শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৮:১৫ পিএম, ২০২৫-০৫-১৯
এস.এফ এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা বর্তমানে দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম। প্রত্যন্ত এই পাহাড়ি অঞ্চলের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকের আগমন, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
আলীকদমের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট:
আলী সুড়ঙ্গ:
আলীকদমের অন্যতম আকর্ষণ আলী সুড়ঙ্গ, একটি প্রাকৃতিক গুহা। এর ভেতরে ঢুকলে শীতল বাতাস এবং এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ অনুভব হয়। পাহাড়ের সবুজে মোড়া এই গুহা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি এক দারুণ অভিজ্ঞতার স্থান।
ভিউ পয়েন্ট:
আলীকদম ভিউ পয়েন্ট থেকে পুরো উপজেলাকে চোখের পলকে দেখা যায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য, পাহাড়ি হাওয়ায় মনোরম পরিবেশ – সব মিলিয়ে এটি একটি আদর্শ স্থান ফটোসেশন ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য। এটি করুকপাতা সড়কের ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
রূপ মুহুরী ঝর্ণা:
পোয়ামুহুরী এলাকায় অবস্থিত রূপ মুহুরী ঝর্ণা পাহাড়ি জলপ্রবাহের এক অপরূপ নিদর্শন। ঝর্ণার পানি পাহাড় বেয়ে নেমে আসে, চারপাশে ঘন বনভূমি ও প্রাকৃতিক গাছগাছালির ছায়া – যা প্রকৃতি প্রেমীদের এক স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়।
মারাইতং পাহাড়:
আলীকদমের অন্যতম উঁচু মারাইতং পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১,২২০ মিটার (প্রায় ৪,০০০ ফুট)। এই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় পায়ে হেঁটে। গভীর বন, পাহাড়ি গ্রাম ও বুনো প্রাণীতে ঘেরা এ অঞ্চল অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য চরম উত্তেজনাপূর্ণ এক স্থান।
আলীকদমের প্রধান ঝর্ণাসমূহ:
দামতুয়া ঝর্ণা: আদু ম্রো পাড়ায় অবস্থিত দ্বিখণ্ডিত ঝর্ণা। স্থানীয় ভাষায় ‘তুক অ’ নামে পরিচিত। বর্ষাকালে দৃষ্টিনন্দন রূপ ধারণ করে।
তিনাম ঝর্ণা: মাতামুহুরী নদীপথ হয়ে যাওয়া লাগে। দুটি ধারায় পানি পড়া এই ঝর্ণা চমৎকার দৃশ্য সৃষ্টি করে।
ওয়াং-পা ঝর্ণা: একাধিক স্তরে প্রবাহিত একটি কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ঝর্ণা।
থানকোয়াইন ঝর্ণা: উঁচু ধাপবিশিষ্ট জলপ্রপাত। দুর্গম জঙ্গলের মধ্যে ট্রেক করে যেতে হয়।
সাইংপ্রা ঝর্ণা: বহুধাপে গঠিত, বর্ষায় ভয়ংকর সুন্দর রূপ নেয়।
তুইনুম ঝর্ণা: কালচে পানির জন্য পরিচিত, ম্রো ভাষায় 'কালো পানি ঝর্ণা'।
নুনারঝিরি ঝর্ণা: হাইকিংপ্রিয়দের কাছে জনপ্রিয় ছোট কিন্তু চিরচলমান ঝর্ণা।
পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনা ও উন্নয়ন:
আলীকদমে পর্যটনের সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা খাত লাভবান হচ্ছে। গাইড, পরিবহন, হস্তশিল্প ও নানা সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পর্যটনের প্রসার আরও ত্বরান্বিত করবে।
আলীকদম উপজেলা এখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। প্রকৃতির বিশাল ভাণ্ডার, শান্ত পরিবেশ ও পাহাড়ি জনপদের বৈচিত্র্য এই এলাকাকে পর্যটকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে, আলীকদম হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited