শিরোনাম
এস এম সালাহউদ্দিন, আনোয়ারা | ০৭:০৩ পিএম, ২০২৬-০৫-১৬
আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ভূমিসেবা কেন্দ্রিক ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নামজারি, ডিসিআর ও মিচ মামলার নামে উপজেলা ভূমি অফিসে অবাধে চলে ঘুষ বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্বকালেই উপজেলা ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে গিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের সীমাহীন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দলিলে আরএস দাগ বা ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরোনো দলিল হলে নামজারি আবেদন খারিজ করে দিচ্ছেন এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরা। তবে আমাদের অনুসন্ধানে বর্তমান এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরার দায়িত্বকালে ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতেও একাধিক নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। এমন চারটি নামজারির খতিয়ানের কপি এ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
নামজারি খতিয়ানগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত অক্টোবর, নভেম্বর মাসে ১৯৭৪ সালের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতে প্রায় ১ মাসের মধ্যেই নামজারির অনুমোদন দিয়েছেন এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরা। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এ নামজারি অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে আরএস দাগ বা ১৯৭৪, ১৯৯৬ সালের পুরোনো দলিলগুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে নামজারি আবেদন খারিজ করে দিচ্ছে।
এছাড়াও কম টাকায় মিউটেশন থেকে মিউটেশন ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা জানান, বাড়তি টাকা ছাড়া হয় না কোন কাজ। প্রতি ধাপে ধাপে ঘুষ দিতে হয় সেবা প্রার্থীদের। টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকার পরও দালাল বা অতিরিক্ত টাকা ছাড়া ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ঘুষদাতাদের আবেদন অল্প সময়েই ম্যাজিকের মতো অনুমোদন পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন জানান, আমাদের ৮০ সালের দলিল নামজারি করাচ্ছে না সম্ভব না বলে। ৫০ হাজার টাকা লাগবে নাকি ৮০ সালের দলিল।
ভুক্তভোগী শেখ কপিল উদ্দিন জানান, আমি নামজারির জন্য দলিল দিয়েছি ৭৭ ইংরেজির। ১১ মাস হয়ে গেছে। ভূমি কর্মকর্তারা বলছেন হবে না। কেন জানতে চাইলে বলতেছে, স্যার পুরাতন দলিলের কাজ করবে না। কেন করবে না আমরা জানি না। সাধারণ মানুষ এভাবে আর কত হয়রানির শিকার হবে?
ভুক্তভোগী আবদুল করিম প্রশ্ন তুলে বলেন, একই ভূমি অফিসে দুই ধরনের নিয়ম কেন হবে? সাধারণ মানুষ নিজে ফাইল জমা দিতে গেলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। অথচ একই ফাইল দালালের মাধ্যমে জমা দিলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। যদি সত্যিই ফাইলে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকে, তাহলে দালালের মাধ্যমেও তো সেই সমস্যা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দালালের মাধ্যমে কাজ করলেই যেন সব সমস্যা ম্যাজিকের মতো দূর হয়ে যায়। ফাইল দ্রুত গ্রহণ করা হয় এবং কাজও অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী রাশেদুল হক জানান, আমাদের কয়েকটি দলিল এসিল্যান্ড নামজারি করে নাই আরএস বলে। ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, আরএস দাগ থাকায় আমার নামজারি সম্ভব নয় বলে বাতিল করে দিয়েছে। আরএস দাগ থাকা বা পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে যদি নামজারি না করার নিয়ম থাকে, তাহলে তা সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
একই ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কারও ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে পুরোনো দলিলেও নামজারি করে দেওয়া হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে টাকা না দিলে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে এসিল্যান্ডের দ্বিমুখী আচরণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এভাবে ঘুরিয়ে, প্যাঁচিয়ে হয়রানি না করে যদি সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হতো যে ঘুষ ছাড়া নামজারি হবে না, তাহলে মানুষ অন্তত স্পষ্টভাবে বুঝতে পারত। এ ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যমূলক আচরণে আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছি।
ভুক্তভোগী নাজমুল হাসান জানান, ভূমি অফিসে গেলে মনে হয় সব নিয়ম শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা দালালদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নিয়ম আছে। চোখের সামনে দালালরা ফাইল নিয়ে আসা-যাওয়া করছে এবং তাদের ফাইলে কোনো ধরনের সমস্যা ধরা পড়ছে না। আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ফাইলগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল বের করা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বারবার ফেরত দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমকর্মী রুপন দত্ত জানান, জুঁইদণ্ডী মৌজার একটি হিস্যা সংশোধনের জন্য এক অসহায় দরিদ্র মাদ্রাসার বাবুর্চি গত ৪/৫ মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। লোকটি রায়পুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় কাজ করেন এবং অনেক সময় অফিসে আসার ভাড়ার টাকাও থাকে না। মানবিক কারণে আমি নিজেও কয়েকবার সহযোগিতা করেছি এবং বারবার অনুরোধ করেছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) দীপক ত্রিপুরা উক্ত প্রতিবেদকে ব্লক করে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভূমি অফিসের দূর্ণীতি ও অনিয়ম প্রচার হওয়ার পর কিছু নামধারী সাংবাদিক ও দালাল চক্র মিলে এসিল্যান্ডের পক্ষ নিয়ে নিউজ ও কমেন্ট করতে থাকে। সে সমস্ত নামধারী দালাল সাংবাদিকদের ছবিসহ প্রকাশ করা হবে পরবর্তী প্রতিবেদনে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরাকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে পরদিন ১৩ জানুয়ারি সেই বদলির প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে তাকে পুনরায় আনোয়ারায় বহাল রাখা হয় বলে জানা গেছে।
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : দেশ রক্ষায় যুবদলকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকà...বিস্তারিত
বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি : রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্à...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম.মোস্তাঈন বিল্লাহ: দুর্গম পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দ...বিস্তারিত
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited