শিরোনাম
রামু প্রতিনিধি : | ০৩:৫২ পিএম, ২০২২-০৬-০৪
কক্সবাজারের প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী। কয়েক বছর আগে এই দুই নদীর পাড়ে হতো শাকসবজির চাষ। তবে এখন তামাক চাষের দখলে এসব জমি। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ কৃষিজমিতে হচ্ছে তামাক চাষ। এতে ফসলি জমি ও বনাঞ্চল হুমকিতে পড়েছে।
রামু উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১৭০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। নদীর তীরে কত জমিতে তামাক চাষ হয়, সঠিক তথ্য নেই ।
স্থানীদের লোকজনর ধারণা, প্রায় ৬০ শতাংশ ফসলি জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে।
এদিকে, চকরিয়ায় ৬২০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে জানান ,কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন।
রামু উপজেলার রাজারকুল, মৌষকুম, গর্জনিয়া ,নাপিতেরচর, কাউয়ারখোপ, মনিরঝিল, ফাক্রিকাটা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীর বুকে এবং দুই তীরে শুধু তামাকের আবাদ। পাশাপাশি এলাকার ফসলি জমিগুলোও তামাকের দখলে। একই চিত্র চকরিয়ার বোয়াবিলছড়ি, কাঁকড়া, ফাঁসিয়াখালী, মানিকপুর, সুরাজপুর ও মাতামুহুরীর বুকে এবং দুই পাড়ে।
নদীবেষ্টিত এসব এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তামাক চাষ না করতে সরকারি নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড দেখা গেছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ধারা ৫ ও ১১-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে তামাকজাত দ্রব্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও তামাকজাতীয় ফসল উৎপাদন, ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো এসবের কিছুই মানছে না। তামাক চাষে প্রসারে কৃষকদের উল্টো প্রণোদনা দিচ্ছে।
কচ্ছপিয়ার নাপিতেরচরের কৃষক মো. আবদুস ছালাম ৭ কানি জমিতে তামাক চাষ করেছেন। তিনি জানান, একরপ্রতি ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়েছে কোম্পানি। পাশাপাশি বীজ, সার ও পোকা দমনে বিশেষ ধরনের বিষও দিয়েছে কোম্পানিটি।
মানিকপুর লামারপাড়ার কৃষক জলিল আহমেদ বলেন, তামাক চাষে মোটা টাকা পাওয়া যায়। তা ছাড়া তামাক কোম্পানি সুদমুক্ত ঋণ দেয়।
শীতকালীন শাক-সবজির দাম না পাওয়ায় অনেকেই তামাক চাষে ঝুঁকছেন বলে জানান কৃষকেরা।
রামু ও চকরিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলার সেসব জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি আবাদ হতো, এখন অধিকাংশ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।
নদীর বুকে ও তীরে তামাক চাষের ফলে কী ক্ষতি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে নদী নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, ‘তামাক চাষের ফলে আমাদের প্রতিবেশগত ক্ষতিটা হবে বেশি। দিনদিন এই চাষ বৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদনমুখী কৃষি ও ভয়াবহ কীটনাশক ব্যবহারে নদীর পানি ও মাছের স্থায়ী ক্ষতি হবে, যা অপূরণীয়।’
সূত্রমতে, ৪০ শতক জমির তামাক পোড়াতে ৫০ মণ লাকড়ি প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে এ বছর ৭৯০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত তামাক পোড়াতে প্রায় ১০ হাজার টনের বেশি লাকড়ির প্রয়োজন হবে। যার অধিকাংশ আসে টেকনাফ, ফাঁসিয়াখালী ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গহিন বনাঞ্চল থেকে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক জিয়াউর রহমান কল্লোল বলেন, ‘বাঁকখালী নদী বাঁচাবার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা চেয়ে বেলা জনস্বার্থে একটি মামলা করেছে। এর আদেশও পেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতা না থাকলে আসলে বাস্তবায়ন অসম্ভব। পাশাপাশি বন উজাড় রোধে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’
সরকারিভাবে কক্সবাজারের প্রধান দুই নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি তামাক আবাদে নিয়ন্ত্রণ আনতে যথোপযোগী আইন ও প্রয়োগের গুরুত্বও রয়েছে বলে জানান।
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রমজান মাস ঘিরে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় ২০ হেক্টর জম...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি উপজেলার কাজিরহ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া আংশিক-লোহাগাড়া) আসনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ...বিস্তারিত
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মিঠুন দাশ : মিরসরাইয়ে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর। মিরসর...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এবং চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে স...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited