শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : | ০২:৫৮ পিএম, ২০২৫-০৭-২৯
রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জঙ্গল নিশ্চিন্তাপুরের অন্যতম শীর্ষ আওয়ামী সন্ত্রাসী জানে আলমের এত খুঁটির জোর কোথায়? ইকো পার্ক এলাকায় চলে তার আইন। যখন যা সিদ্ধান্ত দিবেন তখন তা মানতে হবে এইটাই তার আদেশ। এখানে চলে তার শাসন। কে বা কারা তার পিছনে কলকাঠি নারছেন কেউ জানেন না। তিনি প্রশাসনের কোন আইন তোয়াক্কা করেন না। এই সন্ত্রাসী জানে আলমের তান্ডবে ৫ পরিবার এখন প্রশাসনের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরছে।
জানাযায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড ইকোপার্ক এলাকার ভূমি দস্যু উকিল আহম্মেদের পুত্র সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে কিরিচ জানে আলম, এলাকায় গড়ে তুলেন একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী।
এক গোপন সুত্রে জানাযায়, তার এই দলে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভারী দেশীয় ও ভারতীয় অস্ত্র। তার বাহিনীর দ্বারা প্রতিদিন বনের মূল্যবান গাছ রাতের আঁধারে কেটে পাচার করা হয় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে।
সরকারী বনভূমি দখল, কথায় কথায় সাধারন মানুষকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ভয় দেখানো জানে আলমের ভয়াবহ মুর্তমান চরিত্র। জানে আলম আইনের তোয়াক্কা করেন না। প্রশাসন, পুলিশ কিম্বা সেনাবাহিনীকে ভয় করেন না। জেল নাকি তার নিত্য সঙ্গী তার অভ্যাস হয়ে গেছে। ভয় পাওয়া কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেছে কিন্তু আমি আছি। কেউ আমার কিছু করতে পারবেনা। আমার উপরে বড় মাপের নেতা আছে। যাদের নাম শুনলে আপনি কেন আপনার বাপও পালাবার পথ খুজে পাবে না। জানে আলমের কথা বার্তায় আছে একরকম দম্ভ। তার কৃতকর্মের প্রমান এখনোও পাওয়া গেছে গত কয়েক মাস ধরে।
বিভিন্ন অপরাধের বিচারের খোজ খবর নিয়ে জানাগেছে, তিনি সেনা বাহিনীর কমান্ড মানেন না।পুলিশ তার কিছু করতে পারবেনা। আর উপজেলা প্রশাসনের কথা আর কি বলবো আমার কিছু আসে যায়না। এখানে আমিই আইন তৈরী করি। নির্ভয়ে কোন কম্পন ছাড়াই বললেন এই প্রতিবেদককে।
সম্প্রতি জানাযায়, হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইকোপার্ক এলাকার গ্রামে সরকারি ভাবে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক তথা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাস্তা আটকে দেন সন্ত্রাসী জানে আলম। এমনকি দীর্ঘ দিনের মানুষের চলাচল রাস্তাটি তার কেনা। রাতের অন্ধকারে পাকা দেয়াল দিয়ে আটকে দেন রাস্তাটি। সন্ত্রাসী জানে আলম ও তার বেপরোয়া দুই পুত্র ইসকান্দর ও সেকান্দর তার প্রধানহ শক্তি। যে কারনে বন্ধ হয়ে যায় ক্লিনিকের পরবর্তী নিমার্ণ কাজ। প্রাথমিক ভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ মাটির প্রথম স্তরের সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় স্তরের পিলারের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় দীর্ঘ দিনধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ দিনের চলাচল রাস্তাটি বন্ধ করার কারনে গত ৩ বছর ধরে ক্লিনিকের টিকাদার অনেকটাই অসহায় হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এবিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শরানাপন্ন হন প্রবীন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও তার পরিবার। তাতে বিপত্তি বাধে প্রতি পক্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম গংয়ের সাথে। এতে সমস্যায় পড়ে এই সড়কে বসবাসকারী ৫ পরিবার। ক্লিনিকের ভূমি দাতা প্রবীন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান এই বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলে প্রতি পক্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম তার দুই পুত্র ও স্ত্রী সহ হাবিবুর রহমানের পরিবারের প্রতি তেলে বেগুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এই নিয়ে মামলা মর্কদ্দমা সহ সন্ত্রসী ঘটনার সুত্রপাত ঘটে এমনকি এলাকায় হানা হানির রূপনেয়। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদা ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে সেনা বাহিনীর সমর্থন ও সকল উপজেলা প্রশাসন সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতার পাশ্বর্বতী সরকারি খাস জায়গায় দিয়ে একটি নতুন রাস্তা তৈরী করার পরামর্শ দেয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষে সকল সহযোগিতা সহ উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সাপেক্ষে সর্ব সম্মতিক্রমে রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। যা পরবর্তীতে সকলের জন্য ব্যবহার উপযোগী থাকে। মাপঝোপ করে গত এক মাস ধরে একটি ৮ ফুটের রাস্তা নির্মিত হয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের আর্থিক সহযোগিতায়। কিন্তু সেনাবাহিনী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সালিশি মতে পাশে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে সিদ্ধান্ত মতে যে রাস্তাটি বর্তমানে নির্মিত হয়েছে, সে রাস্তা দিয়ে ক্লিনিক সহ উক্ত এলাকায় বসবাসরত ৫ পরিবার কে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল বা ব্যবহার করলে কঠিন সাজা ভোগ করার অব্যহত হুমকির মুখে উক্ত ৫ পরিবার ভীত সম্ভস্থ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বর্তমানে নতুন ভাবে নির্মিত বিকল্প রাস্তাটির বিস্তীর্ণ অংশ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসী জানে আলম ও তার সঙ্গ-পাঙ্গরা। এমনকি আশে পাশের জমির সাথে রাস্তাটি কেটে বিলীন করে পাশের জমির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এই রাস্তাটি তৈরী করতে প্রবীন সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ও তার এলাকায় বসবাসরত আরও ৫টি পরিবারের লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছে তা একেবারে তছনছ করা হয়েছে। জানে আলম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দিনের দুপুরে প্রকাশ্যে নতুন নির্মিত রাস্তাটি চুরি ও কোদাল দিয়ে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। রাস্তার বাউন্ডারি হিসেবে বাশের খুন্সি বসানো হলেও সেগুলো সম্পূর্ণ উপরি ফেলা হয়েছে। সেনা- পুলিশ ও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়েছেন। তাহলে এই জানে আলমের খুটির জোর কোথায়। কে বা তার গটফাদার ফ্যাসিষ্ট আমলে যেরকম ছিল তার দাপট, এখনো সেই দাপুটে ভাব তার রয়েছে।
বর্তমানে কিরিচ সন্ত্রাসী জানে আলমের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৫ পরিবার। খুন ও গুম করার অব্যহত হুমকিতে একদিকে আগে ঠিকাদার পালিয়েছে আর এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বসবাসরত অপর ৫ পরিবার পরিজন। এই সন্ত্রাসী জানে আলম তথা কিরিচ জানে আলম ও তার সন্ত্রাসী দুই ছেলে বুলেট ইসকান্দর ও ককটেল সেকান্দর মা ঝাড়ু ছায়েরা বেগমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ৫টি পরিবার প্রশাসনের দুয়ারে-দুয়ারে ঘুরছে। এব্যাপারে এলাকাবাসীরা রাষ্ট্রীয় সকল প্রশাসনের প্রতি আইনগত সহযোগিতায় চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানে আলমের সাথে কথা বললে তিনি তার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এখানে সরকারের কোন খাস জমি নেই। পাহাড়ী যেই ছড়াটির কথা বলা হচ্ছে তাহা সালমা বেগমের। আমার এবং জনৈকা সালমা রেগম সারা কারো অধিকার নেই এই ভূমি দখল করার। এগুলো আমি ও সালমা বেগমের নিজস্ব মালিকানা ভূক্ত সম্পত্তি হয়।
এ প্রসঙ্গে ঘাগড়া ভূমি অফিসের সহকারী তপসিলদার মোহাম্মদ মোজাহেরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া ঘাগড়া ভূমি অফিসের তফসিল ভূক্ত জঙ্গল নিশ্চিন্তাপু মৌজার দাগ ভূক্ত এখানে একটি পাহাড়ী ছড়া রয়েছে। এই ছড়াটি ৪১ শতক। এই ছড়াটি জনগনের ব্যবহার হবে এবং যে হাসপাতালটি এখন নির্মিত হচ্ছে সেই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে যারা যাবেন তারা যেন নতুন নির্মিত রাস্তা ব্যবহার করতে পারে। এজন্য যতটুকু আইনি সহযোগিতা ও আমার সহযোগিতা লাগে সেটা আমার পক্ষ থেকে দেয়া হবে। প্রয়োজনে আমি সরকারের পক্ষ হয়ে এই হাসপাতাল ও জনস্বার্থে সকলের পাশে থাকবো এবং সহযোগিতা করে যাবো।
স্টাফ রিপোর্টার : : সিআইডির ওসি পরিচয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে তদন্তের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা ভুইয়া গলিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযো...বিস্তারিত
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি :: : কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে তপসি দাস (৪২) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্য...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে এক নারীকে ধর্ষণ করে সেই ঘটনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ, পরবর্তীতে সেগুলো দেখিয়ে দীর্ঘদ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্তে ২৫ লক্ষ টাকার ৮২ কেজি গাঁজা সহ ভারতীয় পন্য জব্দ করেছে বর্ডার গা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited