শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:১১ পিএম, ২০২৫-১২-০১
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি সেন্টারে (এআরটি) প্রতিদিনই থাকে রোগীর আনাগোনা। বাইরে বসে থাকা অনেকেই মুখ ঢেকে রাখেন, কেউবা পরিচিতরা দেখে ফেলার ভয়ে মুখ গুঁজেন মোবাইলের স্ক্রিনে। এই এআরটি সেন্টার নীরবে দেখছে মানুষের জীবনের বদলে যাওয়া গল্পগুলো। চমেক হাসপাতালে গত এক বছরে (২০২৪ নভেম্বর থেকে ২০২৫ অক্টোবর) ৩ হাজার ৭৬৬ জন এইচআইভি পরীক্ষা করেছেন। সেই ভিড়ের মধ্যে ৭৫ জনের হাতে এসেছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন খবরটি-‘পজিটিভ’। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়। এগুলো এককেটি গল্প-অজান্তে ভুল পথে হাঁটা মানুষের গল্প, প্রতারিত নারীর গল্প, বিদেশে কাজ করতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়া শ্রমিকের গল্প, আর দেরিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে না ফেরার পথে চলে যাওয়া মানুষদের গল্প। পজিটিভ ৭৫ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর বাইরে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। আক্রান্তের মধ্যে সাধারণ বা বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের শিকার ২৬ জন, বিদেশ ফেরত শ্রমিক ২০ জন, সমকামিতার কারণে সংক্রমিত ১৫ জন, সঙ্গীর মাধ্যমে সংক্রমিত ১২ জন, জন্মগতভাবে সংক্রমিত ১ জন এবং পুরুষ যৌনকর্মী ১ জন। এছাড়া গত এক বছরে এইডস রোগে মারা গেছেন ১৩ জন। ৭৫ জনের মধ্যে ৫৩ জনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। বাকি ২২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে এইডস শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। ২০২৩ সালে রোগী ছিল ৫৮ জন এবং মারা যান ২৭ জন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদের মধ্যে মাইগ্র্যান্ট রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তারা সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরেন অসুস্থ হয়ে। এবছর ২০ জন বিদেশফেরত রোগী পজিটিভ হয়েছেন। স্বামীর মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমিত হওয়া এক রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বামী বিদেশ থেকে এসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ছিলেন অসুস্থ। পরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার পর এইচআইভি টেস্ট করা হলে পজিটিভ আসে। এর দুইদিন পরই তিনি মারা যান। পরে তিনি ও তার সন্তান টেস্ট করলে তার পজিটিভ আসে এবং সন্তানের নেগেটিভ আসে। তিনি বলেন, প্রবাসী কেউ বিয়ে করতে চাইলে অবশ্যই তার এইচআইভি টেস্ট করা জরুরি। এতে অন্যের জীবনটা হলেও বাঁচবে। এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর সুমন জানান, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আমরা চেষ্টা করি রোগীকে কাউন্সিলিং করতে। এইডস আক্রান্ত একজনকে দিয়ে বিভিন্ন বিষয় বোঝানো হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এইচআইভি মানে এখন আর মৃত্যু নয়; নিয়মিত ওষুধ খেলে মানুষ পুরো জীবন স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারে। কিন্তু ভয় এবং সামাজিক কারণে অনেকে পরীক্ষা করাতেই চান না। ফলে দেরিতে ধরা পড়ে রোগ, তখন চিকিৎসা শুরু করলেও লাভ হয় না। এই দেরিই তৈরি করছে মৃত্যুর সংখ্যা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, সমকামিতাএকটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অবাক করা বিষয়, এটিকে কেউ অপরাধ মনে করছে না। যা এইচআইভি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা জরুরি। যদি কেউ আক্রান্ত হয়ে যায়, এর জন্য সরকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে রোগীকে মোটিভেশন করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, চমেক হাসপাতাল থেকে এইডস রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীরা নির্দিষ্ট দিনে এসে তিন মাসের জন্য ওষুধ নিয়ে যান। পাশাপাশি তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের আমরা স্পেস দিতে চাই না। যারা সিন্ডিকেট করে প...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যাপশন: কদম মোবারক মুসলিম এতিমাখানার নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ (২০২৬ - ২০২৯) এর অভিষেক ও ইফতার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা ব...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর ক...বিস্তারিত
রিপোর্টার : চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় ব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার কাজে সহায়তা করায় মো. জুয়েল মিয়া (৩৪) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited