শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৮:১৯ পিএম, ২০২৬-০৮-১৯
ফল প্রকাশের পর একই সঙ্গে দেখা যায় দুই ধরনের দৃশ্য। কোথাও আনন্দ, কোথাও হতাশা। কারও হাতে কাঙ্ক্ষিত ফল, আবার কারও চোখে প্রশ্ন—‘এমন ফল হলো কেন?’ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার লাখো শিক্ষার্থী ছুটেছেন পুনর্নিরীক্ষণের পথে। কিন্তু সেই পথ এবার শুধু শিক্ষার্থীদের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না; প্রশ্ন উঠছে আমাদের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা, মূল্যায়নের মান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্রের আবেদন করেছেন। প্রতি পত্রে ১৫০ টাকা করে মোট আবেদন ফি দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। এটি সরকারের নিট আয় নয়—মোট আবেদন ফি-এর হিসাব। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর কাছে ১৫০ টাকা কেবল একটি সংখ্যা নয়। অনেক পরিবারের জন্য এটি বাড়তি ব্যয়। সেই টাকা দিয়ে শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট প্রত্যাশাই করেছেন—তার ফল যথাযথভাবে যাচাই হবে।
এখানেই মূল প্রশ্নটি সামনে আসে—১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়ার পর যদি বলা হয়, এতগুলো খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা কঠিন, তাহলে আবেদন নেওয়ার আগেই কি বিষয়টি বিবেচনায় ছিল?
আবেদন নেওয়ার আগে সক্ষমতার হিসাব কোথায়?
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনও নেওয়া হয়েছে। পরে দেখা গেল, আবেদনকারীর সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে এবং উত্তরপত্রের সংখ্যা ১২ লাখের বেশি।
এত বিপুলসংখ্যক খাতা দেখা যে বড় ধরনের প্রশাসনিক কাজ—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। প্রয়োজন পরীক্ষক, সময়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যথাযথ তদারকি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব হিসাব কি আবেদন গ্রহণের আগেই করা হয়েছিল?
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। কোন ধরনের খাতা কীভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা করার কথাও তিনি বলেছেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তবতা আছে। কিন্তু প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার দায় তো শিক্ষার্থীদের নয়। তারা যে নিয়মে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন, সেই নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন এবং নির্ধারিত ফি দিয়েছেন।
তাই পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে তার দায় আবেদনকারীর ওপর চাপানো যুক্তিসংগত হতে পারে না।
১২ লাখ আবেদন মানেই ১২ লাখ ভুল নয়
এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে বলেই এতগুলো খাতায় ভুল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
পাস করা শিক্ষার্থীও কাঙ্ক্ষিত নম্বর বা গ্রেড না পেলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীও নিজের ফল নিয়ে সন্দেহ থেকে আবেদন করতে পারেন। আবার এবার পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আবেদনের সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।
তাই আবেদনের সংখ্যা দিয়ে একদিকে পুরো মূল্যায়নব্যবস্থাকে ব্যর্থ বলা যেমন ঠিক নয়, অন্যদিকে এত বড় সংখ্যাকে শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক প্রত্যাশা বলে উড়িয়ে দেওয়াও উচিত নয়।
আসল উত্তর মিলবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর।
আসল পরীক্ষা তখনই
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সময় শুধু ‘কতজনের ফল পরিবর্তন হলো’—এটুকু জানালে চলবে না। জানতে হবে, পরিবর্তনটা কোথায় এবং কতটা হয়েছে।
কতটি উত্তরপত্রে নম্বর অপরিবর্তিত থাকল?
কতটিতে নম্বর বাড়ল?
কতটিতে কমল?
কতজন অকৃতকার্য থেকে পাস করলেন?
কতজনের গ্রেড পরিবর্তিত হলো?
কতজন নতুন করে জিপিএ-৫ পেলেন?
কোন বোর্ডে পরিবর্তনের হার বেশি? কোন বিষয়ে বেশি?
এই তথ্যগুলো সামনে এলে বোঝা যাবে, এবারের বিপুলসংখ্যক আবেদন আসলে কী বলছে।
যদি দেখা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, তাহলে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়নের নির্দেশনা, খাতা দেখার সময় এবং তদারকি—সবকিছু নতুন করে ভাবতে হবে।
অন্যদিকে, যদি পরিবর্তনের হার খুব কম হয়, তাহলে প্রশ্নটি অন্য জায়গায় যাবে—এত শিক্ষার্থী কেন মনে করলেন, তাদের ফল আবার দেখা দরকার?
সেই প্রশ্নের উত্তরও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
প্রায় ১৯ কোটি টাকা: টাকার হিসাবের বাইরেও প্রশ্ন আছে
১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি পত্রের বিপরীতে ১৫০ টাকা করে মোট আবেদন ফি ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা।
এটি নিট সরকারি আয় নয়। আবেদন গ্রহণ, তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং ফল প্রকাশের মতো কাজে ব্যয় রয়েছে। তাই পুরো অর্থকে সরকারের আয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের দিক থেকে বিষয়টি ভিন্ন।
তারা একটি নির্দিষ্ট সেবা পাওয়ার জন্য অর্থ দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইতে পারেন—
সব আবেদন কি একইভাবে যাচাই করা হবে?
যদি না হয়, তাহলে কোন মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?
কোনো আবেদন পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের আওতায় না এলে তার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আবেদন ফি বাবদ পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় হলো, তার কোনো হিসাব কি প্রকাশ করা হবে?
এখনই বলা যাবে না যে শিক্ষার্থীদের টাকা ‘বিফলে যাবে’। কারণ কর্তৃপক্ষ কীভাবে আবেদন নিষ্পত্তি করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো সামনে আসেনি। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—সেবার ধরন বা পরিধিতে পরিবর্তন এলে তার কারণ শিক্ষার্থীদের জানানো দরকার।
এটি কেবল প্রশাসনিক সৌজন্য নয়; জবাবদিহিরও অংশ।
মন্ত্রীর বক্তব্যে আরেকটি সম্ভাবনা: শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তিনি বলেছেন, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের খাতা দেখার মানও যাচাই করা সম্ভব হবে। কোথাও অস্বাভাবিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখা যেতে পারে।
এই বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার মতো।
কারণ একজন শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হতে পারে। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খুঁজে বের করা না গেলে একই সমস্যা আবারও দেখা দিতে পারে।
ধরা যাক, পুনর্নিরীক্ষণে অনেক খাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া গেল। তাহলে প্রশ্ন উঠবে—মূল্যায়নের সময় কোথায় ঘাটতি ছিল?
আবার পরিবর্তন যদি খুব কম হয়, তাহলে জানতে হবে—ফল নিয়ে এত শিক্ষার্থীর মধ্যে সংশয় তৈরি হলো কেন?
অর্থাৎ যে ফলই আসুক, শিক্ষা প্রশাসনের জন্য সেখানে একটি শিক্ষা থাকবে।
নতুন নীতিমালা এখন সময়ের দাবি: এবারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের নিয়ম আরও পরিষ্কার করা দরকার।
কোন ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়ন হবে, কোন ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ বা তথ্য যাচাই করা হবে, কীভাবে পরীক্ষক নির্বাচন করা হবে এবং কত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে—এসব বিষয় আগে থেকেই স্পষ্ট থাকা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আবেদন নেওয়ার পর যেন আর বলতে না হয়—‘এত খাতা দেখা সম্ভব নয়।’
প্রশাসনের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে, নাকি প্রক্রিয়া চালু করার পর সক্ষমতা খোঁজা হবে—এই জায়গায় এবার শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে নতুন নীতিমালা তৈরির সময় এবারের আবেদনকারীদের ন্যায্য প্রত্যাশার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। তারা যে নিয়মে আবেদন করেছেন, সেই নিয়মের ওপর আস্থা রেখেই অর্থ দিয়েছেন।
এখন দরকার স্বচ্ছতা: পুনর্নিরীক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় স্বচ্ছতা।
ফল প্রকাশের সময় শুধু পরিবর্তিত ফলের সংখ্যা প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। বোর্ডভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা উচিত। কতটি খাতা অপরিবর্তিত রয়েছে, কতটিতে নম্বর বেড়েছে বা কমেছে, কতজন অকৃতকার্য থেকে পাস করেছেন, কতজনের গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে—এসব তথ্য জনসমক্ষে এলে পুরো চিত্রটি পরিষ্কার হবে।
কোনো পরীক্ষক বা কোনো বিষয়ে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রবণতা পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
কারণ পুনর্নিরীক্ষণকে যদি শুধু ফল পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর বড় সুযোগটি নষ্ট হবে। এটি একই সঙ্গে মূল্যায়নব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার একটি সুযোগ।
শেষ কথা: একটি ফলাফলের পেছনে থাকে একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিবারের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য পরিকল্পনা। তাই একটি নম্বর কখনো কখনো নিছক একটি সংখ্যা থাকে না—সেটি হয়ে ওঠে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে প্রবেশের দরজা। এবার সেই নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী; পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় এসেছে ১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র। সঙ্গে জড়িত হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকার আবেদন ফি। এত বড় একটি ঘটনা তাই শুধু খাতা দেখা বা ফল সংশোধনের প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি আয়না ধরেছে—সেই আয়নায় আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চূড়ান্ত উত্তর অবশ্য এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।
রায় দেবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল।
যদি বিপুলসংখ্যক খাতায় নম্বর পরিবর্তন হয়, তাহলে মূল্যায়নব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আর দেরি করার সুযোগ থাকবে না। আর যদি পরিবর্তনের হার খুব কম হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এত বড় মাত্রায় পুনর্নিরীক্ষণের আগ্রহ তৈরি হওয়ার কারণ খুঁজতে হবে।
একটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার দায় যেন শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে।
প্রায় ১৯ কোটি টাকার আবেদন ফি তাই কেবল অর্থের হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ এবং একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা।
তাই এবার শুধু খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করলেই হবে না। পুনর্নিরীক্ষণ হোক পুরো মূল্যায়নব্যবস্থারও।
কারণ ভুল একটি ফল একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; কিন্তু মূল্যায়নব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হলে তার ক্ষতি বহুদূর পর্যন্ত যায়।
লেখক : সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও রাজনীতিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইওয়ে পুলিশ সর্বাধুনিক এআই (Artificial Intelligence- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চা...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : "রাসুল (সা.)-এর সীরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে যাচাই-বাছাইহীন ও অসত্য তথ্যনির্ভ...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)—এর ২০২৪ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : নিজের ফেসবুক একাউন্টের বায়ো ক্যাপশনে যখন লিখছিলেন, আমার মরণে যদি আপনার অশ্রু না গড়ায়, তবে আমার জন্...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো এক সকালে অফিসের দরজা খুলে দেখা গেল—বছরের পর বছর নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা মানুষ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited