঙ্গে তা-ই হয়ে ওঠে গভীর অনুসন্ধান। তিনি বুঝেছিলেন—একটি দেশের ইতিহাস শুধু বই কিংবা সরকারি নথিতে থাকে না; অনেক সময় তা লুকিয়ে থাকে ডাকটিকিট, ডাকমোহর, পুরোনো খাম কিংবা মুদ্রার মতো ছোট ছোট উপাদানে।
সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাংলাদেশের ডাকটিকিটকে দেখেছেন ইতিহাসের একটি দৃশ্যমান দলিল হিসেবে। ডাকটিকিটের ছবি, প্রকাশের সময়, বিষয়বস্তু ও ব্যবহার—সবকিছুর মধ্যে তিনি খুঁজেছেন একটি সময়ের পরিচয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিলাটেলিক স্টাডিজের সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষণায় রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ কাজ
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত Bangladesh Stamps and Postal History তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থগুলোর একটি। বাংলাদেশের ডাকটিকিট ও ডাক-ইতিহাস নিয়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক গবেষণাকর্ম।
পরবর্তী সময়ে তাঁর গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। A History of Bangladesh Philately 1971–1985, Bangladesh First Day Cover Catalogue 1971–2019 এবং Bangladesh: Postage Stamps Catalogue (1971–2023) তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষ করে Bangladesh: Postage Stamps Catalogue (1971–2023)-এ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস ও তথ্য সংকলনের চেষ্টা করা হয়েছে।
দেশের বাইরেও তাঁর গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিলাটেলিক প্রদর্শনীতে তাঁর গবেষণাকর্ম পুরস্কৃত হয়েছে। ২০২৩ সালে ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ দেশের ফিলাটেলি অঙ্গনে আজীবন অবদানের জন্য যে সাতজনকে সম্মাননা দেয়, তাঁদের একজন ছিলেন সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান।
অনুবাদে ভাষার সীমানা পেরিয়েছেন
ফিলাটেলি গবেষণার পাশাপাশি সাহিত্য ও অনুবাদেও ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। বাংলা কবিতাকে ইংরেজি ভাষায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর কাজ ছিল ব্যাপক। বিভিন্ন প্রকাশনা-সূত্রে তাঁর অনূদিত কবিতার সংখ্যা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্যের নানা রচনাও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাঁর অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ড্রাকুলা’, ‘রবিনহুড’, ‘ফেনার রাজ্য’, ‘মহানবীর মহাবাণী’, ‘এক টুকরো হলুদ কাগজ ও অন্যান্য গল্প’ এবং ‘বিড়ালের শহর ও অন্যান্য গল্প’।
হারুকি মুরাকামির গল্পের অনুবাদ ‘বিড়ালের শহর ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশিত হয় ২০২২ সালে। রুশ লেখক ইভান ইয়েফ্রেমভের কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক রচনা ‘ফেনার রাজ্য’-ও তাঁর অনুবাদে বাংলা পাঠকের কাছে পৌঁছেছে।
তাঁর অনুবাদকর্ম ছিল দুই দিকের সেতু—একদিকে বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজিভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অন্যদিকে বিশ্বসাহিত্যের নানা রচনাকে বাংলাভাষী পাঠকের কাছে নিয়ে আসা।
মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের প্রতি দায়
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও ছিল তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। ‘দুর্দিনের অশ্রুধারা’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধে নিহত, আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংকলনের চেষ্টা করেছেন তিনি।
ইতিহাসের বড় ঘটনাকে শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও মৃত্যুর তথ্যের মধ্য দিয়েও দেখার চেষ্টা ছিল তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশের মুদ্রার ইতিহাস নিয়েও তাঁর আগ্রহ ছিল। ‘কড়ি থেকে টাকা’-র মতো গ্রন্থে মুদ্রার বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু : ডাকটিকিট, কাগজি ও ধাতব মুদ্রায়’ গ্রন্থে ডাকটিকিট, কাগজি মুদ্রা ও ধাতব মুদ্রার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে।
এক পুত্রের কবরের পাশে
তাঁর জীবনের আরেকটি গভীর বেদনার অধ্যায় ছিল একমাত্র পুত্রকে হারানোর শোক। ২০২৪ সালের সেই সাক্ষাতের সময় তাঁর কথায় জীবনের নানা অর্জনের পাশাপাশি এই ব্যক্তিগত শূন্যতার ছায়াও অনুভব করেছিলাম।
তাঁর একমাত্র পুত্রের কবর জিয়ারত করতেও একদিন তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেই যাত্রার স্মৃতি আজ তাঁর মৃত্যুর পর আরও তীব্র হয়ে ফিরে আসছে।
মিরপুরে আমার বাবারও কবর। রাজধানীতে গেলে সুযোগ পেলেই সেখানে যাই, বাবার কবর জিয়ারত করি। সেই সূত্রেই সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর একমাত্র পুত্রের কবরের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিটি আমার নিজের জীবনস্মৃতির সঙ্গেও মিশে গেছে।
কবরের নীরবতার সামনে মানুষ যেন তার সব পরিচয় হারিয়ে ফেলে। সেখানে লেখক, গবেষক, অনুবাদক কিংবা পেশাজীবী পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে শুধু মানুষটি—তার ভালোবাসা, তার হারানোর বেদনা এবং তার স্মৃতি।
সেদিন তাঁর সঙ্গে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, জীবনের সব অর্জনের পরও মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো তার সম্পর্কগুলোতেই। আজ তিনি নিজেই চলে গেলেন; তাঁর পুত্রের কবরের পাশে দাঁড়ানোর সেই স্মৃতিও তাই আমার কাছে হয়ে রইল তাঁর জীবনের এক গভীর মানবিক অধ্যায়ের সাক্ষ্য।
বইয়ের পাতায় বিস্তৃত এক জগৎ
সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানের লেখালেখির পরিসর ছিল বিস্তৃত। গবেষণা, ইতিহাস, ফিলাটেলি, মুদ্রা, মুক্তিযুদ্ধ, অনুবাদ, গল্প, উপন্যাস ও স্মৃতিকথা—বিভিন্ন ধারায় তিনি লিখেছেন ও অনুবাদ করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও প্রায় ৭৫টি, আবার কোথাও শতাধিক প্রকাশনার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে তাঁর কাজের বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য বই ‘জিপসি জীবন’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৬৩২ পৃষ্ঠার এই বই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যিক সত্তার আরেকটি পরিচয় বহন করে।
একজন মানুষের ভেতর বহু পরিচয়
সিদ্দিক মাহমুদুর রহমানকে শুধু লেখক বললে তাঁর পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁকে শুধু অনুবাদক বললেও তাঁর গবেষণার বড় অংশ আড়ালে থেকে যায়। আবার কেবল ফিলাটেলি গবেষক বললেও তাঁর সাহিত্যিক সত্তার প্রতি অবিচার হয়।
তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ডাকটিকিটে ইতিহাস খুঁজেছেন, মুদ্রায় সময়ের পরিবর্তন পড়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করেছেন এবং অনুবাদের মাধ্যমে ভাষার সীমানা পেরিয়েছেন।
তাঁর কাজের বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তথ্য সংরক্ষণের দায়বোধ। যে তথ্য সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারত, তা বইয়ের পাতায় ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।
আর ২০২৪ সালের সেই আজিমপুরের বাসায় বসে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের কথা মনে হলে মনে হয়, তাঁর বইয়ের পাতার বাইরেও ছিল আরেকটি বড় গ্রন্থ—তাঁর নিজের জীবন। সংগ্রাম, সাফল্য, বেদনা, ভালোবাসা, হারানো এবং আবার উঠে দাঁড়ানোর সেই জীবনকথা।
চলে গেলেন মানুষ, রয়ে গেল সময়ের দলিল
মানুষ চলে যায়, সময়ও চলে যায়; থেকে যায় কিছু চিহ্ন। কখনো একটি ডাকটিকিটে, কখনো একটি পুরোনো খামে, কখনো কোনো বইয়ের পাতায়। সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান সেই চিহ্নগুলোকে হারিয়ে যেতে দেননি। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দলিল থেকে তুলে এনেছেন বাংলাদেশের বড় ইতিহাস।
আজ তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মনে হচ্ছে, ২০২৪ সালের সেই আজিমপুরের বিকেলটি যেন হঠাৎ আরও দূরে সরে গেল। অথচ কথাগুলো রয়ে গেছে—তাঁর সংগ্রামের কথা, কাজের কথা, হারানোর কথা—সবই।
মিরপুরে বাবার কবর জিয়ারত করতে গেলে হয়তো এখন তাঁর একমাত্র পুত্রের কবরের কথাও মনে পড়বে। মনে পড়বে, একদিন সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সংগ্রামী মানুষের কথা। মনে পড়বে, আজিমপুরের সেই বাসায় বসে বলা তাঁর দীর্ঘ জীবনের গল্প।
মানুষের জীবন শেষ হয়, স্মৃতি শেষ হয় না। কাজও নয়।
সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান আজ নেই। কিন্তু তাঁর গবেষণাগ্রন্থ, অনুবাদ, সংগ্রহ এবং রেখে যাওয়া তথ্যের ভেতর তিনি বেঁচে থাকবেন। কোনো পুরোনো ডাকটিকিটে চোখ পড়লে, বাংলাদেশের ডাক-ইতিহাসের কোনো পাতা খুললে কিংবা তাঁর অনূদিত কোনো বইয়ের পাতা উল্টালে হয়তো আবার মনে হবে—তিনি কোথাও যাননি; তিনি রয়ে গেছেন তাঁর সংগ্রহ করা সময়ের ভেতর, তাঁর রেখে যাওয়া শব্দের ভেতর।
লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইওয়ে পুলিশ সর্বাধুনিক এআই (Artificial Intelligence- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চা...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : "রাসুল (সা.)-এর সীরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে যাচাই-বাছাইহীন ও অসত্য তথ্যনির্ভ...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)—এর ২০২৪ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : নিজের ফেসবুক একাউন্টের বায়ো ক্যাপশনে যখন লিখছিলেন, আমার মরণে যদি আপনার অশ্রু না গড়ায়, তবে আমার জন্...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো এক সকালে অফিসের দরজা খুলে দেখা গেল—বছরের পর বছর নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা মানুষ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited