শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৯:৪৬ পিএম, ২০২৫-০৮-০৪
পৃথিবীর ইতিহাস বলে দেয়—যত উঁচুই হোক প্রাসাদের চূড়া, যত শক্তই হোক সিংহাসনের শিকড়—সব কিছু একদিন ধসে পড়ে মানুষের জেগে ওঠা আওয়াজে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার রক্তে লেখা হয়েছে এই শিক্ষা—শাসক চিরকাল থাকে না, শোষণও চিরকাল টিকে থাকে না। তবে শর্ত একটাই—মানুষকে জেগে উঠতে হয়, শিকলটাকে ছিঁড়ে ফেলতে হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই ইতিহাসের পাতায় আরেকটি আলোকিত দিন। দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসন, যার শিকড় দেশের প্রশাসন, আদালত, শিক্ষা, এমনকি শিশুর শৈশব পর্যন্ত আঁকড়ে ধরেছিল—সেই অদৃশ্য জালে গলে গিয়েছিল নীতি-নৈতিকতা, গণতন্ত্র আর স্বপ্ন দেখার অধিকার। কোমলমতি ছাত্রদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ছুরি, ভয় আর সুবিধাবাদকে রক্তের মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছিল এক প্রজন্মের। স্কুলের দেয়াল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চ, এমনকি গলির মোড়ের পোস্টারেও জুলুমের বীজ বপন করা হয়েছিল। শাসকের বিশ্বাস ছিল—সবই তাদের হাতে বন্দি, কোনোদিন আর কোনো বিদ্রোহ আসবে না।
কিন্তু ইতিহাস কাউকে চিরকাল ভুলের সুযোগ দেয় না। যে অন্যায়ের শিকড় প্রজন্মের শিরায় শিরায় বোনা হয়, সেই শিকড়ই একদিন ভেতর থেকে শাসকের প্রাসাদকে খেয়ে ফেলে। তাই দিনের আলোয়, সবার চোখের সামনে একদিন হঠাৎ দেখা গেল—ভয় আর দম্ভের সিংহাসন ফাটতে শুরু করেছে, গোপন আতঙ্কের দেয়াল ভাঙছে, আর ক্ষমতার কোলাহলে গলা চেপে ধরা মানুষেরা একে একে মুখ খুলছে। ৫ আগস্ট তারই দিন—যেদিন শাসক পালিয়েছিলো, অন্ধকার নয়, দুপুরের রোদে, সব হিসাব, সব লোভ, সব প্রাসাদ ফেলে।
কে ভেবেছিলো, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দিনের আলোতে মন্ত্রিসভার অনুগতদের নিয়ে হেঁটে চলে যাবে বিদেশের কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইটে! এ লজ্জা কোনো একক ব্যক্তির নয়—এ লজ্জা পুরো রাষ্ট্রের, পুরো জাতির, আমাদের সবার। আমরা যারা পঞ্চাশ পেরোনো স্বাধীনতার গৌরবগাথা শুনে বড় হয়েছি, আমরা যারা বারবার মিছিল করেছি, বিজয় দিবস আর শোক দিবসে লাল-সবুজের বুকে বুক রেখেছি—সেই আমরা দেখলাম, এক রাত নয়, দিনের আলোতেই শাসক পালায়, আমাদের বুকে গ্লানির ছাপ এঁকে দিয়ে যায়।
৫ আগস্ট কোনো উৎসব নয়—এ কোনো কৃত্রিম জয়গাথাও নয়। এ হলো আত্মসমালোচনার দিন, আয়নায় মুখোমুখি দাঁড়ানোর দিন। এ দেশের শাসক পালিয়েছে বটে, কিন্তু শোষণের শিকড় কি গেছে? দল বদলেছে, গদির রং বদলেছে—কিন্তু সেই শোষণ-লুটপাটের অদৃশ্য রসদ কি ফুরিয়েছে? বছর বছর ব্যানার বদলায়, স্লোগান বদলায়, মিছিলের পোস্টার পাল্টায়—কিন্তু পকেট কাটা হাতগুলো কি পাল্টায়? শোক দিবস আর প্রহসনের মিছিল সরকারি কোষাগারের কোটি কোটি টাকার খরচে হয়—কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে সন্তানের লাশ নিখোঁজ হলো, যে পঙ্গু হয়ে গিয়েছে প্রতিবাদ করতে গিয়ে—তার খবর কে রাখে?
এই প্রশ্নগুলোই ৫ আগস্টের সবচেয়ে তীব্র সত্য। এই দিন আমাদের স্মরণ করায়—শাসকের পতনই শেষ কথা নয়। শোষণের বীজ যদি বাতাসে থাকে, তবে নতুন মুখও পুরোনো ছক আঁকতে দেরি করে না। আমাদের শাসকের মতোই বারবার বদলে যায় লুটেরার মুখ, ভাগাভাগির হিসাব আর আপসের চুক্তি। তাই ৫ আগস্ট নতুন কোনো মুখ নয়—৫ আগস্ট নতুন শপথের নাম। নতুন শাসকের কাছে মাথা নোয়ানো নয়—অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শপথ।
৫ আগস্ট আমাদের শেখায়, এ দেশ বারবারই প্রমাণ করেছে—কোনো শিকল চিরকাল অটুট থাকে না, কোনো ভয় চিরকাল রাজত্ব করতে পারে না। ইতিহাসের একেকটি পাতা রক্তে লেখা, জেল-জুলুম আর গুমের গল্পে লেখা—কিন্তু শেষ কথা জনগণের। যদি নতুন কেউ আবার পুরোনো চুক্তি বয়ে আনে, যদি আরেকটি লুটেরার দল আবার কোষাগারের ভাগাভাগি শুরু করে—তবে এ দেশ আরেকবার জেগে উঠবে। আরেকটি ৫ আগস্টের অঙ্কুর আজও জমিনে বোনা আছে—কারণ অন্যায় যত গভীরই হোক, বাংলার মানুষ জানে, অন্যায় সহ্য নয়, প্রতিবাদই মুক্তি।
একদিন এমন বাংলাদেশ হবে—যেখানে কোনো প্রধানমন্ত্রী পালাবে না দিনের আলোতে বা রাতের আঁধারে। কোনো নেতা গদি বাঁচাতে জনগণকে বিক্রি করবে না। কোনো দলের লাঠিয়াল ছাত্রদের হাতে কোমলমতি প্রজন্ম বন্দি থাকবে না। যে দেশে মঞ্চ থাকবে—কিন্তু সেই মঞ্চে থাকবে না প্রতারণার নাটক। যে দেশে শাসক থাকবে—কিন্তু সেই শাসক হবে মানুষের সেবক, কোনো দলের পৈশাচিক জুলুমের পাহারাদার নয়।
এ বাংলায় একদিন আসবেই—যে দিনটিতে ৫ আগস্ট আর শাসকের পলায়নের দিন থাকবে না, থাকবে কেবল মানুষের শপথের দিন, শৃঙ্খল ভাঙার দিন। শোষণ যাবে, লুটেরা হারাবে, স্বপ্ন বাঁচবে, মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়াবে একটিই পরিচয়—বাংলাদেশ হবে বাংলার মানুষের।
এই শপথেই অমর হোক ৫ আগস্ট। এই শপথেই নতুন করে বাঁচুক বাংলাদেশ।
রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ও লাউঞ্জ ভবন, পুরাতন কলা অনুষদ এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ৬ সিটিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পরিবর্তে অ্যাডভোকেট আমি...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্য...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মাহবুবুল মাওলা রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি) : সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল নি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited