শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৭:৫২ পিএম, ২০২৬-০৪-০১
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদে বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম জানিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার শাখাওয়াত হোসেন বাবুল উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘ সময় টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করেছে। এ তথ্য নিঃসন্দেহে আমাদের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দেয়।
হাম একটি দ্রুত সংক্রামিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত টিকাদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অতীতে টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় দেশে হামের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু সে ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ায় এখন নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে—যা একটি সতর্ক সংকেত।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগে—কেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে শিথিলতা দেখা দিল? টিকাদান কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, যেখানে পরিকল্পনা, সরবরাহ, সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন—সবকিছুই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যে-কোনো একটি স্তরে ব্যত্যয় ঘটলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।
সরকারের নতুন করে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের ওপর। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, যেমন ঘনবসতিপূর্ণ নগর বস্তি ও শরণার্থী শিবির—এ বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। এসব এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই সেখানে দ্রুত ও কার্যকর টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংক্রমণ শুরু হওয়া এবং রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। এজন্য শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ। নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাছাড়া টিকাদান নিয়ে জনসচেতনতা ও আস্থা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য বা গুজব অনেক সময় মানুষকে টিকা গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। তাই গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নির্ভুল তথ্য প্রচার বাড়াতে হবে, যাতে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তাই হাম প্রতিরোধে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুপরিকল্পিত, ধারাবাহিক এবং সমন্বিত পদক্ষেপ। অতীতের ঘাটতি থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তবে এই সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
লেখক : জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্রাক্তন) ইসলামি হোমিও ক্লিনিক, চাক্তাই, চট্টগ্রাম।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited