শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০২:৩৫ পিএম, ২০২৬-০৯-১৪
এস. এফ. এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ
পাহাড়, নদী, ঝরনা, বন আর বৈচিত্র্যময় জনজীবন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবানের আলীকদম। পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই ছড়িয়ে আছে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে। মারাইংতং পাহাড়, ডিম পাহাড়, দামতুয়া ঝরনা ও আলীর সুড়ঙ্গ ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত। সরকারি তথ্যেও এসব স্থানকে আলীকদমের পর্যটন স্পট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যের কারণে আলীকদমে পর্যটন শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে স্থানীয় অর্থনীতির শক্তিতে রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো, নিরাপদ যোগাযোগ, দক্ষ গাইড, মানসম্মত আবাসন, পর্যটনবান্ধব সেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।
আকর্ষণের কেন্দ্রে মারাইংতং:
আলীকদমের পর্যটন পরিচিতি তৈরিতে মারাইংতং পাহাড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় ১,৬৪০ ফুট এবং এর চূড়া থেকে আশপাশের পাহাড়, মাতামুহুরি নদী ও জনপদের দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়টির সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসতিও পর্যটন অভিজ্ঞতায় বৈচিত্র্য যোগ করেছে।
বর্তমানে মারাইংতং পর্যটকদের কাছে পরিচিত একটি গন্তব্য। স্থানীয়ভাবে পর্যটনসেবা ঘিরে আবাসন ও রিসোর্টও গড়ে উঠেছে, যা পর্যটন অর্থনীতির বিকাশের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সেখানে রাতযাপন নিষিদ্ধ এবং দর্শনার্থীদের সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ভ্রমণ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থান ত্যাগ করতে হয়।
ডিম পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনা
আলীকদম-থানচি সড়কের ডিম পাহাড় অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আলীকদম-থানচি সড়কটি পাহাড়ের উচ্চভূমির মধ্য দিয়ে গেছে এবং ডিম পাহাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
এখানে পাহাড়ি সড়ক, মেঘ, সবুজ পাহাড় ও স্থানীয় জনজীবনকে কেন্দ্র করে অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের সুযোগ রয়েছে।
দামতুয়া ঝরনা ও নতুন গন্তব্য
দামতুয়া ঝরনা আলীকদমের অন্যতম পরিচিত প্রাকৃতিক আকর্ষণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আলীকদম থেকে সড়কপথে নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় পায়ে হেঁটে সেখানে যেতে হয়।
এ ধরনের দুর্গম গন্তব্য পর্যটকদের জন্য যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারে। গাইড, পরিবহন, খাবার, স্থানীয় পণ্য ও আবাসন বিভিন্ন খাতে পর্যটন ব্যয়ের একটি অংশ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরকারি একটি পর্যটন-সংক্রান্ত গবেষণায় আলীকদমে থাংকোয়াইন, ক্রা তাং, পালং খিয়াং, জামরুম, লাদমেরাক, তাহাই, কৃষ তাংসহ আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় জলপ্রপাত ও পাহাড়ি গন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই গবেষণায় এসব গন্তব্যকে উন্নয়নের জন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
ইতিহাস ও রহস্যের আকর্ষণ আলীর সুড়ঙ্গ:
আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে আলীর পাহাড়ে অবস্থিত কয়েকটি সুড়ঙ্গ স্থানীয় পর্যটনের আরেকটি আকর্ষণ। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা সেখানে ভ্রমণ করেন। ২০১২ সালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুড়ঙ্গ এলাকায় গোলঘর ও যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও লোককথাভিত্তিক স্থানগুলোকে সঠিক তথ্য, নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের সঙ্গে পর্যটনের আওতায় আনা গেলে আলীকদমের পর্যটন বৈচিত্র্য আরও বাড়তে পারে।
পর্যটনকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতির সুযোগ
পর্যটক বাড়লে শুধু হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসা নয়, স্থানীয় পরিবহন, রেস্তোরাঁ, চা-খাবারের দোকান, পর্যটন গাইড, নৌযান, জিপ ও মোটরসাইকেল পরিবহন, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে পর্যটন পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারি পর্যটন পরিকল্পনাসংক্রান্ত একটি নথিতেও আলীকদমকে পার্বত্য এলাকার পর্যটন উন্নয়নের একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে টেকসই ভূমি ব্যবহার, হাইকিং রুট, ক্যাম্পিং, স্থানীয় শিল্প-হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাটিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যোগাযোগ ও সেবার মান:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেই পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠে না। পর্যটকের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য তথ্য, দক্ষ স্থানীয় গাইড, মানসম্মত আবাসন, খাবার, মোবাইল নেটওয়ার্ক, জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিশেষ করে দুর্গম ঝরনা ও পাহাড়ি পথে পর্যটকদের জন্য প্রশিক্ষিত স্থানীয় গাইড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আলীকদম উপজেলা প্রশাসন ২০২৩ সালে প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইকৃত পর্যটন ট্যুর গাইডদের তালিকা প্রকাশ করেছিল।
এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরিচয়পত্র, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও পর্যটন আচরণবিধির আওতায় আনা যেতে পারে।
উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব:
পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপর চাপও বাড়তে পারে। পাহাড় কাটা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা, ঝরনা ও নদীর পানিদূষণ, অতিরিক্ত স্থাপনা এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
তাই আলীকদমের পর্যটন উন্নয়নে মূল নীতি হওয়া উচিত প্রকৃতিকে নষ্ট করে পর্যটন নয়, প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ।
নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ, পর্যটকের সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পাহাড়ি পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
লেখক: সহসভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। চট্টগ্রামের কোনো এক বাসাবাড়ির রান্নাঘরে চুলা জ্বলে উঠেছে। ঘুমজড়...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : কে এম আলী হাসান বর্তমানে ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি ও মোটা অংকের টাকা...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছর, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইন রামগড় পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জাতীয় সংসদে তুলেছেন বন ও জলবায়ু পরিব...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : দেশব্যাপী হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অভিয...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্র...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited