শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৭:০২ পিএম, ২০২৬-০৪-০৮
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএপিএফসিএল) সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে বড় পরিসরে অনিয়ম ও ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, প্রশাসন বিভাগের জিএম আলমগীর জলিল এবং সিবিএ নেতা ফরিদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অন্তত ১০২ জনকে নিয়োগ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগেই এসব নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন, এমডির স্বজন এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল পূর্বপরিকল্পিত:
অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই লিখিত পরীক্ষা, সিট প্ল্যান, প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। জেলা কোটা, ভিআইপি কিংবা মন্ত্রীদের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় কৌশলে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের পছন্দের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়।
সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক দায়িত্বে থাকার সময়ই ডিএপিএফসিএলে ১০২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগে প্রশাসনের জিএম আলমগীর জলিল, তৎকালীন এমডি মিজানুর রহমান এবং সিবিএ নেতা ফরিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র আরও জানায়, সিন্ডিকেট কর্মকর্তারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর বণ্টনের বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নেন।
এই নিয়োগে সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হকের ভাইয়ের ছেলে প্রশাসন বিভাগে এবং তাঁর বোন জেছিয়া সুলতানাকে বাণিজ্যিক বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। একইভাবে তৎকালীন এমডি মিজানুর রহমান তাঁর চাচাতো বোন এবং চাচাতো বোনের জামাইকেও নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান বিতর্কিতভাবে আওলাদ নামের এক ব্যক্তিকেও নিয়োগ দেন, যিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ভুয়া সনদের দায়ে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মিজানুর রহমানের আত্মীয়।
এ ছাড়া এমডি মিজানুর রহমানের স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের স্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বোর্ডকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে।
আগে চাকরিচ্যুত, পরে পুনর্বহাল:
সূত্রগুলোর ভাষ্য, একই সিন্ডিকেট চট্টগ্রামের আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলেও প্রভাব বিস্তার করে। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে জিএম আলমগীর জলিল ও এমডি মিজানুর রহমান চাকরিচ্যুত হলেও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সুপারিশে তাঁরা পুনর্বহাল হন। আলমগীর জলিল দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসও করেন।
বর্তমানে মিজানুর রহমান সিইউএফএলে কর্মরত রয়েছেন। আলমগীর জলিল একই অবস্থানে রয়েছেন। সিবিএ নেতা ফরিদকে সম্প্রতি আকস্মিক বদলি করা হলে সংগঠনটির নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্বে বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিবিএ নেতা ফরিদ বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার জন্য সব তথ্য দিতে প্রস্তুত আছি।”
নতুন করে ঘুষের বিনিময়ে ক্যাজুয়েল নিয়োগের অভিযোগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সম্প্রতি জিএম আলমগীর জলিল ও বর্তমান এমডি মাইনুল হকের নেতৃত্বে ঘুষের বিনিময়ে ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন ইতিমধ্যে যোগদান করেছেন, বাকি ৩ জন যেকোনো সময় যোগ দিতে পারেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
সূত্র জানায়, এই নিয়োগ বাণিজ্যে জিএম ও এমডির পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন, একজন এসআই, যুবদল নেতাসহ আরও অনেকে জড়িত। ঘুষের লেনদেন ও মধ্যস্থতাকারীদের নাম উল্লেখ করে একটি বিস্তারিত খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যক্রমে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন— জিএম খলিল, ফারুক, শিপন, ছোটন, আকতার হোসেন, এরশাদ উদ্দিন সওদাগর, ইলু এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচিত যুবদল নেতা আলী হোসেন ও যুবদল নেতা শাহাজাহান। এ ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রহিম-এর সম্পৃক্ততার কথাও সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী— এমটিএস (বিদ্যুৎ) শাখায় এমডি ও জিএম (প্রশাসন) এর মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা ঘুষে নোয়াখালীর নূর মোহাম্মদ ইমানকে। এমটিএস (যান্ত্রিক) শাখায় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকায় বারশতের সাদেক আলী, ৪ লাখ টাকায় নোয়াখালীর সোলেমান খোকা, ৪ লাখ টাকায় গোবাদিয়ার ইরফান হোসেন খানকে। মেডিকেল শাখায় ৪ লাখ টাকায় নোয়াখালীর রত্না আক্তারকে। অ্যাসিড গাড়ির হেলপার হিসেবে ৪ লাখ টাকায় গোবাদিয়ার ফারেকুল আলমকে। ড্রাইভার পদে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ফাজিল হাটের মো. সেলিম উদ্দিন, ৩ লাখ টাকায় পারকীর মো. ইব্রাহিম, ৩ লাখ টাকায় গোবাদিয়ার আব্দুর রহিমকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া ছোটন, শিপন, এরশাদ ও ইলুর মাধ্যমে গোবাদিয়ার কাইয়ুম, হৃদয় এবং গুনদ্বীপ পাড়ার নয়ন নাথ—প্রত্যেককে ৪ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্রগুলোর আশঙ্কা, অল্প সময়ের মধ্যেই ডিএপিএফসিএলে এ ধরনের অবৈধ নিয়োগ আরও হতে পারে।
অনিয়ম, অবৈধ নিয়োগ ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ডিএপিএফসিএলে গড়ে ওঠা বিস্তৃত অপরাধজাল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাবে আসন্ন ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ককে ব্যবহার করে অবৈধ সিগারেট পাচারের একটি চালান আটকের পর নতুন করে সামনে এসেছà§...বিস্তারিত
চকরিয়া প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান অপহরণ ও হতà...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় গভীর রাতে নির্মাণকাà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গা ও দস্যুতা সংগঠনের অভিযোগে একাধিক মামলার আসà...বিস্তারিত
আনোয়ারা, প্রতিনিধি :: : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে মো. আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited