শিরোনাম
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : | ০৭:০১ পিএম, ২০২৫-০৯-২১
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে এক সময় জুমিয়ারা জুম চাষে সীমাবদ্ধ থাকলেও যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন ফলজ বাগানের দিকে ঝুঁকছে তারা। বিশেষ করে কফি-কাজু বাদাম চাষে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।
স্থানীয়রা জানান, বান্দরবানের পাহাড়গুলো এখন সনাতন কৃষি থেকে বের হয়ে ধিরে ধিরে আধুনিক কৃষির সাম্রাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছে। আর এ প্রচেষ্টার সিংহ ভাগ জোগান দিচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প।যার মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় ও ক্রমবর্ধমান ভাবে বেড়ে চলেছে এই কফি ও কাজুবাদামের আবাদ।
দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় উৎপাদিত আম,আনারস,বড়ই, সবজিসহ বিভিন্ন ফল-মূল সংরক্ষণ ও পরিবহন অসুবিধার কারণে ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয় তেমনি নষ্টও হয়ে যায়।সেই ক্ষেত্রে কফি ও কাজু বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সংরক্ষনের ঝেমেলা ছাড়াই সময় নিয়ে বিক্রির নিশ্চয়তা থাকায় বেশ লাভবান হওয়া যায়।ফলে জেলার অনেকেই এখন তাদের অনাবাদি ভুমিতে কফি কাজুবাদাম চাষ করে উৎপাদিত ফসল বিক্রয় করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধানসহ বহুমূখী সম্ভাবনার আশা করছেন। এছাড়া এক সময় চাষিরা খোসা যুক্ত কাজু বাদাম প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও বর্তমানে ৬-৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খোসাযুক্ত কফি চেরি ফল টন প্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকায়। যা এই প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা বহন করছে।
বর্তমান দেশের সব থেকে দরিদ্র এই জেলাটিতে কফি-কাজু বাদাম আবাদের মাধ্যমে জনগনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার দারিদ্রতা হ্রাসের পথ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনৈতিকেও সমৃদ্ধশালী করছে।
কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু এ দুই ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে
দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প গ্রহন করা হয়। প্রকল্পের শুরুর দিকে যেখানে দেশে কাজুবাদামের চাষ হতো মাত্র ১ হাজার ৮০০ হেক্টরে, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২০০ হেক্টরে। কফির ক্ষেত্রেও অনেকটাই একই চিত্র।
মাত্র ৬৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। জুমের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে আধুনিকতার হাত ধরে পাহাড়ের কৃষি ব্যবস্থা এখন সম্ভাবনার নতুন পথে হাঁটছে। পাহাড় এখন শুধু ইতিহাসের নয়, আধুনিক কৃষিরও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। খোরপোশ কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষির দিকে এই পার্বত্য এলাকার চাষীদের পদার্পন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত হিসেবে গননা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বান্দরবানে চাষীদের কফি ও কাজুবাদাম চাষে আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন তারা। মাত্র ৬ জন মাঠ সংগঠক দিয়ে ১২ টি উপজেলায় ২০০০ বাগানের টার্গেট থাকলেও ১৭১৬ টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫ জন মাঠ কর্মীর মধ্যে ৬ জন মাঠকর্মী (নন কৃষিবিদ) দিয়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়েছে। তা স্বত্তেও প্রকল্প সহায়তা হিসেবে গুনগত মানের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের উচ্চ ফলনশীল চারা, ভালমানের সার, উন্নতমানের আন্ত:ফসলের বীজ-চারা, বালাই দমনে ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার, আন্ত:পরিচর্যায় সিকেচার, গ্রুপ ভিত্তিক চাষীদেরকে ফুট পাম্প, বুশ কাটার, সেচ পাম্পসহ পানির ট্যাংক, পানির ড্রামসহ, ৯ টি ড্রিপ ইরিগেশন, ৪টি জিএফএস ৪টি বাঁধ, জৈব সার তৈরীর উপকরণসহ কৃষকদের প্রাপ্য সকল উপকরণ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নবোর্ড বিতরণ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্চতার সাথে চাষীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।তাও ৯০ শতাংশ কার্যক্রম সম্পন্ন প্রকল্পটির ৬০ শতাংশের টাকা খরচ করে।
বান্দরবান চিম্বুক এলাকার কফি চাষি ঙুইইন ম্রো জানান, ২০১৫ সালে এক আত্মীয়ের পরামর্শে ১ হাজার চন্দ্রগিরী কফি গাছের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার কফি গাছ আছে তার। যার মধ্যে ১ হাজার গাছ থেকে বছরে প্রায় দেড় টন চেরি পাওয়া যাচ্ছে। চেরি হিসেবে যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। সব গাছে একই সঙ্গে ফলন পাওয়া গেলে বছরে অন্তত ১০ টন কফি চেরি উৎপাদন হবে। এক মৌসুমে যার বাজারমূল্য ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা হবে।
বলিপাড়া ইউনিয়নের বিদ্যামনি পাড়ার কাজু বাদাম চাষি ফোসা উ মারমা বলেন, কৌতূহল থেকে পাঁচ একর জায়গায় কাজু বাদাম গাছ লাগিয়েছিলেন এবং ৪ বছরের মধ্যেই ফলন এসেছিল। একসময় বাগানেই পঁচে যেত, বিক্রি হতো না। খাওয়ার মতো লোকজনও নেই। এমনিতেই পড়ে থাকতো। এখন প্রতি মৌসুমে প্রতিদিন বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে কাজু বাদামের খোঁজ-খবর নেন। অনেকে আবার বাড়ির আঙিনা থেকেই কিনে নিয়ে যান।
রুমা উপজেলার কফি-কাজু বাদাম চাষী ক্যসাচিং মারমা জানান, ২০২৩-২৪ সালে উন্নয়ন বোর্ড থেকে কফি-কাজু বাদামের চারা,সেচ পাম্প, পানির ট্যাংক, সারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছিল।এসবের বেশকিছু গাছে চলতি বছরে ফলন এসেছে। যা ভবিষ্যতে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
কিষাণঘর অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজুবাদাম চাষ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বান্দরবান জেলায় প্রথমে ১২০ জন কৃষক নিয়ে চাষাবাদ শুরু করলেও এখন ৯৫০ জন কৃষক কাজু বাদাম উৎপাদনে কাজ করছেন।উৎপাদিত কাজু বাদামের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পাশাপাশি দুবাই,মালেশিয়া,সৌদিআরবসহ কয়েকটি দেশে পাঠানো হচ্ছে।ভবিষ্যতে এই কাজুবাদাম থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো: জসীম উদ্দিন বলেন পাহাড়ের এই কফি কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনাকে দেখে প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্প্রতি এগিয়ে এসেছে দেশেতর বড় বড় শিল্প গোষ্ঠি। ব্যক্তি পর্যায়েও গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
ফলে উৎপাদত ফসল বিক্রয়ের নিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ন্যায্য মুল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। ভবিষ্যতে মানুষ তিন পার্বত্য জেলাকে কফি কাজু বাদামের জন্য ব্যাপকভাবে সুনাম অর্জন করবে ।তিনি আরও বলেন তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর অব্যবহৃত জমি রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ হেক্টরে কফি চাষ করলে দুই লাখ টন কফি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।ফলে এই কফি কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক চাষিরা নিজেদের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited