শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:২২ পিএম, ২০২৬-০৭-০৫
নগরের বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, আগ্রাবাদ ও কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি, বাজার ও ডাস্টবিনে প্রতিদিন দেখা মিলে এক ভিন্ন বাস্তবতার। মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও নানা ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন শত শত নারী-পুরুষ।
কারও হাতে বড় বস্তা, কারও কাঁধে ঝুড়ি-ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা খুঁজে বেড়ান পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য।
নগরের বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সংগ্রহ করা প্লাস্টিক আলাদা করে বাছাই করা হচ্ছে।
পানির বোতল, কোমল পানীয়ের বোতল, খাদ্যপণ্যের প্যাকেট ও বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত সামগ্রী শ্রেণিভেদে ভাগ করা হয়। এরপর সেগুলো বিক্রি হয় স্থানীয় আড়তে।
সেখান থেকে রিসাইক্লিং কারখানায় পাঠিয়ে ধোয়া, কুচি করা ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে তৈরি করা হয় প্লাস্টিক ফ্লেক্স ও প্লাস্টিক দানা (গ্র্যানুল), যা নতুন পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রিসাইক্লিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা জানান, দেশে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের বাজার ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে পিইটি বোতলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক থেকে তৈরি হচ্ছে বোতল, পাইপ, আসবাবপত্র, শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ফলে একসময় আবর্জনা হিসেবে বিবেচিত প্লাস্টিক এখন অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।
তবে এই সম্ভাবনার আড়ালে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা। বর্জ্য সংগ্রহকারীদের অধিকাংশই কাজ করেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সঙ্গে অনেক সময় মিশে থাকে চিকিৎসা বর্জ্য, পচনশীল আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ ও ধারালো বস্তু। ফলে তারা চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন। অনেকের কাছেই নেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম গ্লাভস, মাস্ক বা নিরাপত্তা জুতা।
বাকলিয়ার হালিমা বেগম নামের এক নারী বর্জ্য সংগ্রহকারী বলেন, ‘সারাদিন প্লাস্টিক কুড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে। কিন্তু ময়লার স্তূপে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি’।
পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের খাল, নালা, কর্ণফুলী নদী ও উপকূলীয় এলাকায় প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা। রিসাইক্লিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠায় পরিবেশে বর্জ্যের চাপ কমছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই খাতকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ চালু করা এবং আধুনিক রিসাইক্লিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে সরকারি তদারকি ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করতে হবে।
চট্টগ্রামের বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জীবনসংগ্রাম একদিকে দারিদ্র্যের গল্প, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষারও এক নীরব অবদান। শহরের মানুষ যে প্লাস্টিক ফেলে দেন, সেটিই তাদের হাতে হয়ে উঠছে জীবিকার উৎস এবং দেশের পুনর্ব্যবহার শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল। এই শ্রম ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited