শিরোনাম
চবি প্রতিনিধি : | ০৫:২২ পিএম, ২০২৬-০১-১১
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ'কে হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানান আলোচনা। চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সম্মতি ছাড়া কাউকে জোর করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া অপহরণ। অপরাধী হলেও কোনো শিক্ষক বা কোনো মানুষকে জোরপূর্বক কোথাও নিয়ে যাওয়ার অধিকার কারও নাই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও সরকারের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা চাই’। এই শিক্ষকের সহপাঠী রেজাউর রহমান লেনিন লিখেছেন, ‘হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকার সংক্রান্ত শিক্ষার পাঠদানে আমরা সহপাঠী ছিলাম, আমাদের তফাৎ অনেক। ...তিনি যদি অপরাধ করে থাকেন এবং মামলা থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছাত্রশিবিরের চাকসু প্রতিনিধি তাকে ধরবেন কেন? ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন, ভিডিও দেখে তাই মনে হচ্ছে; কিন্তু অভিযোগ আছে তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে; নির্যাতন করা হয়েছে। সত্য ও মিথ্যা বাইরে, শিক্ষককে মামলা ছাড়া এমনভাবে আটক করা, আহত করা অপরাধ, নিন্দা জানাচ্ছি’। প্রতিবাদের মিছিলে সরব হয়েছেন চাকসু নেতাও। চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে যেভাবে চাকসু নেতারা তাঁকে আটক করেছেন, তা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সমর্থনযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনলে একই সঙ্গে অভিযুক্ত অন্য শিক্ষকদের বিচারও নিশ্চিত করা যেত’। এমন সব পোস্টের পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণ ও থানার ওসির সাথে কথোপকথনের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে চাকসু নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের। প্রশ্ন উঠেছে, ওই শিক্ষককে রিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের ‘প্রশ্ন’ করার ধরন নিয়েও। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে শিক্ষককে হেনস্তা, টেলিফোনে প্রশ্ন করা, অফিসে অবরুদ্ধ করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কিংবা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। মতভেদ বা বিতর্ক থাকলেও তা নিরসনের একমাত্র পথ আইন, প্রশাসনিক তদন্ত ও ন্যায্য প্রক্রিয়া-কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করার পর থেকে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক, ‘সব কালচার’ ও শিক্ষক-নিপীড়নের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরতে পারবে না। জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলে বলা হয়, তারা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চেতনা, অধিকার ও সুস্থ আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আন্দোলনের নামে যদি ক্ষমতার দম্ভে কাউকে অপমান বা হেনস্তা করা হয়, তা গণতন্ত্র নয় বরং নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করতে গেলে এই অবস্থার শিকার হন। চাকসু’র কয়েকজন নেতা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর সেখানে ৭ ঘণ্টা, উপ-উপাচার্যের কার্যালয়ে ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় শিক্ষকের মোবাইল ফোনেও তল্লাশি করা হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই শিক্ষককে ধাওয়া দিয়ে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি ও নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করে রিকশায় তুলেন। এ সময় শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ চিৎকার করছিলেন। রাত ৯টার দিকে প্রক্টরের গাড়িতে করে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই শিক্ষক আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সঙ্গে যুক্ত। জুলাই আন্দোলনে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন চাকসু নেতারা। এসব অভিযোগের তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বন্ধ রাখা হয়েছে বেতন-ভাতা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited