চট্টগ্রাম   রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

ভুয়া পরিচয়ের ফাঁদে ক্ষমতার করিডোর: দায় কার?

আবদুল্লাহ মজুমদার :    |    ০৯:১০ পিএম, ২০২৬-০৮-২২

ভুয়া পরিচয়ের ফাঁদে ক্ষমতার করিডোর: দায় কার?

 একটি ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। প্রোফাইলে এক তরুণীর ছবি। তারপর দু-একটি কথা, নিয়মিত খোঁজখবর, ফোনালাপ। অপরিচিত মানুষটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পরিচিত, পরিচিত থেকে ঘনিষ্ঠ। একসময় আসে ভিডিয়ো কল। ওপাশে নারীকণ্ঠ, পর্দায় এক তরুণীর মুখ—সন্দেহ করার মতো কিছুই যেন নেই। অথচ সেই মুখটি হয়তো তখন পর্দার সামনে নেই, কণ্ঠটিও হয়তো তাঁর নয়। পুরোনো ভিডিয়ো, কণ্ঠ পরিবর্তনের প্রযুক্তি আর মানুষের বিশ্বাস—এই তিনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হতে পারে এমন এক ফাঁদ, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। চট্টগ্রামে ভুয়া নারী পরিচয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার অভিযোগ সামনে আসার পর প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার এই অন্ধকার দিকটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

দৈনিক আমার দেশ-এর চট্টগ্রাম ব্যুরোর সাংবাদিক জমির উদ্দিনের অনুসন্ধানে জুবাইরুল হক জিয়ান নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে অন্তত ৫৪টি ভুয়া নারী পরিচয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ‘জান্নাতুল মনি’, ‘জান্নাতুল নাইমা’সহ বিভিন্ন নারী পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কণ্ঠ পরিবর্তনের প্রযুক্তির পাশাপাশি বাস্তব নারীদের ছবি ও ভিডিয়ো ব্যবহার করে এসব পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হতো। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর নিয়মিত কথাবার্তা, তারপর বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠতা—এভাবেই তৈরি করা হতো আস্থার সম্পর্ক।

অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। তবে অভিযোগের ধরন এমন যে, এটিকে নিছক ব্যক্তিগত প্রতারণা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্ল্যাকমেইল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সিএমপির সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের ঘটনা। অনুসন্ধান অনুযায়ী, পাহাড়তলী থানার ওসি থাকাকালে পরিদর্শক বাবুল আজাদ চট্টগ্রামের এক তরুণী মডেলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তাঁকে নিজের ‘শালিকা’ পরিচয়ে তৎকালীন কমিশনার হাসিব আজিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

এরপর ওই তরুণীর পরিচয় ব্যবহার করে জিয়ান একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে কমিশনারকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠান। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ যোগাযোগ। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় চার মাস এ যোগাযোগ চলেছিল। এ সময়ের কথোপকথন ও কলের তথ্যও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে কয়েকটি ভিডিয়ো। অনুসন্ধানে চারটি ভিডিয়োর সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই মডেলের সরাসরি সম্প্রচারের প্রায় ১৫ সেকেন্ডের অংশ কেটে ভিডিয়ো কলের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আলামত মিলেছে।

তাই প্রশ্ন উঠেছে—ভিডিয়ো কলের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি তখন সত্যিই সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি না।
হাসিব আজিজ তিনটি ভিডিয়ো নিজের বলে স্বীকার করেছেন। তবে চতুর্থ ভিডিয়োটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে শুধু ভিডিয়ো দেখা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা।

প্রযুক্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগে ধারণ করা ভিডিয়োকে সরাসরি সম্প্রচারের মতো দেখানো, কণ্ঠ পরিবর্তন করা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বাস্তবের মতো দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব। ফলে ভিডিয়ো কলে কাউকে দেখা মানেই তিনি সরাসরি কথা বলছেন—এমন নিশ্চয়তাও আর আগের মতো নেই।

কিন্তু এ ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন প্রযুক্তির জায়গায় আটকে নেই। অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, এসব ব্যক্তিগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সিএমপির বদলি ও পদায়নেও প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সিএমপির ১৬টি থানার পদায়ন-বদলিতে অভিযুক্ত দুই ওসির প্রভাব ছিল। কোন থানায় কাকে বসানো হবে কিংবা কাকে সরানো হবে, তা ঠিক করে জিয়ানের মাধ্যমে কমিশনারের কাছ থেকে আদেশ আদায় করা হতো—এমন অভিযোগও এসেছে।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা দরকার—অভিযোগ উঠলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে হবে। নথি, বার্তা, ফোনকল ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ গুরুতর হলে তার নিরপেক্ষ তদন্তও সমান জরুরি।

অনুসন্ধানে সিএমপির দুই পরিদর্শক—পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম এবং গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তা বাবুল আজাদের নাম এসেছে। বাবুল আজাদ এর আগে পাহাড়তলী, ডবলমুরিং ও চকবাজার থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাবুল আজাদের ‘শ্যালক’ পরিচয় ব্যবহার করেও জিয়ান পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। মামলা, গ্রেপ্তার ও পদায়নের ক্ষেত্রেও সেই সম্পর্ক কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

জাহেদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও এসেছে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ। অনুসন্ধানে পাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তাঁর কর্ণফুলী থানায় পদায়নের বিষয়টি আগেই উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। জিয়ানকে একটি আইফোন উপহার দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িতে তাঁকে ভ্রমণ করানোর অভিযোগও রয়েছে। জিয়ানের ফেসবুক পোস্টে জাহেদুল ইসলামের গাড়িতে কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার একটি ছবির কথাও অনুসন্ধানে এসেছে।

তবে জাহেদুল ইসলাম এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেকের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় হয়ে থাকে; কে কোথায় কীভাবে সেই পরিচয় ব্যবহার করেছেন, সে বিষয়ে তাঁর সরাসরি জানা নেই।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার বদলি বা পদায়ন ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করার কথা নয়। এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রশাসনিক প্রয়োজন, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জনস্বার্থ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা বাইরের কারও প্রভাব সেখানে ঢুকে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো প্রশাসনিক কাঠামো।

কারণ একটি থানায় কে দায়িত্ব পালন করবেন, তার সঙ্গে শুধু একজন কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ জড়িত থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মামলা তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। তাই বদলি-পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাবের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো—ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং পরে ভিডিয়ো বা কথোপকথনকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ।

প্রথমে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে ঘনিষ্ঠতা। এরপর ভিডিয়ো কল। সবশেষে ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা কথোপকথনকে চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার। প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার এ ধরনের কৌশল এখন আর অচেনা নয়।

এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রযুক্তি নয়, মানুষের বিশ্বাস। একটি ছবি, একটি কণ্ঠস্বর, কয়েকটি আন্তরিক কথা—এসব দিয়েই তৈরি হয় আস্থার পরিবেশ। সেই আস্থার সুযোগে সংগ্রহ করা হয় ব্যক্তিগত তথ্য। পরে সেই তথ্যই হয়ে ওঠে চাপ তৈরির হাতিয়ার।

জিয়ানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২০ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। ওই বছর জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত কথোপকথনের খুদে বার্তার ছবি দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন তাঁর কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ও পাঁচটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

পাঁচ বছর আগের অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের মিল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—তখন যে কৌশল পুলিশের নজরে এসেছিল, সেটিই কি পরে আরও বিস্তৃত আকারে ব্যবহৃত হয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা দরকার।
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। যে তরুণীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, তিনি বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। কিন্তু এরপরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযোগটি কীভাবে তদন্ত করা হয়েছিল, কত দূর এগিয়েছিল এবং কেন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হয়ে যায় না। কোন কোন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো কোন মুঠোফোন বা নম্বর থেকে পরিচালিত হয়েছে, একই ব্যক্তি নাকি একাধিক ব্যক্তি এগুলো চালিয়েছে, একই আইপি ঠিকানা বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা দরকার।

ভিডিয়োগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনটি পুরোনো, কোনটি সম্পাদিত, কোনটির উৎস কী, কিংবা কোথাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়েছে কি না—এসবের উত্তর মিলবে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষায়।
বাংলাদেশ সাইবার এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিবিদ রিদুয়ান হৃদয় বলেছেন, ভিডিয়ো কলের সত্যতা যাচাই করতে মেটাডেটা, ভিডিয়োর উৎস এবং ব্যবহৃত যন্ত্র ও অ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ এ ঘটনায় অনুমান নয়, ডিজিটাল প্রমাণই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি।

হাসিব আজিজ তাঁর সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নারী মনে করেই সম্পর্ক গড়েছিলেন। পরে পরিচয় ভুয়া জানতে পেরে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেন। তবে তাঁকে দিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করানো হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন।

অন্যদিকে জুবাইরুল হক জিয়ান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো ভুয়া পরিচয় বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন।

দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই তদন্তের গুরুত্ব স্পষ্ট। কে কী বললেন, শুধু তা দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। মুঠোফোন, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, কথোপকথন, ভিডিয়ো, অর্থ লেনদেন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

হাসিব আজিজ এপিবিএনে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম ছাড়ার পর একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বলে জানা গেছে। সেই অনুসন্ধানেই প্রায় এক দশক ধরে চলা এই প্রতারণাচক্রের বিস্তৃত তথ্য বেরিয়ে আসার দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি সত্য হলে প্রশ্ন আরও বড়—এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র কীভাবে সক্রিয় থাকতে পারল?

সিএমপির বর্তমান কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। অভিযোগের একটি অংশ যেহেতু পুলিশের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে, তাই তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে প্রয়োজনে পুলিশের বাইরের কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তদন্ত এমন হওয়া উচিত, যাতে অভিযোগকারী, অভিযুক্ত এবং সাধারণ মানুষ—সব পক্ষই ফলাফলের ওপর আস্থা রাখতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে একটি ছবি আর পরিচয়ের নিশ্চয়তা নয়। একটি কণ্ঠস্বরও সব সময় সত্যিকারের কণ্ঠস্বর নয়। এমনকি ভিডিয়ো কলও এখন আর সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। প্রযুক্তি যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি অপরাধের ধরনও বদলে দিয়েছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েই বদলাতে হবে তদন্তের পদ্ধতি, নিরাপত্তার কৌশল এবং ব্যক্তিগত সতর্কতাও।

বিশেষ করে পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন আরও বেশি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কাছে পৌঁছে যেতে পারেন, তাহলে সেটি আর ব্যক্তিগত দুর্বলতার বিষয় থাকে না; তা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রামের এ ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা তদন্তই বলবে। অভিযোগের কোনো অংশ সত্য হতে পারে, আবার কোনো অংশের ভিন্ন ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। তাই আগেভাগে কাউকে অপরাধী বানানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি গুরুতর অভিযোগকে উপেক্ষা করাও ঠিক হবে না। প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত।

একটি মিথ্যা পরিচয় হয়তো শুরু হয়েছিল একটি ফেসবুক ছবির আড়ালে। তারপর সেই ছবি বদলে গেছে পরিচয়ে, পরিচয় থেকে সম্পর্কে, সম্পর্ক থেকে আস্থায়। আর অভিযোগ সত্য হলে সেই আস্থা পৌঁছে গেছে ক্ষমতার দরজা পর্যন্ত। এখন তদন্তের কাজ শুধু মুখোশ খুলে দেওয়া নয়; দেখতে হবে, মুখোশের আড়ালে আর কেউ ছিল কি না। কে দিয়েছিল সাহস, কারা তৈরি করে দিয়েছিল সুযোগ, কেন এত দিন ধরে সন্দেহের এই ছায়া কাটেনি—এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে একটি প্রতারণার তদন্ত শেষ হলেও আসল গল্প শেষ হবে না। কারণ তখন প্রশ্নটি শুধু প্রতারক কে—এতটুকু নয়; বড় প্রশ্ন হবে, ক্ষমতার দরজায় একটি ভুয়া পরিচয় পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে, আর সেই দরজাটি এত দিন খোলা ছিল কেন?

লেখক: সভাপতি, সেভ দ্য রিভার্স বাংলাদেশ সোসাইটি, চট্টগ্রাম।
 

রিটেলেড নিউজ

অভিষেক বড়ুয়া গোল্ডেন A+ পাওয়ায় অভিনন্দন

অভিষেক বড়ুয়া গোল্ডেন A+ পাওয়ায় অভিনন্দন

আমাদের ডেস্ক : : লায়ন বিদর্শন বড়ুয়া ও ডা. শান্তা বড়ুয়ার পুত্র অভিষেক বড়ুয়া চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০...বিস্তারিত


১২ লাখ খাতা, ১৯ কোটি টাকা: কাঠগড়ায় কি মূল্যায়নব্যবস্থা?

১২ লাখ খাতা, ১৯ কোটি টাকা: কাঠগড়ায় কি মূল্যায়নব্যবস্থা?

আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর একই সঙ্গে দেখা যায় দুই ধরনের দৃশ্য। কোথাও আনন্দ, কোথাও হতাশা। কারও হাতে কাঙ্ক্ষিত ফ...বিস্তারিত


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এআই নির্ভর 'অটো ফাইন সিস্টেম'

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এআই নির্ভর 'অটো ফাইন সিস্টেম'

নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইওয়ে পুলিশ সর্বাধুনিক এআই (Artificial Intelligence- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চা...বিস্তারিত


আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : : "রাসুল (সা.)-এর সীরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব ...বিস্তারিত


চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচার, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচার, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

আমাদের ডেস্ক : : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে যাচাই-বাছাইহীন ও অসত্য তথ্যনির্ভ...বিস্তারিত


অকাল প্রয়াত দুইজন শিক্ষার্থীর স্মরণে চুয়েটে শোক সভা অনুষ্ঠিত

অকাল প্রয়াত দুইজন শিক্ষার্থীর স্মরণে চুয়েটে শোক সভা অনুষ্ঠিত

রাউজান প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)—এর ২০২৪ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত


ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে পশ্চিমাদের আবারও রাশিয়ার হুশিয়ারি

ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে পশ্চিমাদের আবারও রাশিয়ার হুশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : রাশিয়ার মাটিতে আঘাত হানতে পারে— এমন সব অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে হু...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর