শিরোনাম
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:: | ০২:২৫ পিএম, ২০২২-০৭-১৩
১৯৮৬ সালের ১৩ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড়ে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর নির্মম ও নৃশংস গণহত্যার শিকার । সে দিনের বিভীষিকাময় স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি খাগড়াছড়ির রামগড়ের পাতাছড়া ডাকবাংলা পাড়ার বাসিন্দারা। তৎকালীন শান্তি বাহিনীর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর এলোপাতাড়ি গুলি ও অগ্নিসংযোগে সে দিন নিহত হয়েছিল পাঁচ শিশুসহ সাত জন। কয়েকদিন পর ঘটনাস্থলের খুব কাছ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল স্থানীয়রা।
একই বছরের ১৩ অগাস্ট আরও এক নিরীহ গ্রামবাসীকে গুম করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। প্রথম দিনের ঘটনায় নিহতদের গণকবরে ঠাঁই হলেও পরবর্তীতে নিহতদের কপালে তাও জোটেনি। নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর পর পর এমন হামলায় ভয়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল দুই শতাধিক পরিবার। কয়েক বছর পর নিজেদের বাস্তুভিটায় ফেরার চেষ্টা করলেও তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ফিরতে দেয়নি। আর ৩৬ বছরেও ফেরা হয়নি।
বুধবার বাদে ৃৃফজর পাতাছড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও তাদের স্বজনরা।
গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ১৯৮৬ সালের ১৩ জুলাই নিহতদের গণকবর সংরক্ষণের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ববর্তী সময়ে তিন পার্বত্য জেলায় সংগঠিত বিভিন্ন গণহত্যার নথিপত্রে রামগড়ের পাতাছড়া গণহত্যার ঘটনা প্রকাশ করা। এছাড়া বাস্তুভিটাহীন পরিবারগুলোকে নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো, প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত জানান, ঘটনার দিন মাগরিবের কিছু সময় আগে হঠাৎ করে একদল অস্ত্রধারী শান্তি বাহিনীর সদস্য বাড়িতে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে উঠার আগে এলোপাঁতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। এ সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কাউকে উদ্ধারে এগিয়ে আসতে পারেনি। সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আমার (নাসির) ছোট ভাই আবুল কাশেমকে আগুনে নিক্ষেপ করে। এ সময় আমাকেসহ মা বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে।
তিনি আরো জানান, মায়ের কোলে এক বছর বয়সী ছোট বোন আনোয়ারা থাকলেও ভুলে আরেক বোন মনোয়ারাকে বাড়ির ভেতর রেখে আসেন। মনোয়ারাকে আনতে মা বাড়ির ভেতর গেলে সন্ত্রাসীরা মাকে গুলি করে এবং ছোট বোন আনোয়ারাকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করে। আর মনোয়ারাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করে। পরের দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে রাস্তার পাশে গণকবরে দাফন করি।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম জানান, ১৩ জুলাই সকালে পাতাছড়ার ডাকবাংলা গ্রামে বাইরে থেকে কিছু অপরিচিত লোকজন আসে। স্থানীয় এক পাহাড়ীর বাড়িতে তারা কাজে এসেছেন বলে জানান। আসরের পর পর যখন হামলা শুরু হয় তখন তাদেরকেও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেখা যায়। বাড়িতে ঢুকে মা ছবুরী খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে এবং বোন রেহানা আক্তারকে আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যার কথা ভুলতে পারেননি এখনও।
রামগড় পাতাছড়ার বাসিন্দা ও তৎকালীন আনসার সদস্য মো. মমতাজ মিয়া জানান, ৩৬ বছর অতিবাহিত হলেও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত গণহত্যার কোন নথিতে উল্লেখ নেই। স্বজন হারানোর কষ্ট বুকে চেপে জীবন রক্ষায় সে দিন কোনমতে একটি কবরে স্বজনদের রেখে চলে যেতে হয়েছিল নিরীহ গ্রামবাসীদের।
রামগড় পাতাছড়া ডাকবাংলা পাড়া গণহত্যায় নিহতরা হলেন, আবুল খায়েরের স্ত্রী হালিমা বেগম (৫৫), মেয়ে মনোয়ারা বেগম (৬), ছেলে আবুল কাশেম (৫), আনোয়ারা বেগম (১), ছায়েদুল হকের স্ত্রী ছবুরী খাতুন ও মেয়ে রেহানা রেহানা আক্তার। লাল মিয়ার মেয়ে মফিজা খাতুন।
চকরিয়া প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের মাতামুহুরি উপজেলার দরবেশ কাটা মোড়ে টমটম উল্টে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। র...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : নেজাম উদ্দিন রানা,রাউজান : খোলার দিনে সেবাগ্রহীতা অসংখ্য নারী-পুরুষের ভীড়। অনেকেই এসেছেন ছোট বাচ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিত...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজানে গরীব–অসহায় পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যব...বিস্তারিত
চন্দনাইশ প্রতিনিধি : : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুইজন এক...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পাঁচটি ফার...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited