শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০:২৩ পিএম, ২০২৫-১০-১২
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। ঠিক এমন সময়, চট্টগ্রামের জিইসিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান ও খুলশী থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে— প্রকৃত সাংবাদিকতার দায়বোধ বনাম পতিত ক্ষমতার দোসর সাংবাদিকের মুখোশ।
১১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একদল কর্মী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেয় এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে অন্তত দশজনকে আটক করে। পরদিন খুলশী থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক জুবায়ের ইবনে শাহাদাত—যিনি অতীতে ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ—ভিডিও ধারণ শুরু করেন।
থানায় উপস্থিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে ভিডিও বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, তিনি নির্দেশ মানেননি, বরং উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে বাইরে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সাক্ষাৎকার নিতে থাকেন। পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, তার আচরণ “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারী” ছিল।
জুবায়ের: সাংবাদিক নাকি পতিত শাসকগোষ্ঠীর সুবিধাভোগী?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জুবায়ের পূর্বে পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। তার পিতা শাহাদাত হোসেন তালুকদার ছিলেন রাঙুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য। বলা হয়ে থাকে, মন্ত্রীত্বকালে হাসান মাহমুদের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই তাঁকে যমুনা টিভিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তার ফুফা শাহাজাহান সিকদার বর্তমানে রাঙুনিয়া পৌরসভার মেয়র— আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। আরও জানা যায়, মন্ত্রী হাসান মাহমুদের একান্ত সচিব হিসেবে পরিচিত সাংসদ আজাদ তালুকদারও জুবায়েরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এ বিষয়ে জুবায়ের এর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক মহলের প্রতিক্রিয়া — “এরা সাংবাদিক নয়, পতিত ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দোসর”
চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিকদের একাংশ বলেন, “আইনের প্রক্রিয়া চলাকালে ভিডিও ধারণ করা সাংবাদিকতার নীতি নয়। সাংবাদিকতা মানে দায়িত্ব নেওয়া, প্রশাসনের কাজে বাধা সৃষ্টি করা নয়।”
আরেকজন সিনিয়র রিপোর্টার মন্তব্য করেন, “আজ সারাদেশে যখন মানুষ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত, তখন কিছু তথাকথিত সাংবাদিক পতিত ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারও মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। এদের আমরা সাংবাদিক বলতে রাজি নই।”
ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “আইনের প্রয়োগে কেউ বাধা দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। সাংবাদিকদের আমরা সম্মান করি, কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে মাঠে নেমে পুলিশকে উস্কানি দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
মানববন্ধনেও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী!
পরবর্তীতে জুবায়েরের সমর্থনে যে “প্রতিবাদ ও মানববন্ধন” কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, তাতেও উপস্থিত ছিল যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বক্তব্য দেয় এবং মানববন্ধনের নেতৃত্বও দেয়। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে— এই প্রতিবাদ কি সাংবাদিকতার পক্ষে, নাকি নিষিদ্ধ দলীয় পুনরুত্থানের অংশ?
একদিকে দায়িত্বশীল ও জনগণের পক্ষে থাকা সাংবাদিকরা, অন্যদিকে পতিত ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার অবশিষ্ট সুবিধাভোগী ‘আওয়ামী দোসর সাংবাদিক’রা। আন্দোলনের ইস্যু তৈরিতে ফ্যাসীবাদী সাংবাদিকদের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি সচেতন মহলের।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited