শিরোনাম
টেকনাফ প্রতিনিধি : | ০৫:১৮ পিএম, ২০২৫-০৮-২৮
এম এ হাসান
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ ও কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা না দেওয়ার কারণে ফলনে ভরপুর সুপারির বাগানগুলো। বাজারে সুপারির দাম আশাতীতের চেও ভাল হওয়ায় চাষীরাও খুঁশি। তবে বাজার মূল্য কম হওয়ায় চাষীরা হতাশা প্রকাশ করেন।
কৃষকদের যত্ন:
“অনেক কৃষক শুকনো মৌসুমে সুপারি গাছে সার সেচ দিয়েছিলেন, যা ভালো ফলনে সাহায্য করেছে অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে”।
বাণিজ্য ও বাজার:
'টেকনাফের শামলাপুর বাজার, জাহাজপুরা বাজার, এবং টেকনাফ বাজারের মতো স্থানগুলো থেকে সুপারি দেশের বিভিন্ন আড়তে চালান হয়। এবারের বাম্পার ফলনের কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সুপারি ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন'।
গুরুত্ব:
টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার প্রধান আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে সুপারি অন্যতম একটি অর্থকরী ফসল। সুপারি চাষ করে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে।
সাপ্তাহিক বাজার:
সাপ্তাহিক দুই দিন হাট-বাজার থেকে প্রায় ১০ টন ওজনের ২/৩ টি ট্রাক সুপারি দেশের বিভিন্ন আড়ঁতে যায়।উপজেলার বাহারছড়া শিলখালীর চাষি সৈয়দ হোসেন বলেন, এক কানি (৪০ শতক) জমিতে সৃজিত ৪৫৮ টি গাছে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে সুপারি ধরেছে ৪'শ থেকে ৫'শটি। গত মৌসুমে সুপারির বাজারমূল্য থাকায় এই বাগান থেকেই প্রায় ৩ লাখ টাকার সুপারি বিক্রির মাধ্যমে আয় করা সম্ভব হয়েছিল। এ বছরেও তা দাম পাব বলে আশা রাখছি।
সূত্রমতে, আদিকাল থেকেই জেলার টেকনাফ-উখিয়ার সুপারির বেশ কদর রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে টেকনাফের সুপারির সঙ্গে মহেশখালীর পান নিয়ে লোকগানও রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত শহরে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল সুপারির বাগান। পাশাপাশি কম-বেশি সুপারি বাগান রয়েছে জেলার প্রতিটি উপজেলায়।
অতিথি আপ্যায়ন:
কক্সবাজারের প্রায় এলাকায় পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের রীতি চলমান। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমেই একসঙ্গে নামে পাকা সুপারি। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে টেকনাফ-উখিয়াসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় জমে উঠেছে সুপারির হাট। প্রথম দিকে দাম আকাশচুম্বী হওয়াতে চাষিদের মূখে হাসি ফুটেছে। মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত এভাবে বাজারমূল্য থাকলে গ্রামের চাষীরা অনেক লাভবান হবে জানিয়েছেন।
হাট-বাজার:
কক্সবাজারে সাধারণত বিভিন্ন হাট-বাজারে সুপারি বেচা-কেনা হয়। তবে জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারী হাট টেকনাফ বাহারছড়ার শামলাপুর বাজার, সাবরাং বাজার, উখিয়ার সোনার পাড়া বাজার, মরিচ্যা বাজার, কোটবাজার এবং রামু বাজার। টেকনাফ শামলাপুর বাজার সাপ্তাহে দুই দিন শনি ও মঙ্গলবার পাইকারী বাজার বসে। এ বাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে সুপারি কিনে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়।
সুপারী ব্যবসায়ী:
সুপারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ও পৌর বাজারের মো: আলম জানান, টেকনাফ উপকূলীয় গ্রামের শামলাপুর বাজার, জাহাজপুরা বাজার ও টেকনাফ উপরের বাজার। পাশাপাশি উখিয়া সদর, সোনাপাড়া বাজার, মরিচ্যা বাজার, কোর্টবাজার থেকে সুপারি দেশের বিভিন্ন আড়ঁতে চালান হয়। ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে যেমন সুপারি বাগান মালিকেরা তাদের উৎপাদিত অর্থকারী ফসল সুপারি বাজারজাত করণের মাধ্যমে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসতে পারে বলে সুপারি ব্যবসায়ীদের অভিমত। টেকনাফ উপজেলার পান-সুপারি উৎপাদনের অন্যতম ইউনিয়ন বাহারছড়া শামলাপুর বাজার ঘুরে সুপারি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি শনি ও মঙ্গলবার শামলাপুর বাজার বসে। এ বাজারে অর্থকারী ফসলের মধ্যে পান-সুপারি লেনদেন অন্যতম।
সুপারির মৌসুম:
মৌসুমে উপজেলার শতাধিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন স্থানে সুপারি বেচা কেনা হয়। চাষিদের কাছ থেকে সুপারি কিনে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে সেগুলো বিক্রি করে থাকি। কাচা সুপারি রোদে শুকিয়ে সুপারির খোসা (খোলস) ফেলে দিয়ে প্রতি কেজি শুকনা সুপারি ৪শ থেকে ৫শ টাকা দরে বিক্রি করি। পাকা সুপারি বাজার থেকে কেনে পানিতে ৩ থেকে ৪ মাস রেখে দিয়ে (ভিজিয়ে) পরবর্তীতে সেগুলো বাজারে বিক্রি করি। পানিতে ভেজানো সুপারিকে স্থানীয় ভাষায় ভিজা সুপারি বলে। এই ভিজা সুপারির চাহিদা বেশি তাই দামও ভাল পাওয়া যায়।
স্থানীয় একচাষী জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে খরচ অনেক কম। চারা লাগানোর প্রথম ২-৩ বছর একটু কষ্ট করতে হয়। তখন ছোট চারা গরু ছাগলে খেয়ে ফেলার ভয় থাকে। প্রথম দিকে জমিতে স্বল্প পরিমাণ সারও দিতে হয়। ৫-৬ বছর পর গাছে ফল আসে। একবার ফল আসলে একাধারে অন্তত ২০ বছর ফল পাওয়া যায়। ফল আসার পরে তেমন কোন খরচ হয়না। প্রতিটা গাছ থেকে বছরে আকারভেদে ৩'শ থেকে ৫'শ পিস সুপারি পাওয়া যায়।
শামলাপুর ব্যবসায়ী:
ব্যাবসায়ী নুরুন্নবী জানান, স্থানীয় ভাবে ৮০ পিস সুপারিতে এক পন হয়। বর্তমান বাজারে প্রতি পন সুপারি ৩শ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে আমরা বিভিন্ন বাজার ও গ্রামের চাষিদের কাছ থেকে সুপারি কিনে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি এতে আমাদের লাভ ভাল হয়।
কৃষি কর্মকর্তা:
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানায়, উপজেলা থেকে যে পরিমাণ সুপারি উৎপাদন হয়, সেখান থেকে দেশের বাইরে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে যাচ্ছি। যে কোন চাষে কৃষকদের কারিগরী সহায়তার ও পরামর্শের জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়োজিত আছেন। অনেক সচেতন সুপারি বাগান মালিক শুকনো মৌসুমে গাছে সার ও সেচ দিয়েছেন। এজন্য এবারে সর্বত্রই সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited