শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৫:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৯-১৭
কয়েক হাজার শ্রমিক এক ফ্লোরে। সারি সারি টেবিলে উন্নত সব সেলাই মেশিন। নতুন কাপড়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে সেলাই করছেন তাঁরা। কোনো কথা নেই, হৈ-হুল্লোড় নেই। যার যার নির্ধারিত কাজ তাঁরা করছেন। কেউ বিশাল অটোমেটিক কাটিং মেশিনে কাপড় ভাঁজ করে দিচ্ছেন। কেউ সেলাই করছেন। কেউ আয়রন করছেন। কেউবা কোয়ালিটি চেক করছেন। সব শেষে কার্টুনে ভরা। যে কথা বলা হয়নি, এখানে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। পুরো ফ্লোরটাই কেন্দ্রীয়ভাবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। বাইরে কাঠফাটা রোদের প্রভাব নেই কারখানার ভেতরে। ঘড়ির কাঁটা মেনে সব কিছু হয় এখানে। কাজের ফাঁকে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি আছে। সেখানেও আছে শৃঙ্খলা। বলছিলাম নগরের উত্তর পতেঙ্গার কর্ণফুলী ইপিজেডের ক্যানপার্ক নামের কারখানাটির কথা। গত ১২ সেপ্টেম্বর বেপজার এ জোনের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে কয়েকটি কারখানা সাংবাদিকদের ভিজিটের সুযোগ দেওয়া হয়। তখন কারখানার শ্রমিক আফরোজা বলেন, ‘আমরা যখন প্রতিদিন কারখানায় আসি তখন মনে হয় বিদেশে চলে এসেছি। কারখানার উন্নত পরিবেশ বাইর থেকে বোঝা যায় না। বাইর থেকে মনে হবে আর দশটা বিল্ডিংয়ের মতো একটি বড় বিল্ডিং। কিন্তু ভেতরে যে এয়ার কন্ডিশনের মধ্যে থেকে আমরা কাজ করি সেটা বাইরের দুনিয়া জানে না। এখানে সব কিছু নিয়ম মেনে সময় ধরে চলে। কাজের সময় কাজ, খাওয়ার সময় খাওয়া।’ আফরোজা যখন কথা বলছিলেন তখনো তার দুই হাত ও চোখ ব্যস্ত ছিল কাজের মধ্যে। শুধু আফরোজা নন, এখানকার হাজার হাজার শ্রমিকের হাত ও চোখ ব্যস্ত কাজে। তাদের শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হবে বিদেশে। আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা। মজুরি পাবে তারা। যা দিয়ে চলবেন নিজে, চলবে পুরো পরিবার।
বেপজার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু কর্ণফুলী ইপিজেডের ৮০ হাজার শ্রমিকের বেতন আসে প্রতিমাসে প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা। এর বাইরে এসব কারখানার জন্য কাগজ, কলম, খাতা, স্টেশনারি, কার্টন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সামগ্রী, কাভার্ডভ্যান ভাড়া, বাসাভাড়া, শপিং, খাবার কত কি লাগে পরোক্ষভাবে। সব মিলে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।
কারখানার পরিবেশ নিয়ে ক্যানপার্কের পরিচালক (মানবসম্পদ) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের শ্রমিকরাও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করেন। ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিক, বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ। শতভাগ কমপ্লায়েন্স মেনটেইন করার চেষ্টা করি আমরা, ইন টার্মস অব স্যোশাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল। ইনহাউস মেডিক্যাল আছে। বড় ডাইনিং স্পেস আছে। শিক্ষাবৃত্তি আছে। বেপজার যে মেডিক্যাল আছে সেখানে ডেন্টাল ও আই ইউনিট আছে সেটি আমরা সেট আপ করে দিয়েছি। জোনের শ্রমিক-কর্মকর্তা সবাই সেখানে সেবা নিতে পারেন।
তিনি জানান, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড ২০০৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ইপিজেডে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এটি শ্রীলংকা ও আমেরিকার একটি যৌথ উদ্যোগ। বাংলাদেশে ক্যানপার্কের প্রথম বিনিয়োগ শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেড (সিইপিজেড)। ২০০৬ সালে কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে ব্যবসার প্রসারের জন্য ২০০৭ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে চতুর্থ কারখানা হিসেবে কমার্শিয়াল অপারেশন শুরু হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ক্যানপার্ক। আমাদের মোট শ্রমিক ২৩ হাজার, এ জোনে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন। ব্যক্তিগতভাবে ২০০৮ সাল থেকে এ জোনে কাজ করছি আমি। আমি যখন ফিরে তাকাই তখন আর এখনকার পরিবেশ আকাশপাতাল তফাৎ। শুধু ৮০ হাজার সরাসরি কর্ম সৃষ্টি নয়, পরোক্ষভাবে এসব প্রতিষ্ঠান ও বেপজা কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরোক্ষভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি জড়িত আছেন যারা জীবিকা নির্বাহ করছেন এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। আমি ধন্যবাদ জানাই বেপজাকে এসব প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিচ্ছে। একই সাথে ধন্যবাদ জানাই বিনিয়োগকারীদের, যারা এ জোনের মান বজায় রাখছেন। ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টি অপারেশনে আছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি, আমাদের শ্রমিকদের দেখাশোনার জন্য। এ জোনে স্কুল আছে, হাসপাতাল আছে। আমি চাই, এ সাফল্যের গল্প পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ুক। এর মাধ্যমে মানুষ জানবে কর্ণফুলী ইপিজেড কীভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সামনে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। ইতিমধ্যে বেপজার সঙ্গে কথা বলেছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, বটম ওয়্যার (প্যান্ট) তৈরি করি আমরা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ ৩৯০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। প্রতিদিন ১ লাখ পিস গার্মেন্ট তৈরি করি। এখন এটাই সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটি। আমার সব কারখানা উৎপাদনে আছে। পৃথিবীর মোটামুটি সব মহাদেশে রপ্তানি করি। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়াতে রপ্তানি করি। বিশ্বের সেরা অনেক ব্রান্ড আমাদের বায়ার। আমাদের সব কারখানা লিড সার্টিফাইড। এ কারখানাটি লিড প্লাটিনাম সার্টিফাইড। পুরো বাংলাদেশে লিডিং প্লাটিনাম সার্টিফাইড কারখানা ক্যানপার্ক।
আমাদের ডেস্ক : : বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসা, মানি চেঞ্জার, স্বর্ণ আমদানি ও পরিশোধন কার্যক্রমের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, ল...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : গ্রাহকদের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন অ্যাপ চালু করেছে ডাক বিভাগের ম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আধুনিকায়নে আগামী ১০ বছরে এক হাজার কোটি টাà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির পোশাক আমদানি গà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা-রক্ষ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বার্থ অপারেটরদের চুক্তি দর জ্বালানি তেলে...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited