শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:৪২ পিএম, ২০২৬-০২-০৭
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই স্থবিরতা দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ জানায়, কাজ বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার কনটেইনার আটকে আছে এবং রপ্তানির নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করে এবং এটি রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। স্বাভাবিক সময়ে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অচলাবস্থার কারণে কনটেইনার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে বন্দরের টার্মিনাল, বেসরকারি ডিপো ও জাহাজে আটকে থাকা প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে আনুমানিক ৬৬ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য আটকে আছে। ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ বলেছে, নিরবচ্ছিন্ন, পূর্বানুমানযোগ্য ও দক্ষ বন্দর কার্যক্রম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে এবং ইউরোপ ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুনাম বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে— বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও সময়মতো ডেলিভারির বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দরের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত নিশ্চিত করা, জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে চলমান বিরোধগুলো গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতাশীলতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন কার্যক্রম জোরদার করা। ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ আরও জানিয়েছে, তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যৎমুখী বন্দর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। ইউরোচ্যামের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা দেশটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি সম্প্রতি ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ও লাউঞ্জ ভবন, পুরাতন কলা অনুষদ এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ৬ সিটিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পরিবর্তে অ্যাডভোকেট আমি...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্য...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : মাহবুবুল মাওলা রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি) : সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল নি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited